কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজকে দলে নিয়েও বাদ দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং সাবেক বিসিবি পরিচালক আকরাম খান। একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে আলাপে তিনি এই ঘটনাকে মুস্তাফিজের প্রতি ‘অন্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, এর ফলে কেবল ক্রিকেটার নন, দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও বড় সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
দেশের বর্তমান ক্রিকেটীয় সংকট ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে নিজের খোলামেলা মতামত তুলে ধরেন এই আইসিসি ট্রফি জয়ী সাবেক অধিনায়ক।
মুস্তাফিজের কেকেআরে সুযোগ পাওয়া নিয়ে শুরুতে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন আকরাম, ‘আমি এই ঘটনায় খুবই অবাক হয়েছি। মুস্তাফিজ ৯ কোটি টাকার বেশি মূল্যে কেকেআরে খেলবে শুনে আমি এবং দেশের ৮০ শতাংশ সমর্থক অনেক খুশি হয়েছিলাম। কলকাতা বাঙালি প্রধান জায়গা, সেখানে সাকিব আগে খেলেছে এবং এটি শাহরুখ খানের দল। আমি নিজেও একটা ম্যাচও মিস না করার পরিকল্পনা করেছিলাম।
‘১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ভারত আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছিল। ভেবেছিলাম মুস্তাফিজের মাধ্যমে দুই দেশের বর্তমান দূরত্ব ঘুচে যাবে। কিন্তু তাকে বাদ দেওয়াটা তার প্রতি অন্যায়, কারণ ৯ কোটি টাকা অনেক বড় অংক।’
নিলামের আগে এনওসি বা প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়ে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের সাবেক প্রধান আকরাম জানান, সাধারণত বিসিসিআই ক্রিকেটারদের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হয়েই নিলামে অন্তর্ভুক্ত করে, ‘বিসিসিআই নিজেও এটি স্বীকার করেছে যে প্রক্রিয়া মেনেই সব হয়েছে।
তারা চাইলে বিকল্প খেলোয়াড় চাইতে পারত, কিন্তু মুস্তাফিজের মতো একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে এমন করাটা অনভিপ্রেত।’
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব ক্রিকেটে পড়ছে বলে মনে করেন সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে ভয় হয় ভারত হয়তো ভবিষ্যতে বাংলাদেশের খেলা তাদের দেশে আয়োজন করতে চাইবে না। কলকাতার তিনটি ভেন্যু নিয়েও আমি শঙ্কিত।’
আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আইসিসি ফিফার মতো অতটা শক্তিশালী নয় যে এসব ক্ষেত্রে কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে।
আমরা আশা করেছিলাম খেলাধুলার মাধ্যমে সম্পর্ক শীতল হবে, কিন্তু বর্তমানে দূরত্ব বাড়ছে। ইতিমধ্যে দ্বিপাক্ষিক সফরগুলো স্থগিত হয়েছে।’
বিদ্যমান সংকটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জোরালো ভূমিকা দেখতে চান আকরাম, ‘বিসিবির উচিত ছিল অনেক আগে থেকেই এসব বিষয়ে কাজ করা। এখন আমাদের নিজেদের কথাগুলো অনেক জোরালোভাবে বলতে হবে। ভারতকে ভয় পেয়ে পিছিয়ে থাকলে চলবে না, বরং সাহসের সাথে আমাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করতে হবে। আইসিসি চুপ থাকলেও আমাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় কথা বলতে হবে।’
ক্রীড়া ডেস্ক 

























