ঢাকা ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি রাজৈরে লিবিয়ায় নির্যাতনের পর নিহত সোহাগ মুন্সি পরিবারের থানায় অভিযোগ মোবাইল কোর্টের অভিযানে হেলমেট না পরায় ৫ মামলায় ৪ হাজার টাকা জরিমানা লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে নিয়ে মিলল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপি’র বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে: পবিপ্রবি উপাচার্য বর্তমানে পত্রিকার পাতায় গুম, খুন, ব্যাংক লুটের খবর নেই : পার্থ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মিলন রানীর পাশে উপজেলা প্রশাসন জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করলে আল্লাহ আমাদের ছেড়ে দেবেন না : ডা. শফিকুর রহমান

চার ইউনিয়নের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন ‘মৃত্যুফাঁদ’

নরসিংদী সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের বালুয়াঘাট বাজার এলাকার ব্রিজটি এখন চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের কাছে আতঙ্ক বা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ এই ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন করিমপুর, নজরপুর, আলোকবালী ও চরদিঘলদী ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

​সরেজমিনে বালুয়াঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজটির কঙ্কালসার অবস্থা। ব্রিজের দুই পাশের রেলিং অনেক আগেই ভেঙে পড়েছে। পাটাতনের বিভিন্ন অংশ ফেটে গেছে এবং অনেক জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের ওপর দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করলেই পুরো কাঠামোটি ভূমিকম্পের মতো কাঁপতে শুরু করে।

​ব্রিজের ঠিক পাশেই একটি মাদরাসা থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন হাজার যানবাহন এই নড়বড়ে ব্রিজের ওপর দিয়েই চলাচল করে।

অটোরিকশা চালক কামাল আতঙ্কের সুরে বলেন, গাড়ি নিয়া যখন ব্রিজে উঠি, মনে হয় এই বুঝি ভাইঙা পড়ল। জীবন হাতে নিয়া প্রতিদিন গাড়ি চালাই। অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এই চার ইউনিয়নের যোগাযোগ রক্ষার একমাত্র মাধ্যম এই ব্রিজ। এটা ভেঙে গেলে আমরা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব। বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

যোগাযোগ করা হলে নরসিংদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাই রাব্বি বলেন, সমস্যাটি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। ব্রিজটি সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যেই দরপত্র অনুমোদনের আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

​সচেতন মহলের মতে, শুধু জোড়াতালির সংস্কার নয়, জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে একটি টেকসই নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানি বা বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি

চার ইউনিয়নের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন ‘মৃত্যুফাঁদ’

আপডেট সময় ০৩:২৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

নরসিংদী সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের বালুয়াঘাট বাজার এলাকার ব্রিজটি এখন চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের কাছে আতঙ্ক বা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ এই ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন করিমপুর, নজরপুর, আলোকবালী ও চরদিঘলদী ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

​সরেজমিনে বালুয়াঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজটির কঙ্কালসার অবস্থা। ব্রিজের দুই পাশের রেলিং অনেক আগেই ভেঙে পড়েছে। পাটাতনের বিভিন্ন অংশ ফেটে গেছে এবং অনেক জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের ওপর দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করলেই পুরো কাঠামোটি ভূমিকম্পের মতো কাঁপতে শুরু করে।

​ব্রিজের ঠিক পাশেই একটি মাদরাসা থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন হাজার যানবাহন এই নড়বড়ে ব্রিজের ওপর দিয়েই চলাচল করে।

অটোরিকশা চালক কামাল আতঙ্কের সুরে বলেন, গাড়ি নিয়া যখন ব্রিজে উঠি, মনে হয় এই বুঝি ভাইঙা পড়ল। জীবন হাতে নিয়া প্রতিদিন গাড়ি চালাই। অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এই চার ইউনিয়নের যোগাযোগ রক্ষার একমাত্র মাধ্যম এই ব্রিজ। এটা ভেঙে গেলে আমরা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব। বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

যোগাযোগ করা হলে নরসিংদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাই রাব্বি বলেন, সমস্যাটি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। ব্রিজটি সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যেই দরপত্র অনুমোদনের আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

​সচেতন মহলের মতে, শুধু জোড়াতালির সংস্কার নয়, জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে একটি টেকসই নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানি বা বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।