ঢাকা বিভাগীয় সড়ক পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আবুল হাসনাত হুমায়ূন কবীর এবং ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করা হয়েছে।
সেগুনবাগিচায় অবস্থিত দুদকের গত ৯ ডিসেম্বর প্রধান কার্যালয়ে এ অভিযোগ দায়ের করেন আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা সুফি সাগর শামস।
অভিযোগে বলা হয়, ঢাকা বিভাগীয় সড়ক পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মহাপরিচালক মো. আবুল হাসনাত হুমায়ূন কবীর ও আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন পরস্পর যোগসাজশে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। খাদ্য অধিদপ্তরে ৮১৯টি নিবন্ধিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থাকলেও ব্যক্তিস্বার্থে মাত্র ৩০০টির মতো প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে ঘুষ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন কয়েকজন প্রভাবশালী ঠিকাদারের মাধ্যমে এই ঘুষ লেনদেন পরিচালনা করেন। অভিযুক্ত এজেন্ট হিসেবে আবুল কালাম আজাদ (জননী এন্টারপ্রাইজ), জাহাঙ্গীর আলম (সেতারা অ্যান্ড সন্স), আব্দুল হাই রাজু (এ. হাইএন্ড ব্রাদার্স), আনসার হাজী (তালুকদার এন্টারপ্রাইজ), আলী নূর (এ আর এন্টারপ্রাইজ) ও হারুন অর রশিদ (রিমি এন্টারপ্রাইজ)-এর নাম উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর ই-চালানের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৮১৯টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র ক্রয় করে। এ সময় ভালো দর নির্ধারণের প্রলোভন দেখিয়ে ঠিকাদারদের আর্থিক ও কারিগরি নথি নিজের হেফাজতে নেন সুরাইয়া খাতুন। দরপত্র জমার দিনে এসব নথি ফেরত না দিয়ে ঘুষ আদায় করা হয়। যারা ঘুষ দিয়েছেন, তাদের নথি কার্যকর রাখা হয় এবং যারা দেননি, তাদের নথি ব্লক করে বাদ দেওয়া হয়।
দুদকে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়, প্রায় ৪৬৭ জন ঠিকাদারের আর্থিক প্রস্তাবে ‘ক্রস মার্ক’ ও অস্বাভাবিকভাবে বেশি দর দেখা গেছে। বিপরীতে নির্বাচিত প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০টি প্রতিষ্ঠানের দর একই কলম, একই হস্তাক্ষর ও একই লেখনীর প্যাটার্নে লেখা, যা পূর্বনির্ধারিত দর নির্ধারণের প্রমাণ বলে অভিযোগকারীর দাবি।
এছাড়া, গত ২৪ অক্টোবর চিটাগাং রোডের তাজমহল কমিউনিটি সেন্টারে সাধারণ ঠিকাদারদের ডেকে এনে জোরপূর্বক দরপত্র নথিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। যারা স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়া হয়।
কয়েকজন ঠিকাদার—মো. আলাউদ্দিন (তালিকাভুক্তি নং-৮১৬), মেসার্স সাদিয়া এন্টারপ্রাইজ (নং-৪৬৮), মেসার্স আমির ব্রাদার্স (নং-৮৫৬) ও মেসার্স জেড এ এন্টারপ্রাইজ (নং-৮৯২)—এই অনিয়মের বিষয়ে গত ২৩ অক্টোবর মহাপরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, অভিযুক্ত মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অতীতেও সরকারি পরিবহন পুলে থাকা অবস্থায় কোটি কোটি টাকা আত্মসাত এবং সরকারি গাড়ির তেল বিক্রি করে বিদেশে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। সবশেষে অভিযোগকারী দুদকের কাছে সংশ্লিষ্ট দরপত্র প্রক্রিয়া তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাসনাত হুমায়ূন কবীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। আমি দুদকের সচিবকে সুষ্ঠু তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছি।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















