ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার। মনোহরগঞ্জে সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পিএসএলের বাকি অংশে খেলা হচ্ছে না নাহিদ-মুস্তাফিজের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়মকেই নিয়মে পরিনত করছেন মাদারীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেরোবিতে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আইইএলটিএস পরীক্ষা দিতে আসা তরুণীর লাশ মিলল হোটেলের বাথরুমে বড়লেখা উপজেলা পৌর ছাত্রদল ও বড়লেখা উপজেলা শাখার ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তনু হত্যায় গ্রেপ্তার হাফিজুরের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ বিসিকের টেন্ডার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ! ঘোড়াশালে চাঁদাবাজ মহিউদ্দিনের দাপট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের অভিযোগ
শ্রম মন্ত্রণালয়

শ্রম মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম: মো. আসাদুজ্জামান মোড়ল ও প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের বিতর্ক

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে গত কয়েক বছরের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় একাধিক কর্মকর্তা প্রশাসনিক ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। এই প্রসঙ্গে বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান মোড়ল। যদিও তিনি নিজের কর্মকাণ্ডকে সঠিক দাবি করেছেন, কিন্তু বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে যে, তার পদ ও দায়িত্বকে কাজে লাগিয়ে মন্ত্রণালয়ের অর্থ, নথি ও কেনাকাটার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের কার্যক্রমকে সহায়তা করার অভিযোগ আছে। এই অভিযোগগুলো মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ এবং দুদকের তদন্ত রিপোর্টসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে।

মোড়ল বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক শাখায় দায়িত্ব পালন করছেন। তার কাজের মধ্যে রয়েছে নথি সংরক্ষণ, কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি, অনুমোদন দেওয়া এবং শাখার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। এই অবস্থানের কারণে তাকে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি না যুক্ত হলেও প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং নথি যাচাই করার দায়িত্ব তাকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। সরকারি সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখায় চালানো অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় মোড়লের নামও উঠে এসেছে।

একটি স্পষ্ট উদাহরণ হলো ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির ঘটনা। শ্রম মন্ত্রণালয় ‘অগ্রগামী ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঁচটি বৈদ্যুতিক পণ্য কেনার জন্য এক লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা খরচ করে। পরদিন অর্থ উত্তোলনের জন্য বিল জমা দেওয়া হয় অতিরিক্ত সচিব বরাবর। কিন্তু পরে দেখা যায়, ‘অগ্রগামী ট্রেডার্স’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানই বাস্তবে নেই। প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা হিসেবে যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণ সায়েদাবাদ এলাকার তথ্য দেওয়া হয়েছিল, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। এমনকি একই ঠিকানা ও ফোন নম্বর ব্যবহার করে নাম বদল করে পণ্য কেনার ঘটনা ঘটেছে। এই প্রক্রিয়ায় মোড়ল প্রশাসনিক শাখার কর্মকর্তা হওয়ায় অনুমোদন ও নথি যাচাইয়ের দায়িত্বে আংশিকভাবে জড়িত থাকতে পারে, যদিও সে নিজে দাবি করেছেন যে তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এছাড়া মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের জন্য বুকে লাগানোর শোক দিবসের ব্যাজ তৈরি করার ঘটনায়ও অনিয়ম দেখা গেছে। ২০২৩ সালে কালো ব্যাজ তৈরি করার ১৫টি বিলের মাধ্যমে ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা পাস করানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যাজের সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০, যা প্রকৃত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কর্মচারীর সংখ্যা মিলে মাত্র ৩৫০ জন। প্রতিটি ব্যাজের প্রকৃত মূল্য প্রায় ১০০ টাকার কম। বিলের মূল্য আইন অনুযায়ী ২৫ হাজার টাকার নিচে রাখা হয়েছে, যাতে একজন উপসচিব একক ক্ষমতাবলে অনুমোদন দিতে পারেন। এই ধরনের প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধান অপরিহার্য ছিল।

মোড়লের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও বিস্তৃত। জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, যার মধ্যে বিভিন্ন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করতেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দরপত্রে কারসাজি, নিয়োগ বাণিজ্য, সনদ জালিয়াতি, পণ্য না কিনে বিল উত্তোলন এবং কম টাকায় পণ্য কিনে বেশি টাকায় বিল তৈরি করার মতো প্রক্রিয়া চালানো হত। এই সিন্ডিকেটের আর্থিক লেনদেনের একটি অংশ মোড়লের তত্ত্বাবধানাধীন প্রশাসনিক শাখার মাধ্যমে অনুমোদিত হয়। সূত্র অনুযায়ী, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আত্মসাতকৃত টাকার ২০ শতাংশ আসাদুজ্জামান মোড়লের জন্য বরাদ্দ ছিল। যদিও এটি সরাসরি প্রমাণিত হয়নি যে মোড়ল নিজে অর্থ আত্মসাতে লিপ্ত ছিলেন, কিন্তু তার প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে এই লেনদেনকে সহায়তা করার অভিযোগ ওঠে।

মোড়ল সাবেক প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের অফিসের সঙ্গে প্রশাসনিক সংযোগের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের কার্যক্রমে সহযোগিতা করারও অভিযোগে জড়িত হন। জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর আত্মীয়দের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং মন্ত্রণালয়ের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের মধ্যে মোড়ল প্রশাসনিক অনুমোদন, নথি যাচাই এবং কর্মকর্তা তদারকির মাধ্যমে অংশগ্রহণ করার জন্য দায়ী হন বলে অভিযোগ আছে।

দুদকে অভিযোগ দায়েরের প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি দুদকে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে। এর পর দুদক সচিব ১৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন। মন্ত্রণালয় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি মূলত মো. ফয়জুল্লাহ বিশ্বাসের কেনাকাটা এবং বিল-ভাউচার পরীক্ষা করে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয় যে, ফয়জুল্লাহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তিনটি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং তার সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু কমিটি কার্যপরিধির বাইরে থাকা অন্যান্য বিষয়গুলোর আলাদা তদন্তের সুপারিশ করলেও, মোড়লসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগগুলোতে আরও উঠে আসে যে, মোড়লের প্রশাসনিক শাখা সিন্ডিকেটের জন্য একটি সহায়ক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের মধ্যে পণ্য ক্রয় ও বিল উত্তোলন সংক্রান্ত অনুমোদন এবং নথিপত্র যাচাই করা ছিল। যদিও তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণিত অনিয়ম পাওয়া যায়নি, তবুও সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের সঙ্গে তার শাখার অংশগ্রহণের বিষয়টি উদ্বেগের সৃষ্টি করে।

মোড়ল নিজেই জানিয়েছে যে, তিনি কখনোই কেনাকাটার শাখায় যুক্ত ছিলেন না। তিনি বলেছেন, “আমাদের নাম কখনোই দুদকের তদন্তে আসেনি। আমাদের শাখার সংরক্ষিত দুটি তদন্ত রিপোর্টে আমার বিরুদ্ধে কোনো দোষ পাওয়া যায়নি। আমি এসব অনিয়মের সঙ্গে একেবারেই যুক্ত নই।” তার এই বক্তব্য প্রকাশ করে যে, তিনি প্রশাসনিক সীমার মধ্যে কাজ করেছেন এবং কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না।

তবে এই বিষয়টি সরকারের অভ্যন্তরীণ তদারকি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রণালয়ে সিন্ডিকেটের কার্যক্রম চালাতে গেলে প্রশাসনিক অনুমোদন, নথি যাচাই এবং শাখার তদারকি প্রয়োজন। মোড়ল এই দায়িত্বে ছিলেন, যার ফলে তার নাম এই বিতর্কের সঙ্গে জড়িত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ না থাকলেও প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে তিনি অভিযোগের আওতায় এসেছেন।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আরও একটি বিষয়—মোড়লের শাখা যেসব পণ্য ক্রয় বা কেনাকাটার প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত না হলেও, সিন্ডিকেটের আর্থিক লেনদেনের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা এবং নথি যাচাই করা তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আত্মসাতকৃত অর্থের একটি অংশ তার অনুমোদিত দায়িত্বের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। যদিও এটি সরাসরি প্রমাণিত নয় যে, মোড়ল অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তবুও এই অভিযোগটি তার কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে যে, এই ধরনের সিন্ডিকেট ও অনিয়মে একাধিক কর্মকর্তা জড়িত থাকলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোড়ল প্রশাসন শাখার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নথি যাচাই এবং অনুমোদনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও তার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার সিন্ডিকেটের কার্যক্রমকে সহায়তা করেছে।

অভিযোগগুলোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন এবং শাখার তদারকি সঠিকভাবে না থাকলে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়। মোড়লের দায়িত্ব ছিল প্রশাসনিক শাখার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। তার অধীনে যে নথি যাচাই এবং অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া ছিল, তা সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের জন্য সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।

মোড়লের পক্ষে বলা যায়, তিনি কখনোই কেনাকাটার বা অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তিনি জানিয়েছেন যে, দুটো আলাদা তদন্ত হয়েছে এবং দুজন উপসচিবের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। তার এই যুক্তি প্রমাণ করে যে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তার কর্মকাণ্ড সীমিত ছিল এবং কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।

তবে এই অভিযোগগুলো সরকারি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত। মোড়লের প্রশাসনিক ক্ষমতা ও পদমর্যাদা তাকে সরাসরি সিন্ডিকেটের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত না হলেও প্রক্রিয়ার সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এতে বোঝা যায়, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং তত্ত্বাবধায়ক ভূমিকা কখনো কখনো অনিয়মের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, যদিও ব্যক্তিগতভাবে তারা সম্পৃক্ত না।

এই ধরনের ঘটনা সরকারের অভ্যন্তরীণ তদারকি, দুদকের কার্যক্রম এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। মোড়ল প্রশাসনিক শাখার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা প্রমাণ করে যে, প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং অনুমোদন প্রদানকারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণিত অপরাধ পাওয়া যায়নি, তবুও তার নাম অভিযোগের সঙ্গে জড়িত হয়েছে।

অতএব, মোড়লকে কেন্দ্র করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা মূলত প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের কার্যক্রমকে সহায়তা করার বিষয়ক। তার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণিত কোনো অপরাধ না থাকলেও প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং তত্ত্বাবধায়ক ভূমিকার কারণে তার নাম আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। এটি সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

মোড়ল নিজে বারবার বলেছেন, তিনি কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসঙ্গতি ঘটাননি। তার বিরুদ্ধে তদন্তে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে সিন্ডিকেট এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে তার প্রশাসনিক শাখার সংযোগের অভিযোগগুলো বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এটি সরকারের কাছে একটি সতর্কবার্তা, যাতে প্রশাসনিক শাখার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয় এবং সরকারি অর্থের ব্যবহার সুষ্ঠু থাকে।

এই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নথি, দুদকের তদন্ত রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। মোড়লের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রশাসনিক শাখার দায়িত্ব পালন করার কারণে তার নাম অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হলেও কোনো প্রমাণিত অপরাধ পাওয়া যায়নি। তবে সিন্ডিকেটের কার্যক্রম এবং তার শাখার অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া এক ধরনের তাত্ত্বিক সম্পৃক্ততা সৃষ্টি করেছে।

সংক্ষেপে, মো. আসাদুজ্জামান মোড়লের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো ওঠেছে, সেগুলো মূলত প্রশাসনিক দায়িত্ব ও তত্ত্বাবধায়ক ক্ষমতার সীমার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি নিজে দাবি করেছেন যে, তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। তদন্ত রিপোর্টেও তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। তবুও মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে সিন্ডিকেট এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার শাখার সংযোগকে কেন্দ্র করে অভিযোগগুলো জনসমক্ষে আলোচিত হয়েছে। এই ঘটনা সরকারি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার।

শ্রম মন্ত্রণালয়

শ্রম মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম: মো. আসাদুজ্জামান মোড়ল ও প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের বিতর্ক

আপডেট সময় ০১:১৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে গত কয়েক বছরের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় একাধিক কর্মকর্তা প্রশাসনিক ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। এই প্রসঙ্গে বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান মোড়ল। যদিও তিনি নিজের কর্মকাণ্ডকে সঠিক দাবি করেছেন, কিন্তু বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে যে, তার পদ ও দায়িত্বকে কাজে লাগিয়ে মন্ত্রণালয়ের অর্থ, নথি ও কেনাকাটার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের কার্যক্রমকে সহায়তা করার অভিযোগ আছে। এই অভিযোগগুলো মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ এবং দুদকের তদন্ত রিপোর্টসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে।

মোড়ল বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক শাখায় দায়িত্ব পালন করছেন। তার কাজের মধ্যে রয়েছে নথি সংরক্ষণ, কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি, অনুমোদন দেওয়া এবং শাখার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। এই অবস্থানের কারণে তাকে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি না যুক্ত হলেও প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং নথি যাচাই করার দায়িত্ব তাকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। সরকারি সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখায় চালানো অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় মোড়লের নামও উঠে এসেছে।

একটি স্পষ্ট উদাহরণ হলো ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির ঘটনা। শ্রম মন্ত্রণালয় ‘অগ্রগামী ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঁচটি বৈদ্যুতিক পণ্য কেনার জন্য এক লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা খরচ করে। পরদিন অর্থ উত্তোলনের জন্য বিল জমা দেওয়া হয় অতিরিক্ত সচিব বরাবর। কিন্তু পরে দেখা যায়, ‘অগ্রগামী ট্রেডার্স’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানই বাস্তবে নেই। প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা হিসেবে যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণ সায়েদাবাদ এলাকার তথ্য দেওয়া হয়েছিল, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। এমনকি একই ঠিকানা ও ফোন নম্বর ব্যবহার করে নাম বদল করে পণ্য কেনার ঘটনা ঘটেছে। এই প্রক্রিয়ায় মোড়ল প্রশাসনিক শাখার কর্মকর্তা হওয়ায় অনুমোদন ও নথি যাচাইয়ের দায়িত্বে আংশিকভাবে জড়িত থাকতে পারে, যদিও সে নিজে দাবি করেছেন যে তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এছাড়া মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের জন্য বুকে লাগানোর শোক দিবসের ব্যাজ তৈরি করার ঘটনায়ও অনিয়ম দেখা গেছে। ২০২৩ সালে কালো ব্যাজ তৈরি করার ১৫টি বিলের মাধ্যমে ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা পাস করানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যাজের সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০, যা প্রকৃত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কর্মচারীর সংখ্যা মিলে মাত্র ৩৫০ জন। প্রতিটি ব্যাজের প্রকৃত মূল্য প্রায় ১০০ টাকার কম। বিলের মূল্য আইন অনুযায়ী ২৫ হাজার টাকার নিচে রাখা হয়েছে, যাতে একজন উপসচিব একক ক্ষমতাবলে অনুমোদন দিতে পারেন। এই ধরনের প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধান অপরিহার্য ছিল।

মোড়লের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও বিস্তৃত। জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, যার মধ্যে বিভিন্ন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করতেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দরপত্রে কারসাজি, নিয়োগ বাণিজ্য, সনদ জালিয়াতি, পণ্য না কিনে বিল উত্তোলন এবং কম টাকায় পণ্য কিনে বেশি টাকায় বিল তৈরি করার মতো প্রক্রিয়া চালানো হত। এই সিন্ডিকেটের আর্থিক লেনদেনের একটি অংশ মোড়লের তত্ত্বাবধানাধীন প্রশাসনিক শাখার মাধ্যমে অনুমোদিত হয়। সূত্র অনুযায়ী, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আত্মসাতকৃত টাকার ২০ শতাংশ আসাদুজ্জামান মোড়লের জন্য বরাদ্দ ছিল। যদিও এটি সরাসরি প্রমাণিত হয়নি যে মোড়ল নিজে অর্থ আত্মসাতে লিপ্ত ছিলেন, কিন্তু তার প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে এই লেনদেনকে সহায়তা করার অভিযোগ ওঠে।

মোড়ল সাবেক প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের অফিসের সঙ্গে প্রশাসনিক সংযোগের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের কার্যক্রমে সহযোগিতা করারও অভিযোগে জড়িত হন। জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর আত্মীয়দের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং মন্ত্রণালয়ের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের মধ্যে মোড়ল প্রশাসনিক অনুমোদন, নথি যাচাই এবং কর্মকর্তা তদারকির মাধ্যমে অংশগ্রহণ করার জন্য দায়ী হন বলে অভিযোগ আছে।

দুদকে অভিযোগ দায়েরের প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি দুদকে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে। এর পর দুদক সচিব ১৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন। মন্ত্রণালয় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি মূলত মো. ফয়জুল্লাহ বিশ্বাসের কেনাকাটা এবং বিল-ভাউচার পরীক্ষা করে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয় যে, ফয়জুল্লাহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তিনটি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং তার সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু কমিটি কার্যপরিধির বাইরে থাকা অন্যান্য বিষয়গুলোর আলাদা তদন্তের সুপারিশ করলেও, মোড়লসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগগুলোতে আরও উঠে আসে যে, মোড়লের প্রশাসনিক শাখা সিন্ডিকেটের জন্য একটি সহায়ক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের মধ্যে পণ্য ক্রয় ও বিল উত্তোলন সংক্রান্ত অনুমোদন এবং নথিপত্র যাচাই করা ছিল। যদিও তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণিত অনিয়ম পাওয়া যায়নি, তবুও সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের সঙ্গে তার শাখার অংশগ্রহণের বিষয়টি উদ্বেগের সৃষ্টি করে।

মোড়ল নিজেই জানিয়েছে যে, তিনি কখনোই কেনাকাটার শাখায় যুক্ত ছিলেন না। তিনি বলেছেন, “আমাদের নাম কখনোই দুদকের তদন্তে আসেনি। আমাদের শাখার সংরক্ষিত দুটি তদন্ত রিপোর্টে আমার বিরুদ্ধে কোনো দোষ পাওয়া যায়নি। আমি এসব অনিয়মের সঙ্গে একেবারেই যুক্ত নই।” তার এই বক্তব্য প্রকাশ করে যে, তিনি প্রশাসনিক সীমার মধ্যে কাজ করেছেন এবং কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না।

তবে এই বিষয়টি সরকারের অভ্যন্তরীণ তদারকি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রণালয়ে সিন্ডিকেটের কার্যক্রম চালাতে গেলে প্রশাসনিক অনুমোদন, নথি যাচাই এবং শাখার তদারকি প্রয়োজন। মোড়ল এই দায়িত্বে ছিলেন, যার ফলে তার নাম এই বিতর্কের সঙ্গে জড়িত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ না থাকলেও প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে তিনি অভিযোগের আওতায় এসেছেন।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আরও একটি বিষয়—মোড়লের শাখা যেসব পণ্য ক্রয় বা কেনাকাটার প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত না হলেও, সিন্ডিকেটের আর্থিক লেনদেনের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা এবং নথি যাচাই করা তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আত্মসাতকৃত অর্থের একটি অংশ তার অনুমোদিত দায়িত্বের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। যদিও এটি সরাসরি প্রমাণিত নয় যে, মোড়ল অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তবুও এই অভিযোগটি তার কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে যে, এই ধরনের সিন্ডিকেট ও অনিয়মে একাধিক কর্মকর্তা জড়িত থাকলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোড়ল প্রশাসন শাখার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নথি যাচাই এবং অনুমোদনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও তার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার সিন্ডিকেটের কার্যক্রমকে সহায়তা করেছে।

অভিযোগগুলোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন এবং শাখার তদারকি সঠিকভাবে না থাকলে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়। মোড়লের দায়িত্ব ছিল প্রশাসনিক শাখার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। তার অধীনে যে নথি যাচাই এবং অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া ছিল, তা সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের জন্য সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।

মোড়লের পক্ষে বলা যায়, তিনি কখনোই কেনাকাটার বা অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তিনি জানিয়েছেন যে, দুটো আলাদা তদন্ত হয়েছে এবং দুজন উপসচিবের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। তার এই যুক্তি প্রমাণ করে যে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তার কর্মকাণ্ড সীমিত ছিল এবং কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।

তবে এই অভিযোগগুলো সরকারি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত। মোড়লের প্রশাসনিক ক্ষমতা ও পদমর্যাদা তাকে সরাসরি সিন্ডিকেটের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত না হলেও প্রক্রিয়ার সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এতে বোঝা যায়, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং তত্ত্বাবধায়ক ভূমিকা কখনো কখনো অনিয়মের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, যদিও ব্যক্তিগতভাবে তারা সম্পৃক্ত না।

এই ধরনের ঘটনা সরকারের অভ্যন্তরীণ তদারকি, দুদকের কার্যক্রম এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। মোড়ল প্রশাসনিক শাখার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা প্রমাণ করে যে, প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং অনুমোদন প্রদানকারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণিত অপরাধ পাওয়া যায়নি, তবুও তার নাম অভিযোগের সঙ্গে জড়িত হয়েছে।

অতএব, মোড়লকে কেন্দ্র করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা মূলত প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের কার্যক্রমকে সহায়তা করার বিষয়ক। তার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণিত কোনো অপরাধ না থাকলেও প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং তত্ত্বাবধায়ক ভূমিকার কারণে তার নাম আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। এটি সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

মোড়ল নিজে বারবার বলেছেন, তিনি কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসঙ্গতি ঘটাননি। তার বিরুদ্ধে তদন্তে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে সিন্ডিকেট এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে তার প্রশাসনিক শাখার সংযোগের অভিযোগগুলো বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এটি সরকারের কাছে একটি সতর্কবার্তা, যাতে প্রশাসনিক শাখার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয় এবং সরকারি অর্থের ব্যবহার সুষ্ঠু থাকে।

এই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নথি, দুদকের তদন্ত রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। মোড়লের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রশাসনিক শাখার দায়িত্ব পালন করার কারণে তার নাম অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হলেও কোনো প্রমাণিত অপরাধ পাওয়া যায়নি। তবে সিন্ডিকেটের কার্যক্রম এবং তার শাখার অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া এক ধরনের তাত্ত্বিক সম্পৃক্ততা সৃষ্টি করেছে।

সংক্ষেপে, মো. আসাদুজ্জামান মোড়লের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো ওঠেছে, সেগুলো মূলত প্রশাসনিক দায়িত্ব ও তত্ত্বাবধায়ক ক্ষমতার সীমার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি নিজে দাবি করেছেন যে, তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। তদন্ত রিপোর্টেও তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। তবুও মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে সিন্ডিকেট এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার শাখার সংযোগকে কেন্দ্র করে অভিযোগগুলো জনসমক্ষে আলোচিত হয়েছে। এই ঘটনা সরকারি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে।