ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার। মনোহরগঞ্জে সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পিএসএলের বাকি অংশে খেলা হচ্ছে না নাহিদ-মুস্তাফিজের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়মকেই নিয়মে পরিনত করছেন মাদারীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেরোবিতে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আইইএলটিএস পরীক্ষা দিতে আসা তরুণীর লাশ মিলল হোটেলের বাথরুমে বড়লেখা উপজেলা পৌর ছাত্রদল ও বড়লেখা উপজেলা শাখার ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তনু হত্যায় গ্রেপ্তার হাফিজুরের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ বিসিকের টেন্ডার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ! ঘোড়াশালে চাঁদাবাজ মহিউদ্দিনের দাপট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের অভিযোগ

বিআরটিএ’র দালাল রুবেলের প্রধান পৃষ্টপোষক এআরও রুহুল আমিন

বিআরটিএ’র দালাল থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে মোঃ হারুন অর রশিদ রুবেল হয়েছেন কোটি টাকার মালিক। অভিযোগ রয়েছে বিআরটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এসব অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। তার পৃষ্টপোষক ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ এ দীর্ঘ দুই যুগ যাবত কর্মরত সাবেক হিসাব রক্ষক ও বর্তমানে এআরও মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

বিআরটিএ’র গাড়ির মালিকানা বদল, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত লেনদেন থেকে অর্থ হাতিয়ে শূন্য থেকে হয়েছে কয়েক কোটি টাকার মালিক। করেছেন ঢাকায় ফ্ল্যাট, গাড়ি; এছাড়াও রয়েছে নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। দিনমজুর মোঃ অহিদুর রহমান তালুকদারের বড় ছেলে মোঃ হারুন অর রশিদ রুবেল (৩৫) দুই ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে রুবেল বড়। দারিদ্রতার বোঝা মাথায় নিয়ে ২০১১ সালে মামার হাত ধরে পা রাখেন ঢাকায়। মিরপুর বিআরটিএ মেট্রো সার্কেল-১ সহকারী পরিচালক (রেজিস্ট্রেশন) জামাল উদ্দিনের বহিরাগত অফিসে পিয়নের কাজ (চা, ফাইলপত্র) এনে দেওয়ার কাজ করতেন। ১ বছর কাজ করার পর র‍্যাংগস মোটরসের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেখান থেকে যুক্ত হন কোম্পানিটির ট্রান্সপোর্ট বিভাগে, প্রায় ২ বছরের মতো কাজ করেছেন। কাজে থাকা অবস্থায় রেজিস্ট্রেশনের বডি ভ্যাটের কয়েক লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। বিষয়টি র‍্যাংগস কর্তৃপক্ষ জানার পরে তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। পরে দুই বছরের বেকার জীবন পার করে বিআরটিএ’র পাশে অনলাইন ব্যাংকিং জমার জন্য শাহরাস্তি বিজনেস সেন্টার নামে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে সেখান থেকেই আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। গড়ে তোলেন একটি চক্র; সে চক্রের মাধ্যমে করোনা কলীন সময়ে (বিআরটিএ’র কার্যক্রম বন্ধ থাকায়) গ্রাহকের গাড়িগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ হতে থাকে, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ট্যাক্স টোকেনের বিআরটিএ’র কোষাগারে মাত্র ৫২ টাকা জমা দিয়ে কয়েকশ গ্রাহকের গাড়ির ইনকাম ট্যাক্সের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাত করে। পরবর্তীতে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন চক্রটি। রুবেলের শাহরাস্তি বিসনেস সেন্টার বিআরটিএ এর পাশে হওয়ায় সারা ঢাকা শহরের দালালরা তার কাছে বিভিন্ন কাজ দেয় এবং এই কাজগুলো রুহুল আমিনের গেটিস আব্দুল কাদেরের মাধ্যমে রুহুল আমিনকে পৌছে দেওয়া হয় এবং রুহুল আমিন কাজ শেষে করে আবার আব্দুল কাদেরের মাধ্যমে রুবেলের নিকট পাঠিয়ে দেয়।

২০০১ থেকে ২০০৬ মডেল সিএনজি অটোরিকশা রিপলেসমেন্টে ঢাকা মেট্রো সার্কেল ১ থেকে যে সকল অটোরিকশা পূর্বে নিবন্ধন হয়েছিলো সেগুলো প্রতিস্থাপনের সময় মালিকদের নাম ও ঠিকানা রুহুল আমিন রুবেলকে দেয়, রুবেল বিভিন্ন মালিকদের সাথে যোগাযোগ করে সহজে রেজিষ্ট্রেশন পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে রুহুল আমিনের পৃষ্টপোষকতায় উৎকোচ গ্রহণ করে কোন প্রকার নতুন সিএনজি অটোরিকশা বিআরটিএ’তে উপস্থিত না করে গাড়ী প্রতি রেজিষ্ট্রেশন বাবদ ২৫ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে রেজিষ্ট্রেশন দেওয়া হয়।

কয়েক বছরের ব্যবধানে রুবেল হয়েছেন কয়েক কোটি টাকার মালিক, করেছেন ফ্ল্যাট, গাড়ি, নারী। আবার ওই নারীর নামে দিয়েছেন মাত্র ৮টি সিএনজি গাড়ি। রুবেলের নামে রয়েছে ৭টি সিএনজি ও ১ মাইক্রোবাস। মোট ১৫টি গাড়ির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। এছাড়াও নামে-বেনামে গড়েছেন কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।

এর মধ্যে গত ১৫ মে ২০২৩ সালে র‌্যাবের অভিযানে কয়েক জনকে আটকের পরও মূল আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। চক্রটি এখনও বিআরটিএ’তে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের জিম্মি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর সঙ্গে বিআরটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তাও জড়িত; তাদের যোগসাজশে একজনের টিন সার্টিফিকেট আরেক জনের নামে দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

মোঃ হারুন অর রশিদ রুবেল প্রধান পৃষ্টপোষক ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ এ দীর্ঘ ২ যুগ যাবত কর্মরত সাবেক হিসাব রক্ষক বর্তমানে এআরও মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে নতুন পুরাতন লাইসেন্স, মালিকানা বদলী ও রুট পারমিট। মোহাম্মদ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে পাহাড় সমান অভিযোগ থাকা সত্তেও তিনি স্ব-তবিয়তে বহাল আছেন। মোহাম্মদ রুহুল আমিন ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা নিক্সন চৌধুরীর আত্মীয় পরিচয় দিতেন যার ফলে তার দুর্ণীতির ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। বিগত ০৪-০২-২০২৪ইং তারিখে তার বিরুদ্ধে ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দুর্ণীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ইতিমধ্যে দুদকে কতিপয় সিএনজি মালিক শ্রমিকদের তলব করা হয়েছে এবং তাদের নিকট থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে এমনকি মোহাম্মদ রুহুল আমিনও দুদকে গিয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে জানা যায়।

বিআরটিএ এর চেয়ারম্যান বদলি হয়, পরিচালক বদলি হয় অন্যান্য কর্মকর্তারা বদলি হয় কিন্তু রুহুল আমিন দীর্ঘ ২ যুগ একই জায়গায় বলবৎ আছে তার কোন বদলি হয় না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তার বদলি না হওয়ায় অন্যতম কারণ হলো রুহুল আমিন উৎকোচ বাণিজ্যের ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং প্রত্যেকের ভাগের টাকা প্রতি মাসের ১ তারিখ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে তার গেটিস কাদের এর মাধ্যমে সকলের নিকট পৌছিয়ে দেয়।

বিগত ২০-০৮-২০২৩ইং তারিখে আব্দুস ছাত্তার (ঠিকানা: ৯৮/১ বড়কাটরা, লালবাগ, ঢাকা) দুদক চেয়ারম্যন বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি জনপ্রশান মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে রুহুল আমিন দীর্ঘদিন যাবৎ দালাল সিন্ডিগেটের নেতৃত্ব দিয়ে আসসে মর্মে অভিযোগ দেয়, কিন্তু এসকল অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই।

বিআরটিএ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক দিন পরপর লোক দেখানো অভিযানের মধ্যে দিয়ে আড়ালে থেকে যায় এ ধরনের রুবেল ও রুহুল আমিনরা। তাদের কাছেই বন্ধি থাকে লাখ লাখ সেবা গ্রহীতা। ভূক্তভোগীরা বলেছেন, দ্রুত এসব প্রতারক ও দুর্ণীতিবাজদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এবং বিআরটিএ’কে দালালমুক্ত করে সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তি দূর করা এটাই তাদের প্রত্যাশা।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার।

বিআরটিএ’র দালাল রুবেলের প্রধান পৃষ্টপোষক এআরও রুহুল আমিন

আপডেট সময় ০১:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বিআরটিএ’র দালাল থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে মোঃ হারুন অর রশিদ রুবেল হয়েছেন কোটি টাকার মালিক। অভিযোগ রয়েছে বিআরটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এসব অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। তার পৃষ্টপোষক ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ এ দীর্ঘ দুই যুগ যাবত কর্মরত সাবেক হিসাব রক্ষক ও বর্তমানে এআরও মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

বিআরটিএ’র গাড়ির মালিকানা বদল, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত লেনদেন থেকে অর্থ হাতিয়ে শূন্য থেকে হয়েছে কয়েক কোটি টাকার মালিক। করেছেন ঢাকায় ফ্ল্যাট, গাড়ি; এছাড়াও রয়েছে নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। দিনমজুর মোঃ অহিদুর রহমান তালুকদারের বড় ছেলে মোঃ হারুন অর রশিদ রুবেল (৩৫) দুই ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে রুবেল বড়। দারিদ্রতার বোঝা মাথায় নিয়ে ২০১১ সালে মামার হাত ধরে পা রাখেন ঢাকায়। মিরপুর বিআরটিএ মেট্রো সার্কেল-১ সহকারী পরিচালক (রেজিস্ট্রেশন) জামাল উদ্দিনের বহিরাগত অফিসে পিয়নের কাজ (চা, ফাইলপত্র) এনে দেওয়ার কাজ করতেন। ১ বছর কাজ করার পর র‍্যাংগস মোটরসের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেখান থেকে যুক্ত হন কোম্পানিটির ট্রান্সপোর্ট বিভাগে, প্রায় ২ বছরের মতো কাজ করেছেন। কাজে থাকা অবস্থায় রেজিস্ট্রেশনের বডি ভ্যাটের কয়েক লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। বিষয়টি র‍্যাংগস কর্তৃপক্ষ জানার পরে তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। পরে দুই বছরের বেকার জীবন পার করে বিআরটিএ’র পাশে অনলাইন ব্যাংকিং জমার জন্য শাহরাস্তি বিজনেস সেন্টার নামে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে সেখান থেকেই আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। গড়ে তোলেন একটি চক্র; সে চক্রের মাধ্যমে করোনা কলীন সময়ে (বিআরটিএ’র কার্যক্রম বন্ধ থাকায়) গ্রাহকের গাড়িগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ হতে থাকে, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ট্যাক্স টোকেনের বিআরটিএ’র কোষাগারে মাত্র ৫২ টাকা জমা দিয়ে কয়েকশ গ্রাহকের গাড়ির ইনকাম ট্যাক্সের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাত করে। পরবর্তীতে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন চক্রটি। রুবেলের শাহরাস্তি বিসনেস সেন্টার বিআরটিএ এর পাশে হওয়ায় সারা ঢাকা শহরের দালালরা তার কাছে বিভিন্ন কাজ দেয় এবং এই কাজগুলো রুহুল আমিনের গেটিস আব্দুল কাদেরের মাধ্যমে রুহুল আমিনকে পৌছে দেওয়া হয় এবং রুহুল আমিন কাজ শেষে করে আবার আব্দুল কাদেরের মাধ্যমে রুবেলের নিকট পাঠিয়ে দেয়।

২০০১ থেকে ২০০৬ মডেল সিএনজি অটোরিকশা রিপলেসমেন্টে ঢাকা মেট্রো সার্কেল ১ থেকে যে সকল অটোরিকশা পূর্বে নিবন্ধন হয়েছিলো সেগুলো প্রতিস্থাপনের সময় মালিকদের নাম ও ঠিকানা রুহুল আমিন রুবেলকে দেয়, রুবেল বিভিন্ন মালিকদের সাথে যোগাযোগ করে সহজে রেজিষ্ট্রেশন পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে রুহুল আমিনের পৃষ্টপোষকতায় উৎকোচ গ্রহণ করে কোন প্রকার নতুন সিএনজি অটোরিকশা বিআরটিএ’তে উপস্থিত না করে গাড়ী প্রতি রেজিষ্ট্রেশন বাবদ ২৫ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে রেজিষ্ট্রেশন দেওয়া হয়।

কয়েক বছরের ব্যবধানে রুবেল হয়েছেন কয়েক কোটি টাকার মালিক, করেছেন ফ্ল্যাট, গাড়ি, নারী। আবার ওই নারীর নামে দিয়েছেন মাত্র ৮টি সিএনজি গাড়ি। রুবেলের নামে রয়েছে ৭টি সিএনজি ও ১ মাইক্রোবাস। মোট ১৫টি গাড়ির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। এছাড়াও নামে-বেনামে গড়েছেন কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।

এর মধ্যে গত ১৫ মে ২০২৩ সালে র‌্যাবের অভিযানে কয়েক জনকে আটকের পরও মূল আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। চক্রটি এখনও বিআরটিএ’তে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের জিম্মি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর সঙ্গে বিআরটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তাও জড়িত; তাদের যোগসাজশে একজনের টিন সার্টিফিকেট আরেক জনের নামে দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

মোঃ হারুন অর রশিদ রুবেল প্রধান পৃষ্টপোষক ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ এ দীর্ঘ ২ যুগ যাবত কর্মরত সাবেক হিসাব রক্ষক বর্তমানে এআরও মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে নতুন পুরাতন লাইসেন্স, মালিকানা বদলী ও রুট পারমিট। মোহাম্মদ রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে পাহাড় সমান অভিযোগ থাকা সত্তেও তিনি স্ব-তবিয়তে বহাল আছেন। মোহাম্মদ রুহুল আমিন ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা নিক্সন চৌধুরীর আত্মীয় পরিচয় দিতেন যার ফলে তার দুর্ণীতির ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। বিগত ০৪-০২-২০২৪ইং তারিখে তার বিরুদ্ধে ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দুর্ণীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ইতিমধ্যে দুদকে কতিপয় সিএনজি মালিক শ্রমিকদের তলব করা হয়েছে এবং তাদের নিকট থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে এমনকি মোহাম্মদ রুহুল আমিনও দুদকে গিয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে জানা যায়।

বিআরটিএ এর চেয়ারম্যান বদলি হয়, পরিচালক বদলি হয় অন্যান্য কর্মকর্তারা বদলি হয় কিন্তু রুহুল আমিন দীর্ঘ ২ যুগ একই জায়গায় বলবৎ আছে তার কোন বদলি হয় না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তার বদলি না হওয়ায় অন্যতম কারণ হলো রুহুল আমিন উৎকোচ বাণিজ্যের ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং প্রত্যেকের ভাগের টাকা প্রতি মাসের ১ তারিখ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে তার গেটিস কাদের এর মাধ্যমে সকলের নিকট পৌছিয়ে দেয়।

বিগত ২০-০৮-২০২৩ইং তারিখে আব্দুস ছাত্তার (ঠিকানা: ৯৮/১ বড়কাটরা, লালবাগ, ঢাকা) দুদক চেয়ারম্যন বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি জনপ্রশান মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে রুহুল আমিন দীর্ঘদিন যাবৎ দালাল সিন্ডিগেটের নেতৃত্ব দিয়ে আসসে মর্মে অভিযোগ দেয়, কিন্তু এসকল অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই।

বিআরটিএ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক দিন পরপর লোক দেখানো অভিযানের মধ্যে দিয়ে আড়ালে থেকে যায় এ ধরনের রুবেল ও রুহুল আমিনরা। তাদের কাছেই বন্ধি থাকে লাখ লাখ সেবা গ্রহীতা। ভূক্তভোগীরা বলেছেন, দ্রুত এসব প্রতারক ও দুর্ণীতিবাজদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এবং বিআরটিএ’কে দালালমুক্ত করে সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তি দূর করা এটাই তাদের প্রত্যাশা।