ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এলজিইডিতে দুর্নীতির মুকুটহীন রানী জয়শ্রী দে ঘুষের বোঝায় নাজেহাল ঠিকাদাররা

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা এখন দুর্নীতি, ঘুষবাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ডেরা—এমন অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে ঠিকাদারদের মধ্যে।

উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রীদে যে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করার কথা, সেখানে তিনি নাকি শতভাগ কাজ বুঝে নেওয়ার ফাঁদ তৈরি করে প্রকাশ্যে ঘুষ আদায় করছেন।

ঠিকাদারদের অভিযোগ—জয়শ্রীর ঘুষ-দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে বহু ঠিকাদার কাজই ছেড়ে দিয়েছেন।
“ঘুষ না দিলে ফাইল নাড়বে না, বিল ছাড় হবে না”—এমন পরিস্থিতিতে এলজিইডির উন্নয়ন
প্রকল্পগুলোতে তৈরি হয়েছে অরাজকতা ও স্থবিরতা।
ঠিকাদাররা বারবার অভিযোগ করলেও নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান আলী নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

তাদের দাবি—দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না। হাটহাজারীতে এলজিইডির অধীনে চলছে সড়ক উন্নয়ন ও বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ। প্রতিটি কাজের বরাদ্দ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন হাতিয়ে নিচ্ছেন জয়শ্রী দে। এছাড়া কাজ শেষে বিল পেতে হলে আবার দিতে হয় ‘টেবিলমানি’। অভিযোগ রয়েছে—আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এমপি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রভাব দেখিয়ে অনিয়ম করতেন তিনি।

বর্তমানে এক উপদেষ্টার ছত্রছায়ায় আগের চেয়েও বেপরোয়া দুর্নীতি ও ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন জয়শ্রী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন—
“এলজিইডির যে কাজই হোক, জয়শ্রীর টেবিলে ঘুষ না দিলে কোনো ফাইল সামনে এগোয় না।”

ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের বড় অংশ চলে যাচ্ছে ঘুষ-সিন্ডিকেটের পকেটে, আর নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন ঠিকাদাররা।
“বদলেছে সরকার, বদলায়নি জয়শ্রীর দাপট”

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এলজিইডিতে দুর্নীতির মুকুটহীন রানী জয়শ্রী দে ঘুষের বোঝায় নাজেহাল ঠিকাদাররা

আপডেট সময় ০১:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা এখন দুর্নীতি, ঘুষবাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ডেরা—এমন অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে ঠিকাদারদের মধ্যে।

উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রীদে যে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করার কথা, সেখানে তিনি নাকি শতভাগ কাজ বুঝে নেওয়ার ফাঁদ তৈরি করে প্রকাশ্যে ঘুষ আদায় করছেন।

ঠিকাদারদের অভিযোগ—জয়শ্রীর ঘুষ-দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে বহু ঠিকাদার কাজই ছেড়ে দিয়েছেন।
“ঘুষ না দিলে ফাইল নাড়বে না, বিল ছাড় হবে না”—এমন পরিস্থিতিতে এলজিইডির উন্নয়ন
প্রকল্পগুলোতে তৈরি হয়েছে অরাজকতা ও স্থবিরতা।
ঠিকাদাররা বারবার অভিযোগ করলেও নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান আলী নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

তাদের দাবি—দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না। হাটহাজারীতে এলজিইডির অধীনে চলছে সড়ক উন্নয়ন ও বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ। প্রতিটি কাজের বরাদ্দ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন হাতিয়ে নিচ্ছেন জয়শ্রী দে। এছাড়া কাজ শেষে বিল পেতে হলে আবার দিতে হয় ‘টেবিলমানি’। অভিযোগ রয়েছে—আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এমপি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রভাব দেখিয়ে অনিয়ম করতেন তিনি।

বর্তমানে এক উপদেষ্টার ছত্রছায়ায় আগের চেয়েও বেপরোয়া দুর্নীতি ও ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন জয়শ্রী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন—
“এলজিইডির যে কাজই হোক, জয়শ্রীর টেবিলে ঘুষ না দিলে কোনো ফাইল সামনে এগোয় না।”

ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের বড় অংশ চলে যাচ্ছে ঘুষ-সিন্ডিকেটের পকেটে, আর নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন ঠিকাদাররা।
“বদলেছে সরকার, বদলায়নি জয়শ্রীর দাপট”