কুমিল্লায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল মতিনের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দাবি করছে, তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে কুমিল্লার চলমান রাস্তা ও ব্রিজ প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো যাচ্ছে না, জমি অধিগ্রহণ বিলম্বিত হচ্ছে এবং সাধারণ জনগণও ভোগান্তির মুখে পড়ছে।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, আব্দুল মতিনের নির্দেশে কাজের বিল গ্রহণের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ঘুষ দিতে হয়। যারা নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের প্রকল্পের কাজ আটকে রাখা হয়। ফলে ঠিকাদাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রকল্পের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
মাইনুদ্দিন বাঁশি লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈমুর ইসলাম জানান, সিআইবিআরআর প্রকল্পের আওতায় দাউদকান্দি উপজেলার বাতাকান্দি থেকে মোহনপুর লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৫৭০ মিটার লম্বা পিএসসি গার্ডার ব্রিজের নির্মাণ কাজ সঠিক সময়ে সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় আমরা নির্ধারিত সময়ে কাজ করতে পারিনি। প্রকল্পের নির্মাণ প্রক্রিয়ায় ডিজাইন ত্রুটিও ছিল, কিন্তু প্রকল্প কর্মকর্তারা আমাদেরকে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার সুযোগ দিচ্ছেন না।”
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বারেশ্বর বাবুরবাড়ী এলাকায় সিসিবি প্রকল্পের আওতায় ২৭ মিটার লম্বা গার্ডার ব্রিজের নির্মাণও থেমে আছে। মেসার্স শশী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামাল হোসেন অভিযোগ করেছেন, “আমাদের প্রথম চলতি বিল এক কোটি চার লাখ টাকা প্রায় সাত মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে। এটি আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। আমরা আর্থিকভাবে ভোগান্তিতে রয়েছি।”
ঠিকাদাররা আরও অভিযোগ করেন, কুমিল্লা এলজিইডি অফিসের সহকারী প্রকৌশলী রায়হান এবং ল্যাব ইনচার্জ আকরাম তাদের নিয়মিত জিম্মি করে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ঠিকাদাররা বলছেন, সিলিন্ডার টেস্টে পাশ হওয়া, ইট, পাথর ও বালির গুণগত মান নিশ্চিত করা—সবই ঘুষ দেওয়ার উপর নির্ভর করছে। ঘুষ না দিলে পরীক্ষা ব্যর্থ হচ্ছে, প্রকল্পের কাজ থেমে যাচ্ছে এবং তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
একাউন্টেন্ট আবু কাউসারের নামও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সমন্বয় করে সকল ঘুষ লেনদেন পরিচালনা করেন। ঠিকাদাররা বলেন, “যদি আমরা আবু কাউসারের সঙ্গে সমন্বয় না করি, আমাদের বিল গ্রহণ করা যায় না। এভাবে অনেক ঠিকাদারকে আর্থিকভাবে বাধ্যতামূলক পরিস্থিতিতে ফেলা হয়েছে।”
ঠিকাদারদের মতে, এই দুর্নীতি শুধুমাত্র তাদের ক্ষতি করছে না, বরং সাধারণ মানুষও প্রকল্পের বিলম্ব ও কাজের অনিয়মের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। চলমান রাস্তা ও ব্রিজের কাজ থেমে যাওয়ায় যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিত হচ্ছে এবং এলাকায় অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, আব্দুল মতিন প্রায়শই প্রকল্পের কাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ না করলে বিল আটকে রাখেন। তারা বলেন, “প্রকল্পের মান যাচাই করা হচ্ছে না, বরং ঘুষের মাধ্যমে বিল গ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। যারা এই প্রথা মানেন না, তাদের প্রকল্পের কাজ স্থগিত বা বিলবন্দী করা হচ্ছে।”
প্রকল্পের বিলম্ব ও জমি অধিগ্রহণে অনিয়মের কারণে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কুমিল্লার বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন যে জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় ব্রিজের কিছু অংশ অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এটি সরাসরি জনগণের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে।
ঠিকাদাররা আরও উল্লেখ করেছেন যে, এলজিইডির প্রকল্প বাস্তবায়নের সহকারী প্রকৌশলী রায়হান ও ল্যাব ইনচার্জ আকরাম তাদের নিয়মিত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রকল্পের কার্যক্রম নির্ভর করছে ঠিকাদারদের ঘুষ দেওয়ার উপর। সিলিন্ডার টেস্টে পাশ, ইট-পাথর-বালির গুণগত মান নিশ্চিত, এবং অন্যান্য মান যাচাই—সবই ঘুষের ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, একাউন্টেন্ট আবু কাউসার পুরো ঘুষ লেনদেনের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের বিল গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন। ঠিকাদাররা বলছেন, “আমাদের বিল না দিলে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। অনেক ঠিকাদার বাধ্য হয়ে প্রকল্প বন্ধ রাখছে বা বিলবন্দী হচ্ছে।”
এই দুর্নীতি কেবল আর্থিক ক্ষতির সৃষ্টি করছে না, বরং প্রকল্প বাস্তবায়নের মানও নষ্ট করছে। ঠিকাদাররা বলছেন, প্রকল্পের মান যাচাই করা হচ্ছে না। ঘুষ না দেওয়া হলে সমস্ত পরীক্ষা বিফল হয়। এই প্রথা ঠিকাদারদের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
কুমিল্লার এলজিইডি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তাদের নামও অভিযোগে এসেছে। ঠিকাদাররা বলছেন, এই কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তারা বাধ্য হচ্ছে ঘুষ প্রদান করতে। যারা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের প্রকল্পের কাজ আটকে রাখা হচ্ছে। এর ফলে প্রকল্পের মান, সময়সীমা এবং জনগণের সুবিধা সবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ঠিকাদাররা আরও অভিযোগ করেছেন যে, আব্দুল মতিনের এই আচরণ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। একাধিক প্রকল্পে একই ধরনের অনিয়ম দেখা গেছে। তাদের মতে, এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ না হলে কুমিল্লার রাস্তা ও ব্রিজ প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
ঠিকাদাররা দাবী করেছেন, এই ধরনের দুর্নীতি বন্ধ করতে এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তারা মনে করছেন, শুধুমাত্র ঘুষের মাধ্যমে প্রকল্পের বিল গ্রহণ এবং কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এটি ঠিকাদারদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ জনগণের জন্যও সমস্যা তৈরি করছে।
কুমিল্লার এলজিইডি অফিস থেকে এখনও এই অভিযোগ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঠিকাদাররা আশা করছেন, কর্তৃপক্ষ তাদের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তারা মনে করছেন, শুধুমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে জনগণ ও ঠিকাদাররা আর্থিক ও দৈনন্দিন ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।
এই অভিযোগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অনিয়ম কেবল কুমিল্লার জন্যই নয়, বাংলাদেশের অন্য অঞ্চলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলেছে। ঠিকাদাররা বলছেন, “এলজিইডি কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তবে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মান ও সময়সীমা সবই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
ঠিকাদারদের মতে, প্রকল্পের বিলম্ব ও আর্থিক ক্ষতি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তারা জানান, প্রকল্পের স্থগিত কার্যক্রম ও বিল আটকে রাখার কারণে তারা নতুন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারছেন না। ফলে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নও ব্যাহত হচ্ছে।
প্রকল্পের ডিজাইন ত্রুটি, জমি অধিগ্রহণের বিলম্ব, বিল আটকে রাখা, ঘুষ নেওয়া—all এসব কুমিল্লার এলজিইডি কার্যক্রমকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। ঠিকাদাররা বলছেন, এই সমস্যা শুধুমাত্র আর্থিক নয়, বরং জনগণের দৈনন্দিন জীবনের উপরও সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
একটি বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঠিকাদাররা জানান, যদি ঘুষ না দেওয়া হয়, তাহলে প্রকল্পের কোনো পরীক্ষায় পাশ করা সম্ভব নয়। সিলিন্ডার টেস্ট, ইট-পাথর-বালির গুণগত মান—সবই ঘুষের ওপর নির্ভর করছে। এটি প্রকল্পের মান যাচাই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে।
কুমিল্লার এলজিইডি কর্মকর্তাদের এই আচরণ দীর্ঘদিন ধরে চলমান। ঠিকাদাররা বলছেন, একাউন্টেন্ট আবু কাউসার এবং সহকারী প্রকৌশলী রায়হান-ল্যাব ইনচার্জ আকরামের মাধ্যমে এই ঘুষ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, যারা এই প্রথা মানেন না, তাদের প্রকল্পের বিল গ্রহণ বন্ধ করা হচ্ছে এবং প্রকল্প স্থগিত রাখা হচ্ছে।
ঠিকাদাররা মনে করছেন, যদি এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ না করা হয়, তবে কুমিল্লার রাস্তা ও ব্রিজ প্রকল্পের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা বলছেন, “আমাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, সময়সীমা বাড়ানো যাচ্ছে না, এবং জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।”
এছাড়া ঠিকাদাররা মনে করছেন, এই অনিয়ম কেবল কুমিল্লার জন্য নয়, পুরো দেশের এলজিইডি প্রকল্প বাস্তবায়নের মান ও সময়সীমার জন্য হুমকি। তারা দাবী করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত তদন্ত করে সমস্যার সমাধান করে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে, কুমিল্লার এলজিইডির প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ঠিকাদাররা বলছেন, প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত না হলে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সাধারণ মানুষও ভোগান্তির মুখে পড়বে।
ঠিকাদাররা পুনরায় জোর দিয়ে বলছেন, এই দুর্নীতির প্রভাব শুধু আর্থিক নয়, বরং প্রকল্পের মান এবং সময়সীমার ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। প্রকল্পের বিলম্ব, জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম এবং ঘুষ সংগ্রহের কারণে কুমিল্লার রাস্তা ও ব্রিজ প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।
তাদের মতে, শুধুমাত্র ঘুষের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই প্রথা বন্ধ না হলে কুমিল্লার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মান ও সময়সীমা সবই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















