ঢাকা ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার। মনোহরগঞ্জে সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পিএসএলের বাকি অংশে খেলা হচ্ছে না নাহিদ-মুস্তাফিজের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়মকেই নিয়মে পরিনত করছেন মাদারীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেরোবিতে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আইইএলটিএস পরীক্ষা দিতে আসা তরুণীর লাশ মিলল হোটেলের বাথরুমে বড়লেখা উপজেলা পৌর ছাত্রদল ও বড়লেখা উপজেলা শাখার ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তনু হত্যায় গ্রেপ্তার হাফিজুরের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ বিসিকের টেন্ডার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ! ঘোড়াশালে চাঁদাবাজ মহিউদ্দিনের দাপট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের অভিযোগ
দখলদার চক্রের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কোটি টাকার জমি বেহাত সিলেটে প্রবাসীর সম্পত্তি রক্ষায় জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

সিলেটের সুরমাগেইট এলাকায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক আত্মসাৎ করেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগ উঠেছে, এই ভূমিখেকো চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এবং সম্পত্তি ফেরত চাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী বাংলাদেশি জাফর ছাদেক। তিনি তাঁর বৈধ মালিকানাধীন জমি উদ্ধারে অবশেষে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
নগরীর দরগামহল্লা এলাকার মরহুম মোহাম্মদ আলীর ছেলে জাফর ছাদেক দীর্ঘদিন ধরে জার্মানিতে প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। দেশে ফিরে এসে তিনি আবিষ্কার করেন, তাঁর ভোগ দখলে থাকা মূল্যবান ভূমি বেহাত হয়ে গেছে। নিজেকে ‘ভূমিখেকো’ চক্রের হুমকী থেকে রক্ষা করতে এবং নিজের সম্পত্তি ফিরে পেতে তিনি আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
জেলা প্রশাসক বরাবর গত ১৯ অক্টোবর দাখিল করা লিখিত অভিযোগে জাফর ছাদেক উল্লেখ করেন, তিনি ১৯৮৪ সালে সদর উপজেলাধীন আটগাঁও মৌজায় (জেএল নং ৬৭, খতিয়ান নং ১৭৮৮/২) মোট ১১ দাগের (দাগ নং ১০, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৭, ২৯, ৩০) ভূমি বৈধভাবে ক্রয় করেন। তিনি এই জমি নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। এছাড়া, তিনি আরও দুটি পৃথক দলিলের মাধ্যমে (১১২৭/৮৭ নং দলিল ও ৪৮১৪/৯০ নং দলিল) যথাক্রমে ছালেমা খাতুন এবং রজন সিং ও হেমন্ত সিং-এর কাছ থেকেও জমি ক্রয় করেন।
কিন্তু, প্রবাসীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী মহল ধীরে ধীরে তার সম্পত্তিতে ভাগ বসানো শুরু করে।
ক্রয়কৃত ভূমির প্রায় ২০ বছর পর ২০০৪ সালে সুরমা গেইট এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা মখলিছুর রহমান গং জোরপূর্বক তাঁর কেয়ারটেকারকে মারধর করে দলিলের ২৪ ও ২৯ নং দাগের জায়গা দখল করে নেয়।
১৭৮৮ নং খতিয়ানের অপর একটি দলিলে ক্রয়কৃত ২৮ নং দাগের ওপর দিয়ে মখলিছুর রহমান গং জোরপূর্বক পূর্ব-পশ্চিম লম্বা রাস্তা নির্মাণ করে। এই রাস্তার কারণে ওই দাগের উত্তর অংশের জায়গায় খতিয়ান নং ১৫৭৫, ১৭২৬, ১৮৭৯-এর দলিল অনুযায়ী ৪০ শতক এবং বিএস রেকর্ডে ৩৪ শতক জায়গা দখল হয়ে যায়।
জাফর ছাদেকের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁর মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাগের ভূমি (২৪, ২৯, ২৭ এবং ২৮) এখন সম্পূর্ণভাবে প্রভাবশালী চক্রের দখলে।
ভূমি রক্ষার সমস্ত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ভয়ভীতি
জাফর ছাদেক দৃঢ়ভাবে দাবি করেন যে, বেহাত হওয়া এই সম্পত্তির নামজারী, বিএস রেকর্ডের কাগজপত্র এবং সরকারের সকল খাজনা নিয়মিতভাবে তাঁর নামেই পরিশোধিত আছে। অর্থাৎ, সম্পত্তিটির বৈধ মালিকানা সম্পূর্ণরূপে তাঁর। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর সম্পত্তি বুঝে নিতে পারছেন না।
নিজের জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে জাফর ছাদেক প্রতিনিয়ত হুমকীর সম্মুখীন হচ্ছেন। ভূমিখেকো চক্রের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলেও তারা তাঁকে বারবার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেছেন, জায়গায় দখল নিতে গেলে দখলদার পক্ষ তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার সরাসরি হুমকি দিচ্ছে।
নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে এই প্রবাসী বাংলাদেশি গত রবিবার (১৬ নভেম্বর) শাহপরাণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যার নম্বর ৮৩৯।
নিজের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা এবং বৈধভাবে ভোগদখলীয় ভূমি বেহাত হওয়া এবং উপর্যুপরি হুমকী দেওয়ায়, জাফর ছাদেক এখন সম্পূর্ণভাবে জেলা প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি জেলা প্রশাসক বরাবর তাঁর আবেদনে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন যেন, তাঁর আবেদন আমলে নিয়ে—সরজমিনে পরিদর্শন পূর্বক অভিজ্ঞ সার্ভেয়ার দ্বারা জায়গাগুলো দখলমুক্ত করে নিজ নামে ফিরে পেতে সহায়তা করা হয়।”ভুক্তভোগী প্রবাসী জাফর ছাদেক আশা করছেন, জেলা প্রশাসক তাঁর আবেদনে দ্রুত সাড়া দেবেন এবং প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্রের কবল থেকে তাঁর কোটি টাকার সম্পত্তি পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করবেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার।

দখলদার চক্রের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কোটি টাকার জমি বেহাত সিলেটে প্রবাসীর সম্পত্তি রক্ষায় জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা

আপডেট সময় ০৯:২৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

সিলেটের সুরমাগেইট এলাকায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক আত্মসাৎ করেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগ উঠেছে, এই ভূমিখেকো চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এবং সম্পত্তি ফেরত চাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী বাংলাদেশি জাফর ছাদেক। তিনি তাঁর বৈধ মালিকানাধীন জমি উদ্ধারে অবশেষে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
নগরীর দরগামহল্লা এলাকার মরহুম মোহাম্মদ আলীর ছেলে জাফর ছাদেক দীর্ঘদিন ধরে জার্মানিতে প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। দেশে ফিরে এসে তিনি আবিষ্কার করেন, তাঁর ভোগ দখলে থাকা মূল্যবান ভূমি বেহাত হয়ে গেছে। নিজেকে ‘ভূমিখেকো’ চক্রের হুমকী থেকে রক্ষা করতে এবং নিজের সম্পত্তি ফিরে পেতে তিনি আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
জেলা প্রশাসক বরাবর গত ১৯ অক্টোবর দাখিল করা লিখিত অভিযোগে জাফর ছাদেক উল্লেখ করেন, তিনি ১৯৮৪ সালে সদর উপজেলাধীন আটগাঁও মৌজায় (জেএল নং ৬৭, খতিয়ান নং ১৭৮৮/২) মোট ১১ দাগের (দাগ নং ১০, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৭, ২৯, ৩০) ভূমি বৈধভাবে ক্রয় করেন। তিনি এই জমি নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। এছাড়া, তিনি আরও দুটি পৃথক দলিলের মাধ্যমে (১১২৭/৮৭ নং দলিল ও ৪৮১৪/৯০ নং দলিল) যথাক্রমে ছালেমা খাতুন এবং রজন সিং ও হেমন্ত সিং-এর কাছ থেকেও জমি ক্রয় করেন।
কিন্তু, প্রবাসীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী মহল ধীরে ধীরে তার সম্পত্তিতে ভাগ বসানো শুরু করে।
ক্রয়কৃত ভূমির প্রায় ২০ বছর পর ২০০৪ সালে সুরমা গেইট এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা মখলিছুর রহমান গং জোরপূর্বক তাঁর কেয়ারটেকারকে মারধর করে দলিলের ২৪ ও ২৯ নং দাগের জায়গা দখল করে নেয়।
১৭৮৮ নং খতিয়ানের অপর একটি দলিলে ক্রয়কৃত ২৮ নং দাগের ওপর দিয়ে মখলিছুর রহমান গং জোরপূর্বক পূর্ব-পশ্চিম লম্বা রাস্তা নির্মাণ করে। এই রাস্তার কারণে ওই দাগের উত্তর অংশের জায়গায় খতিয়ান নং ১৫৭৫, ১৭২৬, ১৮৭৯-এর দলিল অনুযায়ী ৪০ শতক এবং বিএস রেকর্ডে ৩৪ শতক জায়গা দখল হয়ে যায়।
জাফর ছাদেকের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁর মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাগের ভূমি (২৪, ২৯, ২৭ এবং ২৮) এখন সম্পূর্ণভাবে প্রভাবশালী চক্রের দখলে।
ভূমি রক্ষার সমস্ত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ভয়ভীতি
জাফর ছাদেক দৃঢ়ভাবে দাবি করেন যে, বেহাত হওয়া এই সম্পত্তির নামজারী, বিএস রেকর্ডের কাগজপত্র এবং সরকারের সকল খাজনা নিয়মিতভাবে তাঁর নামেই পরিশোধিত আছে। অর্থাৎ, সম্পত্তিটির বৈধ মালিকানা সম্পূর্ণরূপে তাঁর। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর সম্পত্তি বুঝে নিতে পারছেন না।
নিজের জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে জাফর ছাদেক প্রতিনিয়ত হুমকীর সম্মুখীন হচ্ছেন। ভূমিখেকো চক্রের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলেও তারা তাঁকে বারবার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেছেন, জায়গায় দখল নিতে গেলে দখলদার পক্ষ তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার সরাসরি হুমকি দিচ্ছে।
নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে এই প্রবাসী বাংলাদেশি গত রবিবার (১৬ নভেম্বর) শাহপরাণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যার নম্বর ৮৩৯।
নিজের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা এবং বৈধভাবে ভোগদখলীয় ভূমি বেহাত হওয়া এবং উপর্যুপরি হুমকী দেওয়ায়, জাফর ছাদেক এখন সম্পূর্ণভাবে জেলা প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি জেলা প্রশাসক বরাবর তাঁর আবেদনে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন যেন, তাঁর আবেদন আমলে নিয়ে—সরজমিনে পরিদর্শন পূর্বক অভিজ্ঞ সার্ভেয়ার দ্বারা জায়গাগুলো দখলমুক্ত করে নিজ নামে ফিরে পেতে সহায়তা করা হয়।”ভুক্তভোগী প্রবাসী জাফর ছাদেক আশা করছেন, জেলা প্রশাসক তাঁর আবেদনে দ্রুত সাড়া দেবেন এবং প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্রের কবল থেকে তাঁর কোটি টাকার সম্পত্তি পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করবেন।