ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিরোধী দলের নেতারা হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন : মির্জা ফখরুল আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের নতুন তথ্য ফাঁস রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অস্ট্রেলিয়ার ২৫.২৫ মিলিয়ন ডলারের অনুদান ৫ আগস্ট ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণপিটুনিতে চোরের মৃত্যু, পাল্টা হামলায় আহত ৩ প্রতিমন্ত্রীর সই-সিল জাল করে তদবির বাণিজ্য, চক্রের মূলহোতা আটক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী ইরানের কেশম দ্বীপের বেসামরিক ভবনে ৯০০ কেজির বো’মা ফেলেছে মার্কিন বাহিনী সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ৯৬তম জন্মদিন 

ঝালকাঠিতে মনোনয়ন ইস্যুতে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল

বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠি শহরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়নবঞ্চিতদের সমর্থকরা মশাল মিছিল বের করেন। একই সময়ে বিএনপি মনোনীত ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সমর্থকরাও শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি শোডাউনে স্থানীয় রাজনীতিতে বিভাজন আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের সাধনার মোড় থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সমর্থকরা একটি মিছিল বের করেন।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন খলিফা, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি দ্বীন ইসলাম, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. শাওন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি নাজমুল হাসান নয়ন, জেলা যুবদলের মো. সালেহ হাসান, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সুমন সরকারসহ হাজারো নেতাকর্মী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইলেন ভুট্টো বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। কিছু মানুষ এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না—এটা দুঃখজনক। আমি মনোনয়ন পাওয়ার পর জেলার সব নেতার সঙ্গে দেখা করেছি। কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে নিয়েই ধানের শীষের জন্য কাজ করব। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে মশাল মিছিল করাটা দুঃখজনক, এতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন। যা দলের জন্য ক্ষতি বয়ে আনবে।

এদিকে একই সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শহরে পেট্রোলপাম্প এলাকা থেকে জেলা বিএনপির একটি অংশ মশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পূর্বচাঁদকাঠিতে গিয়ে বিক্ষোভ করে। এতে অংশ নেয় ১০০-১৫০ জন নেতাকর্মী। বক্তব্য দেন, ফারুক সরদার ও নয়ন মুন্সী।

বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, ইলেন ভুট্টো অতীতে আন্দোলনে ছিলেন না এবং তিনি ‘সংস্কারপন্থি’ ছিলেন। তাদের দাবি—দলীয় মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা মাহাবুবুল হক নান্নু বা কেন্দ্রীয় নেত্রী জেবা আমিনা খান—এই তিনজনের মধ্যে কাউকে প্রার্থী করা উচিত। ইলেন ভুট্টো জাতীয় পার্টি পরিবারের সদস্য। আন্দোলনের দিন তাকে পাওয়া যায়নি। তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে হবে।

তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মশাল মিছিলকে নৈরাজ্য হিসেবে দেখছে। দলের একটি অংশ বলছে, ইলেন ভুট্টোকে লক্ষ্য করে মশাল মিছিল করা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার পাল্টাপাল্টি মিছিল নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মশাল মিছিল করা সম্পূর্ণ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া। কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নেবে, সবাইকে তা মেনে চলতে হবে। বিভাজন সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু নির্বাচনের আগে এমন অস্থিরতা দলের জন্য ক্ষতিকর। এখন একমাত্র লক্ষ্য—ঐক্য।

উল্লেখ্য, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রীয় নেত্রী জেবা আমিনা আল গাজী এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইলেন ভুট্টো—এই তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল ইলেন ভুট্টোকে প্রার্থী ঘোষণা করলে বঞ্চিত পক্ষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরোধী দলের নেতারা হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন : মির্জা ফখরুল

ঝালকাঠিতে মনোনয়ন ইস্যুতে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল

আপডেট সময় ১২:৪৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠি শহরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়নবঞ্চিতদের সমর্থকরা মশাল মিছিল বের করেন। একই সময়ে বিএনপি মনোনীত ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সমর্থকরাও শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি শোডাউনে স্থানীয় রাজনীতিতে বিভাজন আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের সাধনার মোড় থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সমর্থকরা একটি মিছিল বের করেন।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন খলিফা, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি দ্বীন ইসলাম, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. শাওন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি নাজমুল হাসান নয়ন, জেলা যুবদলের মো. সালেহ হাসান, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সুমন সরকারসহ হাজারো নেতাকর্মী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইলেন ভুট্টো বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। কিছু মানুষ এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না—এটা দুঃখজনক। আমি মনোনয়ন পাওয়ার পর জেলার সব নেতার সঙ্গে দেখা করেছি। কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে নিয়েই ধানের শীষের জন্য কাজ করব। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে মশাল মিছিল করাটা দুঃখজনক, এতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন। যা দলের জন্য ক্ষতি বয়ে আনবে।

এদিকে একই সময়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শহরে পেট্রোলপাম্প এলাকা থেকে জেলা বিএনপির একটি অংশ মশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পূর্বচাঁদকাঠিতে গিয়ে বিক্ষোভ করে। এতে অংশ নেয় ১০০-১৫০ জন নেতাকর্মী। বক্তব্য দেন, ফারুক সরদার ও নয়ন মুন্সী।

বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, ইলেন ভুট্টো অতীতে আন্দোলনে ছিলেন না এবং তিনি ‘সংস্কারপন্থি’ ছিলেন। তাদের দাবি—দলীয় মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা মাহাবুবুল হক নান্নু বা কেন্দ্রীয় নেত্রী জেবা আমিনা খান—এই তিনজনের মধ্যে কাউকে প্রার্থী করা উচিত। ইলেন ভুট্টো জাতীয় পার্টি পরিবারের সদস্য। আন্দোলনের দিন তাকে পাওয়া যায়নি। তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে হবে।

তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মশাল মিছিলকে নৈরাজ্য হিসেবে দেখছে। দলের একটি অংশ বলছে, ইলেন ভুট্টোকে লক্ষ্য করে মশাল মিছিল করা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার পাল্টাপাল্টি মিছিল নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মশাল মিছিল করা সম্পূর্ণ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া। কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নেবে, সবাইকে তা মেনে চলতে হবে। বিভাজন সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু নির্বাচনের আগে এমন অস্থিরতা দলের জন্য ক্ষতিকর। এখন একমাত্র লক্ষ্য—ঐক্য।

উল্লেখ্য, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রীয় নেত্রী জেবা আমিনা আল গাজী এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইলেন ভুট্টো—এই তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল ইলেন ভুট্টোকে প্রার্থী ঘোষণা করলে বঞ্চিত পক্ষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।