ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ রোকেয়া দিবসের মেলা কমিটিতে অভিজ্ঞদের বাদ, কৃষক দলের নাম ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক ভূমি কর্মকর্তার জহুরুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ বাঞ্ছারামপুরে ইউপি সদস্য আবু মুসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েম মিয়া গ্রেপ্তার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় পাবনায় দোয়া মাহফিল শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন নেভানোর মহড়া অনুষ্ঠিত শুরুর আগেই এশিয়া কাপ শেষ বাংলাদেশি তারকার সিলেটে ৪টি আসনে নতুন করে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা টানা ৪ মাস কমলো দেশের পণ্য রপ্তানি বগুড়ার শেরপুরে খরের পালা পুরে ছাই

অবশেষ একাধিক ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত “সোর্স রেজাউল” গ্রেফতার

অবশেষে একাধিক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সোর্স পরিচয় দেওয়া রেজাউল পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। ভিক্ষুদ্ধ জনতা শনিবার বিকেলে সদরের ঘটুরা এলাকার মহাসড়ক থেকে তাকে প্রথমে আটক করে পরে পুলিশে সোপর্দ করে। রেজাউলের বিরুদ্ধে সর্বশেষ এক নারী শ্লীলতাহানী ও নারী নির্যাতনের মামলা করেছিলো।
৪ নভেম্বর ওই নারীকে ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানী ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে রেজাউলের বিরুদ্ধে। পরের দিন ৫ নভেম্বর ওই নারী অভিযোগ করেছেন।
রেজাউল ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ট্যাংকের পাড় ও বোর্ডিং মাঠ এলাকায় দেহ ব্যবসা পরিচালনা করতো এবং নিজেকে কখনো সাংবাদিক, কখনো গোয়েন্দা সংস্থার লোক হিসেবে পরিচয় দিয়ে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করার একাধিক অভিযোগ আছে।
এর আগে ২০২১ সালে ভাতিজিকে ধর্ষণ করে আলোচনায় আসে রেজাউল। তখনও আদালতে মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। ঘটনা সামাল দিতে নিজের ভিটা বাড়ি বেচে ধর্ষিতার পরিবারকে টাকা দিয়ে মামলা উঠিয়ে নেয় রেজাউল। ধর্ষণের ওই ঘটনা সে নিজের মোবাইলে ভিডিও করে রেখেছিলো যা পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে চলে যায়।
তবে সম্প্রতি ঘটনাটি অভিযোগপত্র থেকে ও বিচারপ্রার্থী নারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, রেজাউল ওই নারীর পরিচিতি ছিলো। ওই নারী এতিম হওয়ায় কাজ দিবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলো। ৪ নভেম্বর রেজাউল গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে বলে ওই নারীকে ফোনে তার ট্যাংকের পাড় অফিসে ডেকে নেয়। কথাবার্তা চলার এক পর্যায়ে বাইরে থেকে রেজাউলের এক সহযোগী ঘটুরার সজিব সাটার নামিয়ে দেয়। তখন ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করে সে। এসময় প্রতিবাদ করতে চাইলে রেজাউল ওই নারীকে কিল, ঘুষি মারতে শুরু করে। এই ঘটনার আশপাশের দোকানদারগণ দেখেছেন বলেও বলেন ওই নারী। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতলে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।
এবিষয়ে তদন্তের দায়ীত্বে থাকা শহরের ১ নং পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ নাসির ও সদর থানার ওসি তদন্ত অমিতাভ দুজনই ০৬ নভেম্বর বিকেলে জানিয়েছেন তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কিন্তু একই দিন সন্ধ্যার দিকেই খবর আসে তদন্ত কর্মকর্তা নাসির বিষয়টিকে মিমাংসা করার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে ইনচার্জ নাসির বলেন, মিমাংসার চেষ্টা চালানো হচ্ছে এমন কোনো ঘটনা জানা নেই।
এর মধ্যে ২০২১ সালে ভাতিজিকে ধর্ষণের ঘটনা প্রথম সামনে আসে। এছাড়া বিজয়নগর ইউএনও,র বিরুদ্ধে মোবাইল ছিনতাইয়ের মামলা, কখনো গোয়েন্দা সংস্থা “এনএসআই”, কখনো সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা “ডিজিএফআই”, আবার কখনো গ্যাসফিল্ড অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া, কারও সাথে পান থেকে চুন খসলেই মামলা ঠুকে দেওয়া ও থানায় অভিযোগ করে হয়রানি করা, লিখতে না জানলেও শুধু চাঁদাবাজি করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক সেজে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, বাইকের পিছনে নারী নিয়ে অবাধে ঘুরাফেরা, মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসানোর চেষ্টা ও কম্পিউটার চুরি করা সহ অগণিত অভিযোগ রয়েছে। সংবাদের এই পর্বে তার আরও কিছু অপকর্মের কথা এখানে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার লোক হিসেবে পরিচয় দেওয়া:
নিজের ধান্ধাবাজি পাকাপোক্ত করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয় রেজাউল। বলা হয়, আমি অমুক-তমুক গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার। আমার এক রিপোর্টে অনেক কিছু হয়ে যায়। এক্ষেত্রে কখনো এনএসআই আবার কখনো ডিজিএফআইয়ের পরিচয় দিয়ে থাকে সে। তার ব্যাপারে অনুসন্ধান করলে এরকম বিস্তর তথ্য বের হয়ে আসবে।
মামলাবাজ রেজাউল:
কারও সাথে পান থেকে চুন খসার মতো ঘটনা ঘটলেই মামলা ঠুকে দেয় রেজাউল। থানা ও আদালতে তার করা মামলা ও অভিযোগ যোগ করলে তা একটি বড় সংখ্যা হয়ে দাঁড়াবে। এসব করে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা পয়সা ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে থাকে সে। রেজাউলের অপকর্মের বিষয়ে লেখালিখি করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সুমন নামে এক ব্যক্তি বিরুদ্ধে মামলা করে রেজাউল। ফলে ওই মামলায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর হাজিরা দিতে গেলে আদালত সুমনকে আটক করে।এর আগে ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক একুশে আলো ও দৈনিক তিতাস কণ্ঠ পত্রিকায় “রাজ যোগালি থেকে সাংবাদিক” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করতে যায় সোর্স রেজাউল। যদিও মামলা জমা দেওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যেই মামলার আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক। ওই মামলায় আসামি করা হয়েছিল একুশে আলোর সম্পাদক ও আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ ও পত্রিকাটির প্রতিবেদক হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন সহ মোট ৫ সাংবাদিককে। শুধু তাই নয়, রেজাউল নিজের ভাতিজিকে ধর্ষণের বিষয়ে মনিরুজ্জামান মনির নামে এক সাংবাদিক ফেইসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করায় ওই সাংবাদিক সহ ৩ জনকে আসামি করে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে আবারও মামলা করে রেজাউল। এটি ২০২২ সালের ঘটনা। তার অপকর্মের সংবাদ করায় ২০২৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে সাংবাদিক সীমান্ত খোকনের বিরুদ্ধেও মামলা করে সে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার কাছে তার অভিযোগের কোনো সত্যতা প্রমান করতে পারেনি। এরকম অগণিত ঘটনা আছে যেখানে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয় রেজাউল, এমনকি সাংবাদিকরা তার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলেও মামলা দেওয়া হয় সাংবাদিকদের নামে। আর সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই মাত্রা যে কত ভয়াবহ তা সহজেই অনুমান করা যায়।
রেজাউল যখন চুর ছিল:
চুরির একাধিক অভিযোগের মধ্যে প্রকাশ্যে আসা একটি ঘটনা হলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আলী আজ্জমের অফিস থেকে তার কম্পিউটার চুরি করা। কয়েক বছর আগে বি-বাড়িয়া স্কুল মার্কেটের আলী আজ্জমের অফিস থেকে রেজাউল কম্পিউটার চুরি করেছিলো। চুরিতে ধরা খাওয়ার পর রেজাউলকে গলায় জুতার মালা দিয়ে হাত বেঁধে বি-বাড়িয়া স্কুল মার্কেট থেকে ১ নং পুলিশ ফাড়িতে কয়েক বার আনা নেওয়া করা হয়। এমন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রেজাউলকে ওই ফাড়িতে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে রেজাউলের মা ও ভাই এসে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা চেয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া:
২০১৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পাশে হোটেল খানাবাসমতির সামনে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার সিএনজিতে ইয়াবা আছে বলে পুলিশের এসআই জামিরুলকে তথ্য দেয়। পরে জামিরুল সেই সিএনজিসহ চালককে আটক করে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই সিএনজিতে ইয়াবা পায়নি পুলিশ। ঠিক তখনই মুক্তিযোদ্ধার গাড়ির ড্রাইভার ও পথচারীরা রেজাউলকে গণধোলাই দেয়। তখন রেজাউলকে বাঁচাতে এসআই জামিরুল এগিয়ে এলে তোপের মুখে পড়েন তিনিও। এ ঘটনায় বিব্রতবোধ করে অভিযুক্তদের নিকট ঘটনাস্থলেই ক্ষমা চেয়েছিলেন জামিরুল। অন্যান্য ঘটনার মত গণধোলাইয়ের এই ঘটনার ভিডিওটিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
অপকর্মে অপ্রতিরোধ্য রেজাউল:
শুধু তাই নয়, নির্মাণ শ্রমিক থেকে হঠাৎ করেই সে হয়ে উঠে সাংবাদিক। শার্ট-প্যান্ট ও কটি পরে বাহারি চশমায় অন্যরূপে আবির্ভূত হয় সে। মোটরসাইকেলের সামনে ‘প্রেস’ লিখে দাবড়িয়ে বেড়ায় জেলার এ মাথা-ও মাথা পর্যন্ত। কখনো বিজয়নগর, কখনো কসবা কিংবা নাসিরনগর। বাদ যায়নি বাঞ্ছারামপুর কিংবা নবীনগরও। আখাউড়া উপজেলায় যাতায়াত তো সপ্তাহের প্রায় ৫ দিনই, এর অবশ্য বিশেষ কারণও আছে। ২০২০ সালে বিজয়নগরের পাহাড়পুর ইউনিয়নে সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলো রেজাউল। সেখানে প্রকল্পের অনিয়ম ব্যাখ্যা করতে না পারায় গণরোষের শিকার হয়ে উপরি পেয়েছে গণধোলাই। অনুমোদিত কিংবা অঅনুমোদিত- যেখানেই গ্যাসের পাইপ লাইনের কাজ চলে সেখানেই হাজির রেজাউল। সাংবাদিকতার দাপট ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে কামাই রোজগারের চেষ্টায় থাকে রেজাউল। এভাবে কয়েকটি ঘটনার পর গ্যাসের ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট লোকদের গণধোলাইও খেয়েছে সে। গণধোলাই খেয়ে আরও তেতে উঠেছে “ক্যান্সার রেজাউল”। উত্তর সুহিলপুর এলাকার এক নিরপরাধ ছেলেকে পুলিশের কয়েক অসাধু সদস্যের সাথে যোগসাজশে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে রেজাউল মিয়ার বিরুদ্ধে। একসময়ের নির্মাণকাজের সহযোগীকেও ছাড় দেয়নি রেজাউল। রাজযোগালীর কাজ করার সময় রেজাউল তার সহযোগীদের একের পর এক নাজেহাল করেছে। কয়েকটি পরিবারের কাছ থেকে টাকাও আদায় করেছেন রেজাউল। টাকা না দিলে তাদের ঘরে লুকিয়ে ইয়াবা রেখে তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। সর্বশেষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় বিশেষ লাভ হয় রেজাউল ও তার লাইনের পুলিশের লোকজনের। বিভিন্ন গ্রামের নিরীহ জনসাধারণকে ফাঁসিয়ে দেয়ার কথা বলে, ফুটেজে তাদের ছবি আছে বলে প্রচুর মানুষকে হয়রানি করেছে, টাকাও কামিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার শেরপুরেও পড়েছে রেজাউলের থাবা। বাকাইল গ্রাম থেকে তাকে বের করে দেওয়ার পর সে নিবাস গড়েছে শহরের শেরপুরে। সুযোগ পেলেই রেজাউল রিপোর্ট করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে মানুষকে। শেরপুরের গুলজার খাঁনসহ বেশ কয়েকজন এই রেজাউলের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও সাংবাদিকতার দাপট দেখিয়ে টাকা আদায় চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। ২০২১ সালের শুরুর দিকে গুলজার খানের বোনের বাড়িতে গিয়ে সেখানে অবৈধ গ্যাসলাইন চলছে বলে টাকা দাবি করে রেজাউল। ওই গৃহকর্ত্রী তার সাথে পরে যোগাযোগ করবেন বললে রেজাউল চলে আসে। পরে গুলজার খান রেজাউলকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রেজাউল বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা করে। এ সময় গুলজার খান ক্ষিপ্ত হলে এলাকার কয়েকজন রেজাউলকে মারধর থেকে রক্ষা করেন।
কে এই রেজাউল?:
পূর্বে বাপ-দাদার বাড়ি ছিল পৌর এলাকার ভাদুঘর এলাকায়। বাবা শহিদ মিয়াও যেহেতু সোর্স ছিল তাই তার কর্মকাণ্ডেও ভাদুঘর এলাকার মানুষ ছিল অতিষ্ঠ। রেজাউলের মতোই এমন কর্মকাণ্ড করতে থাকায় পুড়ো পরিবারকে ভাদুঘর থেকে এলাকাবাসী বিতাড়িত করে রেজাউলদের। পরে তার বাবা শহিদ মিয়া বাড়ি করে শহরের কান্দিপাড়া এলাকায়। একই কারণে কান্দিপাড়া থেকেও পুড়ো পরিবারকে এলাকাবাসী বিতাড়িত করে তাদের। উপায় না পেয়ে তার বাবা পরবর্তীতে বাড়ি করে সদরের মজলিশপুর ইউনিয়নের বাকাইল গ্রামে। এখন তার বাবা জীবিত নেই কিন্তু বাবার মতো রেজাউলের একই রকম কর্মকাণ্ডের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে এখন রেজাউলকে তার পুড়ো পরিবারসহ বিতাড়িত করেছে এলাকাবাসী। কথিত সোর্স বা দালাল হিসেবে রেজাউলের পিতা মৃত সহিদ মিয়া যেভাবে গ্রামবাসীকে জ্বালিয়েছেন। সহিদ মিয়া ছেলেকে সেভাবেই তৈরি করেছেন। মৃত সহিদ মিয়া দেখে যেতে পারেন নি তার ছেলেকে শেষ পর্যন্ত গ্রামচ্যুত করা হয়েছে। পড়াশুনা না করে রেজাউল ছোট্ট বয়সেই যোগ দেয় নির্মাণ কাজের সহযোগী হিসেবে (যোগালি)। পরবর্তীতে রাজমিস্ত্রী হিসেবে সুনাম কিনলেও মূলত যোগালি হিসেবেই তিনি কাজ করতেন। এরপরের অধ্যায় অনেক ঘটনাবহুল। ঘটনার ধারাবাহিকতায় ত্যক্ত-বিরক্ত ও নিরুপায় হয়ে বাকাইল গ্রামবাসীকে তাকে গ্রামচ্যুত করেছে। সেই থেকে তার আবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার শেরপুরে। শেরপুরের মানুষও স্বস্তিতে নেই রেজাউলের ধান্ধায়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ

অবশেষ একাধিক ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত “সোর্স রেজাউল” গ্রেফতার

আপডেট সময় ০২:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

অবশেষে একাধিক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সোর্স পরিচয় দেওয়া রেজাউল পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। ভিক্ষুদ্ধ জনতা শনিবার বিকেলে সদরের ঘটুরা এলাকার মহাসড়ক থেকে তাকে প্রথমে আটক করে পরে পুলিশে সোপর্দ করে। রেজাউলের বিরুদ্ধে সর্বশেষ এক নারী শ্লীলতাহানী ও নারী নির্যাতনের মামলা করেছিলো।
৪ নভেম্বর ওই নারীকে ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানী ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে রেজাউলের বিরুদ্ধে। পরের দিন ৫ নভেম্বর ওই নারী অভিযোগ করেছেন।
রেজাউল ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ট্যাংকের পাড় ও বোর্ডিং মাঠ এলাকায় দেহ ব্যবসা পরিচালনা করতো এবং নিজেকে কখনো সাংবাদিক, কখনো গোয়েন্দা সংস্থার লোক হিসেবে পরিচয় দিয়ে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করার একাধিক অভিযোগ আছে।
এর আগে ২০২১ সালে ভাতিজিকে ধর্ষণ করে আলোচনায় আসে রেজাউল। তখনও আদালতে মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। ঘটনা সামাল দিতে নিজের ভিটা বাড়ি বেচে ধর্ষিতার পরিবারকে টাকা দিয়ে মামলা উঠিয়ে নেয় রেজাউল। ধর্ষণের ওই ঘটনা সে নিজের মোবাইলে ভিডিও করে রেখেছিলো যা পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে চলে যায়।
তবে সম্প্রতি ঘটনাটি অভিযোগপত্র থেকে ও বিচারপ্রার্থী নারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, রেজাউল ওই নারীর পরিচিতি ছিলো। ওই নারী এতিম হওয়ায় কাজ দিবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলো। ৪ নভেম্বর রেজাউল গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে বলে ওই নারীকে ফোনে তার ট্যাংকের পাড় অফিসে ডেকে নেয়। কথাবার্তা চলার এক পর্যায়ে বাইরে থেকে রেজাউলের এক সহযোগী ঘটুরার সজিব সাটার নামিয়ে দেয়। তখন ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করে সে। এসময় প্রতিবাদ করতে চাইলে রেজাউল ওই নারীকে কিল, ঘুষি মারতে শুরু করে। এই ঘটনার আশপাশের দোকানদারগণ দেখেছেন বলেও বলেন ওই নারী। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতলে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।
এবিষয়ে তদন্তের দায়ীত্বে থাকা শহরের ১ নং পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ নাসির ও সদর থানার ওসি তদন্ত অমিতাভ দুজনই ০৬ নভেম্বর বিকেলে জানিয়েছেন তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কিন্তু একই দিন সন্ধ্যার দিকেই খবর আসে তদন্ত কর্মকর্তা নাসির বিষয়টিকে মিমাংসা করার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে ইনচার্জ নাসির বলেন, মিমাংসার চেষ্টা চালানো হচ্ছে এমন কোনো ঘটনা জানা নেই।
এর মধ্যে ২০২১ সালে ভাতিজিকে ধর্ষণের ঘটনা প্রথম সামনে আসে। এছাড়া বিজয়নগর ইউএনও,র বিরুদ্ধে মোবাইল ছিনতাইয়ের মামলা, কখনো গোয়েন্দা সংস্থা “এনএসআই”, কখনো সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা “ডিজিএফআই”, আবার কখনো গ্যাসফিল্ড অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া, কারও সাথে পান থেকে চুন খসলেই মামলা ঠুকে দেওয়া ও থানায় অভিযোগ করে হয়রানি করা, লিখতে না জানলেও শুধু চাঁদাবাজি করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক সেজে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, বাইকের পিছনে নারী নিয়ে অবাধে ঘুরাফেরা, মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসানোর চেষ্টা ও কম্পিউটার চুরি করা সহ অগণিত অভিযোগ রয়েছে। সংবাদের এই পর্বে তার আরও কিছু অপকর্মের কথা এখানে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার লোক হিসেবে পরিচয় দেওয়া:
নিজের ধান্ধাবাজি পাকাপোক্ত করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয় রেজাউল। বলা হয়, আমি অমুক-তমুক গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার। আমার এক রিপোর্টে অনেক কিছু হয়ে যায়। এক্ষেত্রে কখনো এনএসআই আবার কখনো ডিজিএফআইয়ের পরিচয় দিয়ে থাকে সে। তার ব্যাপারে অনুসন্ধান করলে এরকম বিস্তর তথ্য বের হয়ে আসবে।
মামলাবাজ রেজাউল:
কারও সাথে পান থেকে চুন খসার মতো ঘটনা ঘটলেই মামলা ঠুকে দেয় রেজাউল। থানা ও আদালতে তার করা মামলা ও অভিযোগ যোগ করলে তা একটি বড় সংখ্যা হয়ে দাঁড়াবে। এসব করে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা পয়সা ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে থাকে সে। রেজাউলের অপকর্মের বিষয়ে লেখালিখি করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সুমন নামে এক ব্যক্তি বিরুদ্ধে মামলা করে রেজাউল। ফলে ওই মামলায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর হাজিরা দিতে গেলে আদালত সুমনকে আটক করে।এর আগে ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক একুশে আলো ও দৈনিক তিতাস কণ্ঠ পত্রিকায় “রাজ যোগালি থেকে সাংবাদিক” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করতে যায় সোর্স রেজাউল। যদিও মামলা জমা দেওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যেই মামলার আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক। ওই মামলায় আসামি করা হয়েছিল একুশে আলোর সম্পাদক ও আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ ও পত্রিকাটির প্রতিবেদক হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন সহ মোট ৫ সাংবাদিককে। শুধু তাই নয়, রেজাউল নিজের ভাতিজিকে ধর্ষণের বিষয়ে মনিরুজ্জামান মনির নামে এক সাংবাদিক ফেইসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করায় ওই সাংবাদিক সহ ৩ জনকে আসামি করে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে আবারও মামলা করে রেজাউল। এটি ২০২২ সালের ঘটনা। তার অপকর্মের সংবাদ করায় ২০২৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে সাংবাদিক সীমান্ত খোকনের বিরুদ্ধেও মামলা করে সে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার কাছে তার অভিযোগের কোনো সত্যতা প্রমান করতে পারেনি। এরকম অগণিত ঘটনা আছে যেখানে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয় রেজাউল, এমনকি সাংবাদিকরা তার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলেও মামলা দেওয়া হয় সাংবাদিকদের নামে। আর সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই মাত্রা যে কত ভয়াবহ তা সহজেই অনুমান করা যায়।
রেজাউল যখন চুর ছিল:
চুরির একাধিক অভিযোগের মধ্যে প্রকাশ্যে আসা একটি ঘটনা হলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আলী আজ্জমের অফিস থেকে তার কম্পিউটার চুরি করা। কয়েক বছর আগে বি-বাড়িয়া স্কুল মার্কেটের আলী আজ্জমের অফিস থেকে রেজাউল কম্পিউটার চুরি করেছিলো। চুরিতে ধরা খাওয়ার পর রেজাউলকে গলায় জুতার মালা দিয়ে হাত বেঁধে বি-বাড়িয়া স্কুল মার্কেট থেকে ১ নং পুলিশ ফাড়িতে কয়েক বার আনা নেওয়া করা হয়। এমন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রেজাউলকে ওই ফাড়িতে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে রেজাউলের মা ও ভাই এসে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা চেয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া:
২০১৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পাশে হোটেল খানাবাসমতির সামনে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার সিএনজিতে ইয়াবা আছে বলে পুলিশের এসআই জামিরুলকে তথ্য দেয়। পরে জামিরুল সেই সিএনজিসহ চালককে আটক করে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই সিএনজিতে ইয়াবা পায়নি পুলিশ। ঠিক তখনই মুক্তিযোদ্ধার গাড়ির ড্রাইভার ও পথচারীরা রেজাউলকে গণধোলাই দেয়। তখন রেজাউলকে বাঁচাতে এসআই জামিরুল এগিয়ে এলে তোপের মুখে পড়েন তিনিও। এ ঘটনায় বিব্রতবোধ করে অভিযুক্তদের নিকট ঘটনাস্থলেই ক্ষমা চেয়েছিলেন জামিরুল। অন্যান্য ঘটনার মত গণধোলাইয়ের এই ঘটনার ভিডিওটিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
অপকর্মে অপ্রতিরোধ্য রেজাউল:
শুধু তাই নয়, নির্মাণ শ্রমিক থেকে হঠাৎ করেই সে হয়ে উঠে সাংবাদিক। শার্ট-প্যান্ট ও কটি পরে বাহারি চশমায় অন্যরূপে আবির্ভূত হয় সে। মোটরসাইকেলের সামনে ‘প্রেস’ লিখে দাবড়িয়ে বেড়ায় জেলার এ মাথা-ও মাথা পর্যন্ত। কখনো বিজয়নগর, কখনো কসবা কিংবা নাসিরনগর। বাদ যায়নি বাঞ্ছারামপুর কিংবা নবীনগরও। আখাউড়া উপজেলায় যাতায়াত তো সপ্তাহের প্রায় ৫ দিনই, এর অবশ্য বিশেষ কারণও আছে। ২০২০ সালে বিজয়নগরের পাহাড়পুর ইউনিয়নে সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলো রেজাউল। সেখানে প্রকল্পের অনিয়ম ব্যাখ্যা করতে না পারায় গণরোষের শিকার হয়ে উপরি পেয়েছে গণধোলাই। অনুমোদিত কিংবা অঅনুমোদিত- যেখানেই গ্যাসের পাইপ লাইনের কাজ চলে সেখানেই হাজির রেজাউল। সাংবাদিকতার দাপট ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে কামাই রোজগারের চেষ্টায় থাকে রেজাউল। এভাবে কয়েকটি ঘটনার পর গ্যাসের ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট লোকদের গণধোলাইও খেয়েছে সে। গণধোলাই খেয়ে আরও তেতে উঠেছে “ক্যান্সার রেজাউল”। উত্তর সুহিলপুর এলাকার এক নিরপরাধ ছেলেকে পুলিশের কয়েক অসাধু সদস্যের সাথে যোগসাজশে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে রেজাউল মিয়ার বিরুদ্ধে। একসময়ের নির্মাণকাজের সহযোগীকেও ছাড় দেয়নি রেজাউল। রাজযোগালীর কাজ করার সময় রেজাউল তার সহযোগীদের একের পর এক নাজেহাল করেছে। কয়েকটি পরিবারের কাছ থেকে টাকাও আদায় করেছেন রেজাউল। টাকা না দিলে তাদের ঘরে লুকিয়ে ইয়াবা রেখে তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। সর্বশেষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় বিশেষ লাভ হয় রেজাউল ও তার লাইনের পুলিশের লোকজনের। বিভিন্ন গ্রামের নিরীহ জনসাধারণকে ফাঁসিয়ে দেয়ার কথা বলে, ফুটেজে তাদের ছবি আছে বলে প্রচুর মানুষকে হয়রানি করেছে, টাকাও কামিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার শেরপুরেও পড়েছে রেজাউলের থাবা। বাকাইল গ্রাম থেকে তাকে বের করে দেওয়ার পর সে নিবাস গড়েছে শহরের শেরপুরে। সুযোগ পেলেই রেজাউল রিপোর্ট করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে মানুষকে। শেরপুরের গুলজার খাঁনসহ বেশ কয়েকজন এই রেজাউলের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও সাংবাদিকতার দাপট দেখিয়ে টাকা আদায় চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। ২০২১ সালের শুরুর দিকে গুলজার খানের বোনের বাড়িতে গিয়ে সেখানে অবৈধ গ্যাসলাইন চলছে বলে টাকা দাবি করে রেজাউল। ওই গৃহকর্ত্রী তার সাথে পরে যোগাযোগ করবেন বললে রেজাউল চলে আসে। পরে গুলজার খান রেজাউলকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রেজাউল বিষয়টি বুঝানোর চেষ্টা করে। এ সময় গুলজার খান ক্ষিপ্ত হলে এলাকার কয়েকজন রেজাউলকে মারধর থেকে রক্ষা করেন।
কে এই রেজাউল?:
পূর্বে বাপ-দাদার বাড়ি ছিল পৌর এলাকার ভাদুঘর এলাকায়। বাবা শহিদ মিয়াও যেহেতু সোর্স ছিল তাই তার কর্মকাণ্ডেও ভাদুঘর এলাকার মানুষ ছিল অতিষ্ঠ। রেজাউলের মতোই এমন কর্মকাণ্ড করতে থাকায় পুড়ো পরিবারকে ভাদুঘর থেকে এলাকাবাসী বিতাড়িত করে রেজাউলদের। পরে তার বাবা শহিদ মিয়া বাড়ি করে শহরের কান্দিপাড়া এলাকায়। একই কারণে কান্দিপাড়া থেকেও পুড়ো পরিবারকে এলাকাবাসী বিতাড়িত করে তাদের। উপায় না পেয়ে তার বাবা পরবর্তীতে বাড়ি করে সদরের মজলিশপুর ইউনিয়নের বাকাইল গ্রামে। এখন তার বাবা জীবিত নেই কিন্তু বাবার মতো রেজাউলের একই রকম কর্মকাণ্ডের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে এখন রেজাউলকে তার পুড়ো পরিবারসহ বিতাড়িত করেছে এলাকাবাসী। কথিত সোর্স বা দালাল হিসেবে রেজাউলের পিতা মৃত সহিদ মিয়া যেভাবে গ্রামবাসীকে জ্বালিয়েছেন। সহিদ মিয়া ছেলেকে সেভাবেই তৈরি করেছেন। মৃত সহিদ মিয়া দেখে যেতে পারেন নি তার ছেলেকে শেষ পর্যন্ত গ্রামচ্যুত করা হয়েছে। পড়াশুনা না করে রেজাউল ছোট্ট বয়সেই যোগ দেয় নির্মাণ কাজের সহযোগী হিসেবে (যোগালি)। পরবর্তীতে রাজমিস্ত্রী হিসেবে সুনাম কিনলেও মূলত যোগালি হিসেবেই তিনি কাজ করতেন। এরপরের অধ্যায় অনেক ঘটনাবহুল। ঘটনার ধারাবাহিকতায় ত্যক্ত-বিরক্ত ও নিরুপায় হয়ে বাকাইল গ্রামবাসীকে তাকে গ্রামচ্যুত করেছে। সেই থেকে তার আবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার শেরপুরে। শেরপুরের মানুষও স্বস্তিতে নেই রেজাউলের ধান্ধায়।