গণপূর্ত অধিদপ্তর দেশের সরকারি অবকাঠামো উন্নয়ন, ভবন নির্মাণ ও সরকারি দপ্তরসমূহের টেকসই স্থাপনা নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই বিশাল দায়িত্বের নেতৃত্বে বর্তমানে রয়েছেন একজন নিষ্ঠাবান, সৎ ও দূরদর্শী প্রকৌশলী – মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী। তার দক্ষ নেতৃত্বে গণপূর্ত অধিদপ্তর এখন নতুন গতি ও দিকনির্দেশনা পেয়েছে, যা সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানোন্নয়নের নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে।
শিক্ষাগত উৎকর্ষ ও প্রেরণার গল্প : ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার এক সম্মানিত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী শৈশব থেকেই মেধা ও নৈতিকতায় অনন্য ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি প্রকৌশল বিদ্যার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন, যা পরবর্তীতে তাকে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যায়। ১৯৯২ সালে তিনি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমান কুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনেই তিনি ছিলেন সৎ, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল। কেবল দেশীয় শিক্ষা নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তিনি নিজের দক্ষতা বাড়ান। ২০১৫ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতনামা গড়হধংয টহরাবৎংরঃু থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে তিনি আধুনিক নির্মাণব্যবস্থা, টেকসই নকশা ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন।
কর্মজীবনের শুরু ও উত্থান : ১৯৯৯ সালে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা ও দায়িত্ববোধের জন্য দ্রুতই তিনি প্রশাসনের নজরে আসেন। ২০১২ সালে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পান, যেখানে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর তার নেতৃত্বে শুরু হয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়া। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় দূরদৃষ্টি তাকে অধিদপ্তরের অন্যতম সফল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত করে। অবশেষে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সরকার তাকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেয় – যা ছিল তার কর্মজীবনের স্বীকৃতি ও অর্জনের এক অনন্য মুহূর্ত।
প্রকৌশল দক্ষতার সঙ্গে মানবিক নেতৃত্ব : সহকর্মীরা বলেন, খালেকুজ্জামান চৌধুরী একজন “ংরষবহঃ ঢ়বৎভড়ৎসবৎ” – যিনি প্রচার নয়, কাজের মাধ্যমেই নিজেকে প্রমাণ করতে ভালোবাসেন। তার নেতৃত্বে অধিদপ্তরে যে তিনটি বিষয় স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে তা হলো- সততা, শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা। তিনি বিশ্বাস করেন, সরকারি অর্থে পরিচালিত প্রতিটি প্রকল্পের প্রতিটি টাকাই জনগণের কল্যাণে ব্যয় হতে হবে। তাই প্রকল্প অনুমোদন, দরপত্র মূল্যায়ন বা নির্মাণ তদারক-সব ক্ষেত্রেই তিনি কঠোরভাবে নিয়ম ও মান অনুসরণে গুরুত্ব দেন।
গণপূর্তে ডিজিটাল স্বচ্ছতার সূচনা : তার নেতৃত্বে গণপূর্ত অধিদপ্তরে চালু হয়েছে ই-পেমেন্ট, অনলাইন দরপত্র ও প্রকল্প মনিটরিং সিস্টেম, যা অতীতের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অনিয়ম অনেকাংশে দূর করেছে। আগে যেখানে প্রকল্প অগ্রগতির প্রতিবেদন হাতে হাতে জমা হতো, এখন সেটি রিয়েল-টাইমে অনলাইনে দেখা যায়। এতে সময়, অর্থ ও শ্রম তিনটিই বাঁচছে এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় এসেছে আধুনিকতা।
সবুজ নির্মাণের ধারণা : অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সময় তিনি বুঝতে পারেন, উন্নয়ন মানে শুধু কংক্রিট নয়-টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নই আসল লক্ষ্য। ফলে দেশে ফিরে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের নকশা ও পরিকল্পনায় “এৎববহ ঈড়হংঃৎঁপঃরড়হ” ধারণা যুক্ত করেন। বর্তমানে সরকারি ভবন নির্মাণে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সৌরশক্তি ব্যবহার ও প্রাকৃতিক আলো-নির্ভর নকশার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে, যা তার উদ্যোগেই শুরু হয়।
প্রকৌশলীদের প্রেরণাদাতা : খালেকুজ্জামান চৌধুরী শুধু প্রশাসক নন, তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য তিনি একজন অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি নিয়মিত অফিস ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ আয়োজন করেন, যাতে নবীন প্রকৌশলীরা শুধু কারিগরি নয়, নৈতিক ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতাতেও পরিপূর্ণ হয়ে ওঠেন। তিনি প্রায়ই বলেন “একজন প্রকৌশলী শুধু কাঠামো নির্মাণ করেন না, তিনি জাতি গঠনের স্থপতি।” তার এই বিশ্বাসই গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রতিটি প্রকল্পে প্রতিফলিত হচ্ছে।
সততা ও জনসেবায় অবিচল : যেকোনো সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি রোধে তিনি পরিচিত “তবৎড় ঞড়ষবৎধহপব চড়ষরপু” অনুসরণ করেন। তিনি নিজে নিয়মিত প্রকল্প পরিদর্শনে যান, কাজের মান যাচাই করেন, ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। ফলে অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে একটি নতুন অপপড়ঁহঃধনরষরঃু ঈঁষঃঁৎব তৈরি হয়েছে। তার সময়কালে একাধিক প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে।
উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা : দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের জন্য একটি সুসংগঠিত রোডম্যাপ তৈরি করেছেন, যেখানে টেকসই ও স্বচ্ছ উন্নয়নকে মূল লক্ষ্য ধরা হয়েছে। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে- সব প্রকল্পে ডিজিটাল মনিটরিং বাধ্যতামূলক করা। নির্মাণে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করা। দেশব্যাপী মডেল গণপূর্ত অফিস স্থাপন। প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম সম্প্রসারণ। তিনি মনে করেন, “উন্নয়ন মানে শুধু স্থাপনা নয়-মানুষের জীবনে স্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।”
প্রকৌশল সমাজে এক উজ্জ্বল নাম : মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী ওহংঃরঃঁঃরড়হ ড়ভ ঊহমরহববৎং, ইধহমষধফবংয (ওঊই)-এর আজীবন ফেলো। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রকৌশল সম্মেলনগুলোতেও বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
দেশের প্রকৌশল খাতের আধুনিকায়নে তার চিন্তা-দর্শন ও কার্যক্রম এখন এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সহকর্মীদের ভাষায়, তিনি “একজন নীতিনিষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি কখনো নীতির সঙ্গে আপস করেন না, কিন্তু সহকর্মীদের পাশে থাকেন সর্বদা।”
দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার প্রতীক : দীর্ঘ কর্মজীবনে কখনো নিজের পদমর্যাদা নয়, দেশের স্বার্থকেই বড় করে দেখেছেন মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী। তিনি মনে করেন, প্রতিটি সরকারি প্রকল্পই জনগণের করের অর্থে পরিচালিত-তাই এর প্রতিটি ইট-পাথরেই থাকা উচিত দায়িত্ব ও সততার ছাপ। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরকে এমন এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ করছেন, যেখানে দক্ষতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করবে।
আজকের গণপূর্ত অধিদপ্তর কেবল ভবন নির্মাণের সংস্থা নয়, বরং একটি আধুনিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, যার নেতৃত্বে রয়েছেন একজন দূরদর্শী, সৎ ও মানবিক প্রকৌশলী – মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে সরকারি নির্মাণ কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন- “আমরা যদি সৎভাবে কাজ করি, জনগণ আমাদের শ্রদ্ধা করবে; আর সেটিই প্রকৃত পুরস্কার।” দেশের উন্নয়নযাত্রায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রতিটি পদক্ষেপে আজ প্রতিফলিত হচ্ছে সেই সততা, নিষ্ঠা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ছায়া-যার মূল কারিগর মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী।
সংবাদ শিরোনাম ::
গণপূর্তের নবযুগের রূপকার প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ১১:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
- ৬৭৭ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ




















