ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

পেঁপে চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য কলেজ ছাত্র ইসমাইলের দেড় লাখ টাকা ব্যয় করে বছরে ১০ লাখ টাকা আয়

  • ভোলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৯:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৯৯ বার পড়া হয়েছে

মাত্র দেড় লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ১০ লক্ষ টাকার পেপে বিক্রি করেছেন ভোলার কলেজ ছাত্র মোঃ ইসমাইল হোসেন। তার এই সাফল্য দেখে স্থানীয় অনেক তরুন শিক্ষিত যুবক এখন পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের পাকার মাথা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে ছায়াঢাকা শান্ত সুনিবিড় গ্রাম মাঝিকান্দি। এই গ্রামের কৃষক মিলন মাঝির ছেলে মোঃ ইসমাইল হোসেন। স্থানীয় নাজিউর রহমান কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র তিনি। শৈশব থেকেই পিতার পাশাপাশি কৃষি কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। গত বছর তার পিতা দুই একর জমি কিনেন মাছের ঘের করার জন্য। স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এ.বি.এম. মোস্তফা কামাল এর পরামর্শে ওই ঘেরের পাড়ে ইসমাইল করেছেন পেঁপে চাষ। আর প্রথমবারেই বাজিমাত করেছে ইসমাইল হোসেন।
ইসমাইল জানান, ছয় ফুট পরপর পেঁপে চারা লাগিয়েছেন। তিনি প্রতিটি পেঁপে চারা ৫০ টাকা দরে ৪০০ চারা কিনেছেন। চারা গাছের দাম সেই সাথে সার, কীটনাশক, শ্রমিক সব মিলিয়ে ব্যয় করেছেন এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। চারা রোপনের ছয় মাস পর থেকে পেপে বিক্রি শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন ছয় লক্ষ ৭০ হাজার টাকার পেঁপে। আরও তিন থেকে চার লাখ টাকার পেপে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

ইসমাইল জানান, তিনি সবজি হিসেবে কাঁচা পেঁপ বিক্রি করেন না। ফল হিসেবে পাকা পেঁপে বিক্রি করেন। প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে এখন বাগান থেকে কিনে নেন ব্যবসায়ীরা। শুরুতে ১১০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করেছিলেন। ইসমাইলের বাবা মিলন মাঝি জানান, পেঁপে চাষ করতে বিশেষ কোন পরিশ্রম করতে হয়না। পড়া লেখার পাশাপাশি এই কাজ করতে ইসমাইলের কোন সমস্যা হয় না। বরং লেখা পড়াসহ সকল খরচ এখান ছেলে নিজেই চালাচ্ছে। মিলন মাঝি ছেলের এই সাফল্যে ভীষণ খুশি।

এদিকে ইসমাইলের পেঁপে বাগান দেখতে প্রতিনিয়ত লোকজন আসে। এলাকার শিক্ষিত তরুণ যুবকরা ইসমাইলের সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেরাও পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। অনেকেই ইসমাইলের মাধ্যমে ঝালকাঠি, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে উন্নত মানের পেঁপে চারা আনাচ্ছে। ইসমাইল তাদেরকে পরামর্শ দিচ্ছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানান, পেঁপে চাষ করে অভূতপূর্ব সাফল্য পাওয়ায় এলাকার শিক্ষিত যুবকদের কাছে ইসমাইল এখন তারুণ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তার সাফল্য দেখে এলাকার আরও অনেক যুবক পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তিনি আরও জানান, এক সময় জেলার বাইরে থেকে দ্বীপজেলা ভোলায় পেঁপেসহ অন্যান্য অনেক সবজি আমদানি করা লাগতে। সম্প্রতি জেলার কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এখন ভোলা থেকে অনেক সবজি দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে। যেকোনো ফসল চাষে কৃষি বিভাগ কাষকের পাশে থেকে সার্বিক সহায়তা করে আসছেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

পেঁপে চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য কলেজ ছাত্র ইসমাইলের দেড় লাখ টাকা ব্যয় করে বছরে ১০ লাখ টাকা আয়

আপডেট সময় ০৯:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

মাত্র দেড় লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ১০ লক্ষ টাকার পেপে বিক্রি করেছেন ভোলার কলেজ ছাত্র মোঃ ইসমাইল হোসেন। তার এই সাফল্য দেখে স্থানীয় অনেক তরুন শিক্ষিত যুবক এখন পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের পাকার মাথা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে ছায়াঢাকা শান্ত সুনিবিড় গ্রাম মাঝিকান্দি। এই গ্রামের কৃষক মিলন মাঝির ছেলে মোঃ ইসমাইল হোসেন। স্থানীয় নাজিউর রহমান কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র তিনি। শৈশব থেকেই পিতার পাশাপাশি কৃষি কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। গত বছর তার পিতা দুই একর জমি কিনেন মাছের ঘের করার জন্য। স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এ.বি.এম. মোস্তফা কামাল এর পরামর্শে ওই ঘেরের পাড়ে ইসমাইল করেছেন পেঁপে চাষ। আর প্রথমবারেই বাজিমাত করেছে ইসমাইল হোসেন।
ইসমাইল জানান, ছয় ফুট পরপর পেঁপে চারা লাগিয়েছেন। তিনি প্রতিটি পেঁপে চারা ৫০ টাকা দরে ৪০০ চারা কিনেছেন। চারা গাছের দাম সেই সাথে সার, কীটনাশক, শ্রমিক সব মিলিয়ে ব্যয় করেছেন এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। চারা রোপনের ছয় মাস পর থেকে পেপে বিক্রি শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন ছয় লক্ষ ৭০ হাজার টাকার পেঁপে। আরও তিন থেকে চার লাখ টাকার পেপে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

ইসমাইল জানান, তিনি সবজি হিসেবে কাঁচা পেঁপ বিক্রি করেন না। ফল হিসেবে পাকা পেঁপে বিক্রি করেন। প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে এখন বাগান থেকে কিনে নেন ব্যবসায়ীরা। শুরুতে ১১০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করেছিলেন। ইসমাইলের বাবা মিলন মাঝি জানান, পেঁপে চাষ করতে বিশেষ কোন পরিশ্রম করতে হয়না। পড়া লেখার পাশাপাশি এই কাজ করতে ইসমাইলের কোন সমস্যা হয় না। বরং লেখা পড়াসহ সকল খরচ এখান ছেলে নিজেই চালাচ্ছে। মিলন মাঝি ছেলের এই সাফল্যে ভীষণ খুশি।

এদিকে ইসমাইলের পেঁপে বাগান দেখতে প্রতিনিয়ত লোকজন আসে। এলাকার শিক্ষিত তরুণ যুবকরা ইসমাইলের সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেরাও পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। অনেকেই ইসমাইলের মাধ্যমে ঝালকাঠি, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে উন্নত মানের পেঁপে চারা আনাচ্ছে। ইসমাইল তাদেরকে পরামর্শ দিচ্ছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানান, পেঁপে চাষ করে অভূতপূর্ব সাফল্য পাওয়ায় এলাকার শিক্ষিত যুবকদের কাছে ইসমাইল এখন তারুণ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তার সাফল্য দেখে এলাকার আরও অনেক যুবক পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তিনি আরও জানান, এক সময় জেলার বাইরে থেকে দ্বীপজেলা ভোলায় পেঁপেসহ অন্যান্য অনেক সবজি আমদানি করা লাগতে। সম্প্রতি জেলার কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এখন ভোলা থেকে অনেক সবজি দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে। যেকোনো ফসল চাষে কৃষি বিভাগ কাষকের পাশে থেকে সার্বিক সহায়তা করে আসছেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।