ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ
এডিট করা ছবি ও অশালীন মন্তব্য

সাংবাদিক ও লেখকসহ চারজনের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষিকার মামলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভুঁইয়া মোনামী, সাংবাদিক মুজতবা খন্দকার ও লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।

তার অভিযোগ হলো, আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি বিকৃত করে অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়েছেন। মামলাটিতে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে শাহবাগ থানায় এজাহার দায়েরের পর বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন শেহরীন আমিন ভুঁইয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর মানবাধিকার সম্পাদক সাখাওয়াত জাকারিয়া, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।

সংবাদ সম্মেলনে শেহরীন আমিন ভুঁইয়া বলেন, এভাবে ক্রমাগতভাবে আমার ছবি এডিট করে আশালীনভাবে পোস্ট করা এবং আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য করার ফলে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এ ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হলো। ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। মামলায় এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শেহরীন আমিন ভুঁইয়া (৩৪), পিতা. আমিনুল ইসলাম, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, এনআইডি নং-এজাহার দায়ের করতেছি যে, ১ নং বিবাদী- মুজতবা খন্দকার, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট, তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আমার ছবি অশালীনভাবে এডিট করে পোস্ট করে এবং ক্যাপশন দেয় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইনি, পোশাকের স্বাধীনতায় পরেছে বিকিনি’।

বিবাদী নং ২, মহিউদ্দিন মোহাম্মদ, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট, আমাকে ‘যৌন-কল্পনার রসদ’ আখ্যা দিয়ে তার নিজের আইডিতে একটি ফটোকার্ড শেয়ার দেন। এছাড়াও সেখানে আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য করা হয়। বিবাদী নং ৩, নিরব হোসাইন (Nirob Hossain), শিক্ষার্থী ঢাকা কলেজ। ডেইলি ক্যাম্পাস নিউজ পোর্টালের একটি ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। বিবাদী নং ৪, আশফাক হোসাইন ইভান (Assfaque Hossain Evan) তার ফেসবুক পোস্টে আমার এডিটেড অশালীন ছবি পোস্ট করে।

বিবাদী নং ৫, অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা তাহাদের বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে ক্রমাগত আমার ছবি এডিট করে আশালীনভাবে পোস্ট করা হচ্ছে এবং আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য করা হচ্ছে। গত ২ অক্টোবর বেলা অনুমান ১১.২৫ ঘটিকায় আমি শাহবাগ থানাধীন আমার অফিস কক্ষে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লিখিত ঘটনা দেখতে পাই। এভাবে ক্রমাগতভাবে আমার ছবি এডিট করে আশালীনভাবে পোস্ট করা এবং আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য করার ফলে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।
উক্ত ঘটনার বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে এজাহার দায়ের করেছি। অতএব, উক্ত বিবাদীগণের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

এডিট করা ছবি ও অশালীন মন্তব্য

সাংবাদিক ও লেখকসহ চারজনের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষিকার মামলা

আপডেট সময় ০২:৪৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভুঁইয়া মোনামী, সাংবাদিক মুজতবা খন্দকার ও লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।

তার অভিযোগ হলো, আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি বিকৃত করে অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়েছেন। মামলাটিতে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে শাহবাগ থানায় এজাহার দায়েরের পর বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন শেহরীন আমিন ভুঁইয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর মানবাধিকার সম্পাদক সাখাওয়াত জাকারিয়া, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।

সংবাদ সম্মেলনে শেহরীন আমিন ভুঁইয়া বলেন, এভাবে ক্রমাগতভাবে আমার ছবি এডিট করে আশালীনভাবে পোস্ট করা এবং আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য করার ফলে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এ ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হলো। ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। মামলায় এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শেহরীন আমিন ভুঁইয়া (৩৪), পিতা. আমিনুল ইসলাম, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, এনআইডি নং-এজাহার দায়ের করতেছি যে, ১ নং বিবাদী- মুজতবা খন্দকার, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট, তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আমার ছবি অশালীনভাবে এডিট করে পোস্ট করে এবং ক্যাপশন দেয় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইনি, পোশাকের স্বাধীনতায় পরেছে বিকিনি’।

বিবাদী নং ২, মহিউদ্দিন মোহাম্মদ, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট, আমাকে ‘যৌন-কল্পনার রসদ’ আখ্যা দিয়ে তার নিজের আইডিতে একটি ফটোকার্ড শেয়ার দেন। এছাড়াও সেখানে আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য করা হয়। বিবাদী নং ৩, নিরব হোসাইন (Nirob Hossain), শিক্ষার্থী ঢাকা কলেজ। ডেইলি ক্যাম্পাস নিউজ পোর্টালের একটি ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। বিবাদী নং ৪, আশফাক হোসাইন ইভান (Assfaque Hossain Evan) তার ফেসবুক পোস্টে আমার এডিটেড অশালীন ছবি পোস্ট করে।

বিবাদী নং ৫, অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা তাহাদের বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে ক্রমাগত আমার ছবি এডিট করে আশালীনভাবে পোস্ট করা হচ্ছে এবং আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য করা হচ্ছে। গত ২ অক্টোবর বেলা অনুমান ১১.২৫ ঘটিকায় আমি শাহবাগ থানাধীন আমার অফিস কক্ষে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লিখিত ঘটনা দেখতে পাই। এভাবে ক্রমাগতভাবে আমার ছবি এডিট করে আশালীনভাবে পোস্ট করা এবং আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্য করার ফলে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।
উক্ত ঘটনার বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে এজাহার দায়ের করেছি। অতএব, উক্ত বিবাদীগণের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।