ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

বাগানের ৩০০ পেয়ারা গাছ কেটে দিল প্রতিপক্ষ, কান্না থামছে না কৃষকের

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামে এক কৃষকের প্রায় ৩০০ পেয়ারা গাছ রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

গত রোববার (২ নভেম্বর) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এতে তিনশ ফলন্ত পেয়ারা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে বাগানে গিয়ে কাটা পেয়ারা গাছের সারি দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যান কৃষক জালাল উদ্দিন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিহরনগর গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন প্রায় দুই বছর আগে নিজের ২৫ কাঠা জমিতে পেয়ারা চারা রোপণ করেন। সযত্নে লালন-পালনের ফলে প্রতিটি গাছে এ মৌসুমে প্রচুর ফল ধরেছিল। মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই তিনি পেয়ারা বিক্রি শুরু করার আশা করছিলেন। কিন্তু রোববার রাতে কোনো এক সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা বাগানের সব গাছ কেটে রেখে যায়।

কাঁদতে কাঁদতে জালাল উদ্দীন বলেন, প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে এই পেয়ারা বাগান করেছি। গাছগুলোকে নিজের সন্তানের মতো লালন করেছি। এ বছর ভালো ফলন হওয়ায় আশা ছিল কিছুটা লাভ করব। কিন্তু আজ আমার সব শেষ। আমি গরিব মানুষ, কৃষি কাজের আয় দিয়েই সংসার ও ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাই। এখন আমি একেবারে পথে বসেছি। কৃষক জালালের অভিযোগ, জমি নিয়ে একই গ্রামের সামাদের ছেলে আলমগীরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরোধ চলছে। এর আগেও আলমগীর আমার জমিতে ক্ষতি করেছে, জাল কেটেছে, এমনকি আমার ছেলের গলায় অস্ত্র ধরে হুমকি দিয়েছে। আমি নিশ্চিত, এই কাজটিও তারই। জালালের ছেলে আকিব হোসেন বলেন, সে আমাকে একাধিকবার মারধর করেছে, এমনকি গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দিয়েছে। প্রায়ই বলত, জমির গাছ কেটে ফেলবে। শেষ পর্যন্ত তাই করল। জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

বাগানের ৩০০ পেয়ারা গাছ কেটে দিল প্রতিপক্ষ, কান্না থামছে না কৃষকের

আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামে এক কৃষকের প্রায় ৩০০ পেয়ারা গাছ রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

গত রোববার (২ নভেম্বর) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এতে তিনশ ফলন্ত পেয়ারা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে বাগানে গিয়ে কাটা পেয়ারা গাছের সারি দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যান কৃষক জালাল উদ্দিন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিহরনগর গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন প্রায় দুই বছর আগে নিজের ২৫ কাঠা জমিতে পেয়ারা চারা রোপণ করেন। সযত্নে লালন-পালনের ফলে প্রতিটি গাছে এ মৌসুমে প্রচুর ফল ধরেছিল। মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই তিনি পেয়ারা বিক্রি শুরু করার আশা করছিলেন। কিন্তু রোববার রাতে কোনো এক সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা বাগানের সব গাছ কেটে রেখে যায়।

কাঁদতে কাঁদতে জালাল উদ্দীন বলেন, প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে এই পেয়ারা বাগান করেছি। গাছগুলোকে নিজের সন্তানের মতো লালন করেছি। এ বছর ভালো ফলন হওয়ায় আশা ছিল কিছুটা লাভ করব। কিন্তু আজ আমার সব শেষ। আমি গরিব মানুষ, কৃষি কাজের আয় দিয়েই সংসার ও ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাই। এখন আমি একেবারে পথে বসেছি। কৃষক জালালের অভিযোগ, জমি নিয়ে একই গ্রামের সামাদের ছেলে আলমগীরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরোধ চলছে। এর আগেও আলমগীর আমার জমিতে ক্ষতি করেছে, জাল কেটেছে, এমনকি আমার ছেলের গলায় অস্ত্র ধরে হুমকি দিয়েছে। আমি নিশ্চিত, এই কাজটিও তারই। জালালের ছেলে আকিব হোসেন বলেন, সে আমাকে একাধিকবার মারধর করেছে, এমনকি গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দিয়েছে। প্রায়ই বলত, জমির গাছ কেটে ফেলবে। শেষ পর্যন্ত তাই করল। জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।