চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নে সরকারি সড়কের নির্মাণসামগ্রী আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মন্নান আজাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাতরী ইউনিয়নের ১ নম্বর মহতরপাড়া ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাশে মাঝের বাড়ি সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ সম্প্রতি শেষ হয়। ঢালাই শেষে প্রকল্পের কিছু বালু, সিমেন্ট ও কংক্রিট অবশিষ্ট থাকে। স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত ছিল—অবশিষ্ট এসব নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে জসিমের দোকান থেকে বারেকের ঘর পর্যন্ত ভাঙা সড়কটি সংস্কার করা হবে।
কিন্তু স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্য আবদুল মন্নান ওই সড়ক সংস্কার না করে অবশিষ্ট সরকারি নির্মাণসামগ্রী আত্মসাৎ করে নিজের বাড়ির চারপাশে ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
“জনগণের টাকায় কেনা সামগ্রী, কিন্তু মেম্বারের ব্যক্তিগত ঘরে ঢালাই!”
এলাকার সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন—জনগণের টাকায় কেনা সরকারি সামগ্রী ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করলেন কীভাবে?
স্থানীয় রিয়াজ উদ্দিন জিকু বলেন, “মেম্বার আবদুল মন্নান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ও দুর্নীতিগ্রস্ত ইউপি সদস্য। সরকারি সড়কের বরাদ্দের সামগ্রী আত্মসাৎ করে নিজের ঘরের চারপাশে ঢালাই করা ক্ষমতার চরম অপব্যবহার। অতীতেও তিনি স্বৈরাচার সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় নানা অনৈতিক কাজে জড়িত ছিলেন। এখনো দাপট দেখিয়ে জনগণের টাকায় সুবিধা নিচ্ছেন।”
আরেক বাসিন্দা মো. রিপন বলেন, “জনগণের টাকায় কেনা সড়কের নির্মাণসামগ্রী সড়কে ব্যবহার না করে তিনি নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চাই।”
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আবদুল মন্নান আজাদ বলেন, “এ ধরনের কাজ আমি করিনি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন।” তবে অবশিষ্ট সামগ্রীর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে নেমেছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি—দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি : এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি প্রকল্পের কাজের সামগ্রী জনগণের সম্পদ। এসবের অপব্যবহার করলে প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয়, তবে অন্যরা একইভাবে দুর্নীতির সাহস পাবে। স্থানীয় প্রবীণ সমাজকর্মী একরামুল হক বলেন, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সামগ্রী আত্মসাৎ করা শুধু অনৈতিক নয়, এটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এর সুষ্ঠু তদন্ত হোক, যেন ভবিষ্যতে কেউ এভাবে জনগণের সম্পদে হাত না দেয়।” সারসংক্ষেপে, আনোয়ারার এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের তদন্ত প্রমাণ করবে—সরকারি সামগ্রী আত্মসাৎ হয়েছে কি না। তবে অভিযোগের বিষয়টি ইতোমধ্যে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, যা গ্রামীণ পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 



















