রোড টু বেলেম (কপ-৩০); জলবায়ু সংকট-জেলেদের সংগ্রাম ও নাগরিক সমাজের অভিমত’ শীর্ষক সেমিনার। ছবি : সংগৃহীত
বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩০)সহ জলবায়ু আলোচনায় জেলেদের মানবাধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, জলবায়ু সংকটে জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠী সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্থ। টেকসই উদ্যোগের অভাবে তারা আজ মৌলিক মানবাধিকার, বিশেষ করে খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুপেয় পানি, আবাসন, ও সাংস্কৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এটা স্বীকার করে নিয়ে জলবায়ু নীতি-পরিকল্পনার আলোচনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সর্বস্তরে ক্ষুদ্র জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং সুরক্ষা ও মানবাধিকার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্ন্তভুক্ত করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কোস্ট ফাউন্ডেশন ও ওয়ার্ল্ড ফোরাম অফ ফিশার পিপলস কর্তৃক আয়োজিত ‘রোড টু বেলেম (কপ-৩০); জলবায়ু সংকট-জেলেদের সংগ্রাম ও নাগরিক সমাজের অভিমত’ শীর্ষক সেমিনারে এ আহ্বান জানান তারা।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তৃতা করেন সাবেক সচিব ড. এস এম মঞ্জুরুল হান্নান খান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের পরিচালক আবি আবদুল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জিয়াউল হক, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বোর্ড সদস্য আমিনুর রসুল বাবুল, মৎস্য বিভাগের প্রকল্প পরিচালক মো. সামসুদ্দিন, শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ ক্লাইমেট জার্ণালিস্ট ফোরামের সভাপতি কাওসার রহমান, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা অন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, জেলে প্রতিনিধি আশরাফ মাজী ও বাবুলা মাঝি প্রমূখ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের এম. এ. হাসান। তিনি জলবায়ু সংকট ও জেলেদের সংগ্রামের উপর ভিত্তি করে তৈরিকৃত কেইস স্টাডির বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও সূপারিশসমূহ তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জেলে ও উপকূলীয় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ক্রমবর্ধমানভাবে পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে। টেকসই উদ্যোগের অভাবে তারা মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জলবায়ু নীতি-পরিকল্পনায় ক্ষুদ্র জেলেদের সুরক্ষা ও মানবাধিকার বিষয়গুলো অর্ন্তভুক্তি এবং সর্বস্তরে তাদের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, জলবায়ু সংকটে জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠী সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্থ এটা স্বীকার করে নিতে হবে। বিশ্বব্যাপী জেলে-উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর প্রদত্ত বাস্তবসম্মত, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দিতে হবে, কারন দাবিগুলো শুধুমাত্র বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষার বিষয় নয়, বরং মানবাধিকার, খাদ্য সার্বভৌমত্ব এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের জলবায়ু সংকটের কারনে ঝুঁকিপূর্ণ জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার বিষয়।
তাই এবারের বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জেলেদের মানবাধিকার ও সুরক্ষার বিষয়গুলো অগ্রাধিকারে রাখতে নাগরিক সমাজের পাশাপাশি সরকারকেও শক্তিশালী অবস্থান নিতে হবে।
সাবেক সচিব মঞ্জরুল আহসান খান বলেন, জলবায়ু সম্মেলনের জন্য জাতীয় অবস্থানপত্র তৈরি করার আগে প্রয়োজন ছিল জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্থ মানুষগুলোর সাথে আলোচনা ও তাদের মতামত নেয়া। তিনি বলেন, জলবায়ু আলোচনা হওয়া উচিৎ স্থানীয় থেকে আন্তর্জাতি পর্যায় পর্যন্ত, ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর মতামত না থাকলে সে আলোচনা অর্থহীন।
তিনি আরো বলেন আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবশে সুরক্ষার বিষয়টি থাকেনা, এটা নিশ্চিত করতে হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























