ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মনোহরগঞ্জে সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পিএসএলের বাকি অংশে খেলা হচ্ছে না নাহিদ-মুস্তাফিজের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়মকেই নিয়মে পরিনত করছেন মাদারীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেরোবিতে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আইইএলটিএস পরীক্ষা দিতে আসা তরুণীর লাশ মিলল হোটেলের বাথরুমে বড়লেখা উপজেলা পৌর ছাত্রদল ও বড়লেখা উপজেলা শাখার ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তনু হত্যায় গ্রেপ্তার হাফিজুরের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ বিসিকের টেন্ডার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ! ঘোড়াশালে চাঁদাবাজ মহিউদ্দিনের দাপট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের অভিযোগ কালীগঞ্জে ফুয়েল কার্ড যাচাইয়ে ইউএনও’র তৎপরতা, ভুল বোঝাবুঝির অবসান
মিরপুরে জাগৃকের জমিতে এশিউর ডেভেলপমেন্টের দখল

উচ্ছেদে হামলা-গুলিবর্ষণ, শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি ঝুঁকিতে

রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) অধিগ্রহণকৃত ২.০১ একর সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে এশিউর ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে। জমিটি বাউনিয়া মৌজার সিএস ৩১২৮ দাগে অবস্থিত। অভিযোগ রয়েছে, জমিটি দখলে রেখে কোম্পানিটি সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ, দোকানঘর স্থাপন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং জমি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে আসছে। এমনকি ফ্ল্যাট বিক্রি ও প্লটে লেনদেনের প্রক্রিয়াও পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধার করতে গেলে হামলা, মারধর এবং গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। ঘটনা শুধু অবৈধ জমি দখলেই সীমাবদ্ধ নয়; অভিযোগ রয়েছে একটি সুসংগঠিত ব্যবসা-বাণিজ্যিক-প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই দখল স্থায়ী করার চেষ্টা চলছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাই যখন দখলমুক্ত করতে ব্যর্থ হয়, তখন আলোচনায় উঠে আসে—দখলদার পক্ষের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশাসনিক অবহেলা, এবং প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ততা।

জমিটি কীভাবে সরকারি মালিকানায় আসে :
মিরপুরের বাউনিয়া মৌজার সিএস ৩১২৪ ও ৩১২৮ দাগের প্রায় ১৬৮ একর জমি ধাপে ধাপে রাষ্ট্র অধিগ্রহণ করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। জমিটি অধিগ্রহণ করা হয় এলএ কেস ১৩/৫৯-৬০, ৯০/৬৫-৬৬ এবং ৫/৭২-৭৩ মূলে। অর্থাৎ আইনি দলিল অনুযায়ী জমিটি পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন। দীর্ঘদিন ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, মাঠ পর্যায়ে নজরদারির অভাব এবং সীমানা নির্ধারণ না হওয়ায় জমির একটি অংশ ধীরে ধীরে প্রভাবশালী চক্রের দখলে চলে যায়। এশিউর ডেভেলপমেন্ট সেই চক্রের সবচেয়ে সক্রিয় ও সংঘবদ্ধ অংশ বলে অভিযোগ রয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযান তারপর হামলা ও গুলি :
জমি উদ্ধারের প্রয়াস প্রথম নয়। বরং বহুবার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বাউনিয়া মৌজার সিএস ৩১২৮ দাগের জমি দখলমুক্ত করে। সেখানেই শুরু হয় দেয়াল নির্মাণ ও আনসার শেড স্থাপন। অভিযানের সময়ই স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে তথ্য-এশিউর ডেভেলপমেন্ট ‘জমির মালিকানা দাবি করে’ পুনরায় জায়গা দখল করতে আসবে। প্রত্যাশিতভাবেই ৬ সেপ্টেম্বর, এশিউর ডেভেলপমেন্টের লোকজন—কর্মচারী, ভাড়াটে শ্রমিক ও কয়েকজন বহিরাগত নিয়ে আসে এবং গৃহায়নের কর্মকর্তা, আনসার সদস্য ও শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। আহত হন কয়েকজন আনসার সদস্যসহ অন্তত পাঁচজন। উচ্ছেদকাজ পুনরায় শুরু করলে ১৬ সেপ্টেম্বর, হেলমেট পরা ৪০-৫০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ঘটনাস্থলে আসে এবং তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এতে পুরো এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। লোকজন ছুটোছুটি শুরু করে। কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার দিনই গৃহায়নের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু হোরায়রা পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় এশিউর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যানসহ প্রায় ১০০ জনকে আসামি করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। জমির আর্থিক মূল্য-২০০ কোটির বেশি।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী-মিরপুরে প্রতি শতাংশ জমির সরকারি মূল্য:
প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। ১ একর = ১০০ শতাংশ ৪৫ কোটি টাকা, ২.০১ একর = সরকারি মূল্য অনুযায়ী অন্তত ৯০ কোটি টাকা কিন্তু বাজারদর সরকারি মূল্যের অন্তত দ্বিগুণ। অর্থাৎ দখলকৃত জমির প্রকৃত মূল্য ২০০ কোটির বেশি। এটি শুধু একটি স্থানের মূল্য-দখল যদি স্থায়ী হয়, ভবন নির্মাণ ও বিক্রি করে এই মূল্য ১০ গুণ পর্যন্ত উত্তোলন করা সম্ভব—এ অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

ভুয়া কাগজপত্র তৈরির অভিযোগ :
গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ জমিটি সরকারি কিন্তু এশিউর ডেভেলপমেন্ট ভুয়া মালিকানা দেখানো দলিল তৈরি করেছে নকল মিউটেশন (খতিয়ান হস্তান্তর) করা হয়েছে। খতিয়ান জালিয়াতি ও দালালি চক্র এতে যুক্ত কিছু জমির নথিতে কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে- “কোম্পানিকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছে কিছু দালাল, স্থানীয় প্রভাবশালী ও অফিস-সংযুক্ত কয়েকজন কর্মচারী।”
গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ে, রাজউকে এবং রিহ্যাবে এশিউর ডেভেলপমেন্টের নিবন্ধন বাতিলের চিঠি দেয়। কিন্তু রাজউক জানায় তারা চিঠি পায়নি। ফলে আইনি প্রক্রিয়া আটকে আছে। এই বক্তব্যই প্রশ্ন তুলে-চিঠি কোথায় আটকে গেল? কারা ইচ্ছে করে বিষয়টি লুকিয়ে রাখছে? এখানে কি প্রশাসনিক সহযোগিতা রয়েছে? গৃহায়ন কর্মকর্তাদের বক্তব্য- “উচ্ছেদ করতে গেলেই হামলা হয়। মামলা করেও লাভ হয়নি। আসামিরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নির্মাণ কাজও থামেনি।” স্থানীয়দের আশঙ্কা মিরপুর ১১, ১২ এবং বাউনিয়া এলাকার বাসিন্দারা জানান— দখলদারদের নিজস্ব সশস্ত্র টিম আছে দখলকৃত এলাকায় রাতের বেলায় মালামাল ঢোকে কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয় পুলিশের চৌহদ্দি কাছেই, কিন্তু মাঠে দৃশ্যমান অভিযান নেই। এক দোকানি বলেন “সরকারের জমি চোখের সামনে দখল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যারা দেখার কথা, তারা চুপ।”
এ বিষয়ে কথা বলতে এশিউর ডেভেলপমেন্টের ম্যানেজার ফারুক হোসেনকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এর আগে অনানুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল “আমাদের কাছে জমির কাগজ আছে।” কিন্তু সেই কাগজ আদালত বা রাজউকের সামনে প্রদর্শিত হয়নি। দন্তে উঠে এসেছে জমি দখলের পর এশিউর ডেভেলপমেন্ট চুক্তির ভিত্তিতে কিছু জমি অন্যদের দেখানো মালিকানায় বিক্রি করে। যা দখলকে বহুমাত্রিক মালিকানার জটিলতায় পরিণত করে। এই কৌশলকে বলা হয় ঙহিবৎংযরঢ় খধুবৎরহম ঝঃৎধঃবমু অর্থাৎ: জমি- দখল-কাগজ-জাল-মালিকানা-ভাগ করা/হস্তান্তর-মালিকানা নিয়ে মামলা-দীর্ঘসূত্রতা। ফলে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া থমকে যায়, বিশেষজ্ঞদের মতে মাঠ পর্যায়ে দ্রুত ভূমি জরিপ রাজউক ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সমন্বিত অভিযান বাহিনী সহায়তায় জোরদার উচ্ছেদ জাল কাগজপত্র জব্দ ও ফৌজদারি মামলা দখলদার গোষ্ঠীর অর্থ লেনদেন নজরদারি।
নাহলে “সরকারি সম্পত্তি একবার দখল স্থায়ী হয়ে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।”
মিরপুরে জাতীয় গৃহায়নের জমি দখলের ঘটনা কেবল একটি জমি দখলের কাহিনি নয় এটি শক্তি, টাকার লেনদেন, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং প্রভাবশালীদের জালের বহুমাত্রিক চিত্র। সরকারি সম্পত্তি আইনগতভাবে রাষ্ট্রের হলেও মাঠে তা এশিউর ডেভেলপমেন্টের নিয়ন্ত্রণে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মনোহরগঞ্জে সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ

মিরপুরে জাগৃকের জমিতে এশিউর ডেভেলপমেন্টের দখল

উচ্ছেদে হামলা-গুলিবর্ষণ, শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি ঝুঁকিতে

আপডেট সময় ০২:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) অধিগ্রহণকৃত ২.০১ একর সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে এশিউর ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে। জমিটি বাউনিয়া মৌজার সিএস ৩১২৮ দাগে অবস্থিত। অভিযোগ রয়েছে, জমিটি দখলে রেখে কোম্পানিটি সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ, দোকানঘর স্থাপন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং জমি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে আসছে। এমনকি ফ্ল্যাট বিক্রি ও প্লটে লেনদেনের প্রক্রিয়াও পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধার করতে গেলে হামলা, মারধর এবং গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। ঘটনা শুধু অবৈধ জমি দখলেই সীমাবদ্ধ নয়; অভিযোগ রয়েছে একটি সুসংগঠিত ব্যবসা-বাণিজ্যিক-প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই দখল স্থায়ী করার চেষ্টা চলছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাই যখন দখলমুক্ত করতে ব্যর্থ হয়, তখন আলোচনায় উঠে আসে—দখলদার পক্ষের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশাসনিক অবহেলা, এবং প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ততা।

জমিটি কীভাবে সরকারি মালিকানায় আসে :
মিরপুরের বাউনিয়া মৌজার সিএস ৩১২৪ ও ৩১২৮ দাগের প্রায় ১৬৮ একর জমি ধাপে ধাপে রাষ্ট্র অধিগ্রহণ করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। জমিটি অধিগ্রহণ করা হয় এলএ কেস ১৩/৫৯-৬০, ৯০/৬৫-৬৬ এবং ৫/৭২-৭৩ মূলে। অর্থাৎ আইনি দলিল অনুযায়ী জমিটি পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন। দীর্ঘদিন ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, মাঠ পর্যায়ে নজরদারির অভাব এবং সীমানা নির্ধারণ না হওয়ায় জমির একটি অংশ ধীরে ধীরে প্রভাবশালী চক্রের দখলে চলে যায়। এশিউর ডেভেলপমেন্ট সেই চক্রের সবচেয়ে সক্রিয় ও সংঘবদ্ধ অংশ বলে অভিযোগ রয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযান তারপর হামলা ও গুলি :
জমি উদ্ধারের প্রয়াস প্রথম নয়। বরং বহুবার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বাউনিয়া মৌজার সিএস ৩১২৮ দাগের জমি দখলমুক্ত করে। সেখানেই শুরু হয় দেয়াল নির্মাণ ও আনসার শেড স্থাপন। অভিযানের সময়ই স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে তথ্য-এশিউর ডেভেলপমেন্ট ‘জমির মালিকানা দাবি করে’ পুনরায় জায়গা দখল করতে আসবে। প্রত্যাশিতভাবেই ৬ সেপ্টেম্বর, এশিউর ডেভেলপমেন্টের লোকজন—কর্মচারী, ভাড়াটে শ্রমিক ও কয়েকজন বহিরাগত নিয়ে আসে এবং গৃহায়নের কর্মকর্তা, আনসার সদস্য ও শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। আহত হন কয়েকজন আনসার সদস্যসহ অন্তত পাঁচজন। উচ্ছেদকাজ পুনরায় শুরু করলে ১৬ সেপ্টেম্বর, হেলমেট পরা ৪০-৫০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ঘটনাস্থলে আসে এবং তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এতে পুরো এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। লোকজন ছুটোছুটি শুরু করে। কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার দিনই গৃহায়নের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু হোরায়রা পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় এশিউর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যানসহ প্রায় ১০০ জনকে আসামি করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। জমির আর্থিক মূল্য-২০০ কোটির বেশি।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী-মিরপুরে প্রতি শতাংশ জমির সরকারি মূল্য:
প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। ১ একর = ১০০ শতাংশ ৪৫ কোটি টাকা, ২.০১ একর = সরকারি মূল্য অনুযায়ী অন্তত ৯০ কোটি টাকা কিন্তু বাজারদর সরকারি মূল্যের অন্তত দ্বিগুণ। অর্থাৎ দখলকৃত জমির প্রকৃত মূল্য ২০০ কোটির বেশি। এটি শুধু একটি স্থানের মূল্য-দখল যদি স্থায়ী হয়, ভবন নির্মাণ ও বিক্রি করে এই মূল্য ১০ গুণ পর্যন্ত উত্তোলন করা সম্ভব—এ অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

ভুয়া কাগজপত্র তৈরির অভিযোগ :
গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ জমিটি সরকারি কিন্তু এশিউর ডেভেলপমেন্ট ভুয়া মালিকানা দেখানো দলিল তৈরি করেছে নকল মিউটেশন (খতিয়ান হস্তান্তর) করা হয়েছে। খতিয়ান জালিয়াতি ও দালালি চক্র এতে যুক্ত কিছু জমির নথিতে কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে- “কোম্পানিকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছে কিছু দালাল, স্থানীয় প্রভাবশালী ও অফিস-সংযুক্ত কয়েকজন কর্মচারী।”
গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ে, রাজউকে এবং রিহ্যাবে এশিউর ডেভেলপমেন্টের নিবন্ধন বাতিলের চিঠি দেয়। কিন্তু রাজউক জানায় তারা চিঠি পায়নি। ফলে আইনি প্রক্রিয়া আটকে আছে। এই বক্তব্যই প্রশ্ন তুলে-চিঠি কোথায় আটকে গেল? কারা ইচ্ছে করে বিষয়টি লুকিয়ে রাখছে? এখানে কি প্রশাসনিক সহযোগিতা রয়েছে? গৃহায়ন কর্মকর্তাদের বক্তব্য- “উচ্ছেদ করতে গেলেই হামলা হয়। মামলা করেও লাভ হয়নি। আসামিরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নির্মাণ কাজও থামেনি।” স্থানীয়দের আশঙ্কা মিরপুর ১১, ১২ এবং বাউনিয়া এলাকার বাসিন্দারা জানান— দখলদারদের নিজস্ব সশস্ত্র টিম আছে দখলকৃত এলাকায় রাতের বেলায় মালামাল ঢোকে কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয় পুলিশের চৌহদ্দি কাছেই, কিন্তু মাঠে দৃশ্যমান অভিযান নেই। এক দোকানি বলেন “সরকারের জমি চোখের সামনে দখল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যারা দেখার কথা, তারা চুপ।”
এ বিষয়ে কথা বলতে এশিউর ডেভেলপমেন্টের ম্যানেজার ফারুক হোসেনকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এর আগে অনানুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল “আমাদের কাছে জমির কাগজ আছে।” কিন্তু সেই কাগজ আদালত বা রাজউকের সামনে প্রদর্শিত হয়নি। দন্তে উঠে এসেছে জমি দখলের পর এশিউর ডেভেলপমেন্ট চুক্তির ভিত্তিতে কিছু জমি অন্যদের দেখানো মালিকানায় বিক্রি করে। যা দখলকে বহুমাত্রিক মালিকানার জটিলতায় পরিণত করে। এই কৌশলকে বলা হয় ঙহিবৎংযরঢ় খধুবৎরহম ঝঃৎধঃবমু অর্থাৎ: জমি- দখল-কাগজ-জাল-মালিকানা-ভাগ করা/হস্তান্তর-মালিকানা নিয়ে মামলা-দীর্ঘসূত্রতা। ফলে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া থমকে যায়, বিশেষজ্ঞদের মতে মাঠ পর্যায়ে দ্রুত ভূমি জরিপ রাজউক ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সমন্বিত অভিযান বাহিনী সহায়তায় জোরদার উচ্ছেদ জাল কাগজপত্র জব্দ ও ফৌজদারি মামলা দখলদার গোষ্ঠীর অর্থ লেনদেন নজরদারি।
নাহলে “সরকারি সম্পত্তি একবার দখল স্থায়ী হয়ে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।”
মিরপুরে জাতীয় গৃহায়নের জমি দখলের ঘটনা কেবল একটি জমি দখলের কাহিনি নয় এটি শক্তি, টাকার লেনদেন, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং প্রভাবশালীদের জালের বহুমাত্রিক চিত্র। সরকারি সম্পত্তি আইনগতভাবে রাষ্ট্রের হলেও মাঠে তা এশিউর ডেভেলপমেন্টের নিয়ন্ত্রণে।