ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে রেশন ও মাসিক ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে ২৬ জন হতদরিদ্র নারীর নামে ব্যাংক হিসাব খুলে কোটি টাকার লেনদেন করেছে একটি প্রতারক চক্র। পরে এসব হিসাব ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণা চালানো হয়। এখন ওই নারীদের বিরুদ্ধেই সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাইজবাগ ও মগটুলা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে—নিজগাঁও, চরশংকর ও দুর্গাপুরে।
গ্রামগুলোর অধিকাংশ নারী দিনমজুরের স্ত্রী বা গৃহকর্মী। তাঁদের মধ্যে অনেকেই এখন গ্রেফতারের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আছেন। নিজগাঁও গ্রামের ৬২ বছর বয়সী আছিয়া বেগম এমনই এক ভুক্তভোগী। তাঁর নামে ব্যাংক হিসাবে ৯৩ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ আসার পর থেকে তিনি আতঙ্কে গা ঢাকা দিয়েছেন। আছিয়ার পুত্রবধূ দিলোয়ারা বেগম জানান, ‘আমার শাশুড়ির ওষুধ কেনার টাকা জোটে না, অথচ হুনছি তাঁর ব্যাংকে লাখ লাখ টাকা ঘুরছে!’
স্থানীয়রা জানান, দুর্গাপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের স্ত্রী জাহেদা বেগমই এ ঘটনার মূল হোতা। তিনি নিজেকে সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়ার ভাতিজি পরিচয় দিয়ে গ্রামের নারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার প্রলোভন দেন। প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা ভাতা ও রেশন দেওয়ার আশ্বাসে নারীরা জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, আঙুলের ছাপ ও নতুন সিমসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁর হাতে তুলে দেন।
কয়েকদিন পরই এসব অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকা আসতে থাকে, পরে প্রতারকচক্রের সদস্যরা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সব টাকা তুলে নেয়। পরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনলাইন লেনদেন বা জুয়ার টাকায় জড়িত মামলার পর পুলিশ বাড়িতে গেলে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি জানতে পারেন।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ঈশ্বরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক তাজুল ইসলাম রনি জানান, “অস্বাভাবিক লেনদেনের খবর পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক সব হিসাব ফ্রিজ করে দিয়েছে। কেউ নিজের অ্যাকাউন্ট অন্যের হাতে তুলে দিলে সেটি সন্দেহজনক হয়ে পড়ে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান বলেন, “নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, নওগাঁ ও ঢাকার বনানী থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে অন্তত ১৮ জনের নামে মামলা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”
পুলিশ ও ব্যাংক সূত্র জানায়, এসব অ্যাকাউন্ট ভাড়া নেওয়া হয়েছে মূলত অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের মাধ্যমে। সামান্য টাকার লোভে নিজের নামের অ্যাকাউন্ট অন্যের হাতে তুলে দেওয়ায় এখন বিপাকে পড়েছেন হতদরিদ্র নারীরা।
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 





















