ঢাকা ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী অনেককেই এখন চেনেন না ইলিয়াস কাঞ্চন, মনেও রাখতে পারেন না কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার গুনাহ মাফ হবে: জামায়াত আমির  তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে : তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর ‘সাংবাদিকের লেখায় কিছু যায় আসে না!’ বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেতন-টিএ-ডিএ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শরীয়তপুরে কু’প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদে নি’র্যা’তন, গ্রে’প্তার ২ কুমিল্লায় মোহনা টেলিভিশন অফিসে লুট: দুই আসামি গ্রেপ্তার সোনামসজিদ বন্দরে অবকাঠামো সংকট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, সরকারের দৃষ্টি কামনা” আব্দুল ওয়াহেদর
চিফ প্রসিকিউটর

শেখ হাসিনার উসকানিতে পা দেয়নি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৫:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৬২০ বার পড়া হয়েছে

এতোগুলো মানুষ হত্যার পরও শেখ হাসিনার আচরণে অনুশোচনা নেই বলে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে এতগুলো মানুষ হত্যার পর বাংলাদেশে যে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। যেভাবে তিনি এত সংখ্যক মানুষকে আহত বা অঙ্গহানি করেছেন, বাংলাদেশকে বদ্ধভূমিতে পরিণত করেছিলেন এর জন্য কোনো অনুশোচনা নেই তার (শেখ হাসিনা)। উল্টো তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন যারা মামলা করেছেন, সাক্ষী দিয়েছেন তাদের হত্যা করার ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ার সমাপনী দিন ছিল আজ।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কয়েকদিন আগে তিনি (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশে একটা গৃহযুদ্ধ লাগানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি সেনাবাহিনীকে উসকানি দিয়েছেন যে তোমাদের কিছু কিছু অফিসারের বিচার হচ্ছে, তোমরা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। কিন্তু দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী সেই উসকানিতে পা দেয়নি। মানুষ এই উসকানি বুঝতে পেরেছেন। তারাও পা দেননি। শুধুমাত্র যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে বিচারের প্রক্রিয়ায় তাদের আনা হয়েছে। সেনাবাহিনী নিজের আইনের শাসনের প্রতি, ল’ অব দি ল্যান্ডের প্রতি সুদৃঢ় অঙ্গীকারের কথা বলেছেন। সেটা প্রমাণ করেও তারা দেখিয়েছেন। সুতরাং তাদের এসব উসকানি বিফলে গেছে।

তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আসামিরা প্রমাণ করেছেন যে তাদের সামান্যতম অনুশোচনা নেই। অনুশোচনাহীন এমন হত্যাকারীদের ব্যাপারে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি স্বচ্ছ থাকা উচিত যে, তারা কোনো রকমের অনুকম্পা পাওয়ার যোগ্য নন। এটাই আমাদের সর্বশেষ বক্তব্য ছিল। আমি বলেছি এ অপরাধের বিচার হচ্ছে— নেভার এগেইন। অর্থাৎ বাংলাদেশে কখনো আর এমন দিন যেন ফিরে না আসে। এভাবে শিশুদের রাজপথে জীবন দিতে না হয়। ভয় ও আতঙ্কের দিন বাংলাদেশে কখনো ফিরে না আসে। আদালত আগামী ১৩ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ওইদিন ঘোষণা করবেন কবে রায় হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮১ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

চিফ প্রসিকিউটর

শেখ হাসিনার উসকানিতে পা দেয়নি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী

আপডেট সময় ০৫:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

এতোগুলো মানুষ হত্যার পরও শেখ হাসিনার আচরণে অনুশোচনা নেই বলে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে এতগুলো মানুষ হত্যার পর বাংলাদেশে যে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। যেভাবে তিনি এত সংখ্যক মানুষকে আহত বা অঙ্গহানি করেছেন, বাংলাদেশকে বদ্ধভূমিতে পরিণত করেছিলেন এর জন্য কোনো অনুশোচনা নেই তার (শেখ হাসিনা)। উল্টো তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন যারা মামলা করেছেন, সাক্ষী দিয়েছেন তাদের হত্যা করার ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ার সমাপনী দিন ছিল আজ।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কয়েকদিন আগে তিনি (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশে একটা গৃহযুদ্ধ লাগানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি সেনাবাহিনীকে উসকানি দিয়েছেন যে তোমাদের কিছু কিছু অফিসারের বিচার হচ্ছে, তোমরা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। কিন্তু দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী সেই উসকানিতে পা দেয়নি। মানুষ এই উসকানি বুঝতে পেরেছেন। তারাও পা দেননি। শুধুমাত্র যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে বিচারের প্রক্রিয়ায় তাদের আনা হয়েছে। সেনাবাহিনী নিজের আইনের শাসনের প্রতি, ল’ অব দি ল্যান্ডের প্রতি সুদৃঢ় অঙ্গীকারের কথা বলেছেন। সেটা প্রমাণ করেও তারা দেখিয়েছেন। সুতরাং তাদের এসব উসকানি বিফলে গেছে।

তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আসামিরা প্রমাণ করেছেন যে তাদের সামান্যতম অনুশোচনা নেই। অনুশোচনাহীন এমন হত্যাকারীদের ব্যাপারে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি স্বচ্ছ থাকা উচিত যে, তারা কোনো রকমের অনুকম্পা পাওয়ার যোগ্য নন। এটাই আমাদের সর্বশেষ বক্তব্য ছিল। আমি বলেছি এ অপরাধের বিচার হচ্ছে— নেভার এগেইন। অর্থাৎ বাংলাদেশে কখনো আর এমন দিন যেন ফিরে না আসে। এভাবে শিশুদের রাজপথে জীবন দিতে না হয়। ভয় ও আতঙ্কের দিন বাংলাদেশে কখনো ফিরে না আসে। আদালত আগামী ১৩ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ওইদিন ঘোষণা করবেন কবে রায় হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮১ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।