ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী অনেককেই এখন চেনেন না ইলিয়াস কাঞ্চন, মনেও রাখতে পারেন না কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার গুনাহ মাফ হবে: জামায়াত আমির  তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে : তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর ‘সাংবাদিকের লেখায় কিছু যায় আসে না!’ বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেতন-টিএ-ডিএ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শরীয়তপুরে কু’প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদে নি’র্যা’তন, গ্রে’প্তার ২ কুমিল্লায় মোহনা টেলিভিশন অফিসে লুট: দুই আসামি গ্রেপ্তার সোনামসজিদ বন্দরে অবকাঠামো সংকট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, সরকারের দৃষ্টি কামনা” আব্দুল ওয়াহেদর

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করে ‘সময় নষ্ট’ করতে চান না ট্রাম্প

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ফলহীন আলোচনায় সময় নষ্ট করতে চান না। ইউক্রেন যুদ্ধঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া যদি বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই থামানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অবস্থান না নেয়, তবে তার সঙ্গে আলোচনায় বসা অর্থহীন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমি অর্থহীন বৈঠকে সময় দিতে চাই না। বাস্তবসম্মত সমাধান ছাড়া এমন বৈঠক শুধু সময়ক্ষেপণ।’

এর আগে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, নিকট ভবিষ্যতে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে বুদাপেস্টে দুই সপ্তাহের মধ্যে তার সঙ্গে পুতিনের মুখোমুখি বৈঠক হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান সমররেখা স্থির রেখে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল সম্পূর্ণ খালি করতে হবে। এই মৌলিক বিরোধের কারণে শীর্ষ বৈঠকের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি চান দ্রুত একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হোক এবং মানুষ হত্যার এই চক্র থামুক। তিনি বলেন, ‘যেখানে লড়াই চলছে সেখানেই রেখা টেনে থামো, ঘরে ফিরে যাও।’ তবে রাশিয়া এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটি কেবল অস্থায়ী সমাধান, স্থায়ী শান্তির পথ নয়। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ আরও স্পষ্ট করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ছাড়া রাশিয়ার আগ্রহ নেই। সেই শান্তির শর্ত হিসেবে তারা তুলে ধরেছে দনবাসে রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিরস্ত্রীকরণ—যা কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

কূটনৈতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে প্রস্তুতিমূলক আলোচনারও আর কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অতীতে ‘ফলহীন বৈঠকের পুনরাবৃত্তি এড়াতে।’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দনবাসের যেসব অঞ্চল কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে আছে, তা কখনোই ছাড়বে না। তার মতে, এসব এলাকা রাশিয়ার হাতে গেলে তা ভবিষ্যতে আরও হামলার ঘাঁটি হয়ে উঠবে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, শান্তি প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আর ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো আপাতত অসম্ভব বলেই মনে করছে ওয়াশিংটন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করে ‘সময় নষ্ট’ করতে চান না ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৬:৪৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ফলহীন আলোচনায় সময় নষ্ট করতে চান না। ইউক্রেন যুদ্ধঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া যদি বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই থামানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অবস্থান না নেয়, তবে তার সঙ্গে আলোচনায় বসা অর্থহীন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমি অর্থহীন বৈঠকে সময় দিতে চাই না। বাস্তবসম্মত সমাধান ছাড়া এমন বৈঠক শুধু সময়ক্ষেপণ।’

এর আগে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, নিকট ভবিষ্যতে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে বুদাপেস্টে দুই সপ্তাহের মধ্যে তার সঙ্গে পুতিনের মুখোমুখি বৈঠক হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান সমররেখা স্থির রেখে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল সম্পূর্ণ খালি করতে হবে। এই মৌলিক বিরোধের কারণে শীর্ষ বৈঠকের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি চান দ্রুত একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হোক এবং মানুষ হত্যার এই চক্র থামুক। তিনি বলেন, ‘যেখানে লড়াই চলছে সেখানেই রেখা টেনে থামো, ঘরে ফিরে যাও।’ তবে রাশিয়া এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটি কেবল অস্থায়ী সমাধান, স্থায়ী শান্তির পথ নয়। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ আরও স্পষ্ট করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ছাড়া রাশিয়ার আগ্রহ নেই। সেই শান্তির শর্ত হিসেবে তারা তুলে ধরেছে দনবাসে রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিরস্ত্রীকরণ—যা কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

কূটনৈতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে প্রস্তুতিমূলক আলোচনারও আর কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অতীতে ‘ফলহীন বৈঠকের পুনরাবৃত্তি এড়াতে।’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দনবাসের যেসব অঞ্চল কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে আছে, তা কখনোই ছাড়বে না। তার মতে, এসব এলাকা রাশিয়ার হাতে গেলে তা ভবিষ্যতে আরও হামলার ঘাঁটি হয়ে উঠবে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, শান্তি প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আর ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো আপাতত অসম্ভব বলেই মনে করছে ওয়াশিংটন।