ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

বরগুনার পাথরঘাটায় অপহরণের দেড় মাস পর মায়ের ধর্ষণ মামলা

বরগুনার পাথরঘাটায় এক সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অপহরণের দেড় মাস পার হলেও তাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে মেয়েটির মা ধর্ষণের আশঙ্কা প্রকাশ করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস মামলাটি গ্রহণ করে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বরগুনা জজ আদালতের বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরনে জানা যায় – বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ছোনবুনিয়া গ্রামের ১৫ বছরের নাবালিকা মেয়েটির সঙ্গে মোবাইলের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝাড়াখালী গ্রামের ২৫ বছর বয়সী মুছার। মুছা তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে মেয়েটি তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর মুছা মেয়েটিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়।

৩১ আগস্ট সকালে মেয়েটি যখন স্কুলে যাচ্ছিল, তখন মুছা ও তার তিন বন্ধু তাকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। মেয়েটির মা জানান, সেদিন বিকেলে মেয়ে বাসায় না ফেরায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিতে থাকেন। পরে জানতে পারেন মুছা ও তার সঙ্গীরা মেয়েটিকে অপহরণ করেছে। মুছার বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করলে তারা আশ্বাস দিলেও এক মাস ২১ দিন পরও মেয়েকে ফেরত দেয়নি।

মেয়েটির মা আরও বলেন, “আমার মেয়ে এখন মুছার কাছেই আছে, তবে সে বেঁচে আছে কিনা জানি না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস মুছা আমার মেয়েকে আটক রেখে ধর্ষণ করেছে, অথবা তাকে বিদেশে পাচার করেছে। এমনকি মেয়েকে হত্যা করে লাশ গোপন করেও রাখতে পারে। কোথায় কী অবস্থায় আমার মেয়ে আছে তা জানি না। মুছার ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না।”

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর মেয়ের অভিভাবক কেউ আবার থানায় আসেননি। আমরা মেয়েটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে কেউ থানায় মামলা করতে আসেনি, এলে মামলা নিতাম।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

বরগুনার পাথরঘাটায় অপহরণের দেড় মাস পর মায়ের ধর্ষণ মামলা

আপডেট সময় ১২:৫২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

বরগুনার পাথরঘাটায় এক সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অপহরণের দেড় মাস পার হলেও তাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে মেয়েটির মা ধর্ষণের আশঙ্কা প্রকাশ করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস মামলাটি গ্রহণ করে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বরগুনা জজ আদালতের বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরনে জানা যায় – বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ছোনবুনিয়া গ্রামের ১৫ বছরের নাবালিকা মেয়েটির সঙ্গে মোবাইলের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝাড়াখালী গ্রামের ২৫ বছর বয়সী মুছার। মুছা তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে মেয়েটি তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর মুছা মেয়েটিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়।

৩১ আগস্ট সকালে মেয়েটি যখন স্কুলে যাচ্ছিল, তখন মুছা ও তার তিন বন্ধু তাকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। মেয়েটির মা জানান, সেদিন বিকেলে মেয়ে বাসায় না ফেরায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিতে থাকেন। পরে জানতে পারেন মুছা ও তার সঙ্গীরা মেয়েটিকে অপহরণ করেছে। মুছার বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করলে তারা আশ্বাস দিলেও এক মাস ২১ দিন পরও মেয়েকে ফেরত দেয়নি।

মেয়েটির মা আরও বলেন, “আমার মেয়ে এখন মুছার কাছেই আছে, তবে সে বেঁচে আছে কিনা জানি না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস মুছা আমার মেয়েকে আটক রেখে ধর্ষণ করেছে, অথবা তাকে বিদেশে পাচার করেছে। এমনকি মেয়েকে হত্যা করে লাশ গোপন করেও রাখতে পারে। কোথায় কী অবস্থায় আমার মেয়ে আছে তা জানি না। মুছার ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না।”

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর মেয়ের অভিভাবক কেউ আবার থানায় আসেননি। আমরা মেয়েটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে কেউ থানায় মামলা করতে আসেনি, এলে মামলা নিতাম।”