ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চলে গেলেন চিত্রনায়িকা পপির মা মরিয়ম বেগম ঊর্ধ্বমুখী সূচকে চলছে পুঁজিবাজারের লেনদেন রাবি শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ছাত্রদল নেতা বুলবুলের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮ জনকে কারাদণ্ড পেট্রোবাংলার পরিচালক মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ রোববার নতুন বেতনকাঠামোয় বেতন, অনিশ্চিত বর্ধিত অর্থ বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রত্যাহার এসআই আনছার আলী নির্বাচনে হেরে দেশ ছাড়লেন বলসোনারো, পরিবারকে ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র ডিএসসিসির জোন-৯ এ জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা নুরুল ইসলাম, টাকার বিনিময়ে মিলছে ভুয়া জন্মসনদ ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব, ৮ জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস

বরগুনার পাথরঘাটায় অপহরণের দেড় মাস পর মায়ের ধর্ষণ মামলা

বরগুনার পাথরঘাটায় এক সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অপহরণের দেড় মাস পার হলেও তাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে মেয়েটির মা ধর্ষণের আশঙ্কা প্রকাশ করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস মামলাটি গ্রহণ করে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বরগুনা জজ আদালতের বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরনে জানা যায় – বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ছোনবুনিয়া গ্রামের ১৫ বছরের নাবালিকা মেয়েটির সঙ্গে মোবাইলের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝাড়াখালী গ্রামের ২৫ বছর বয়সী মুছার। মুছা তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে মেয়েটি তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর মুছা মেয়েটিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়।

৩১ আগস্ট সকালে মেয়েটি যখন স্কুলে যাচ্ছিল, তখন মুছা ও তার তিন বন্ধু তাকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। মেয়েটির মা জানান, সেদিন বিকেলে মেয়ে বাসায় না ফেরায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিতে থাকেন। পরে জানতে পারেন মুছা ও তার সঙ্গীরা মেয়েটিকে অপহরণ করেছে। মুছার বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করলে তারা আশ্বাস দিলেও এক মাস ২১ দিন পরও মেয়েকে ফেরত দেয়নি।

মেয়েটির মা আরও বলেন, “আমার মেয়ে এখন মুছার কাছেই আছে, তবে সে বেঁচে আছে কিনা জানি না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস মুছা আমার মেয়েকে আটক রেখে ধর্ষণ করেছে, অথবা তাকে বিদেশে পাচার করেছে। এমনকি মেয়েকে হত্যা করে লাশ গোপন করেও রাখতে পারে। কোথায় কী অবস্থায় আমার মেয়ে আছে তা জানি না। মুছার ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না।”

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর মেয়ের অভিভাবক কেউ আবার থানায় আসেননি। আমরা মেয়েটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে কেউ থানায় মামলা করতে আসেনি, এলে মামলা নিতাম।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলে গেলেন চিত্রনায়িকা পপির মা মরিয়ম বেগম

বরগুনার পাথরঘাটায় অপহরণের দেড় মাস পর মায়ের ধর্ষণ মামলা

আপডেট সময় ১২:৫২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

বরগুনার পাথরঘাটায় এক সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অপহরণের দেড় মাস পার হলেও তাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে মেয়েটির মা ধর্ষণের আশঙ্কা প্রকাশ করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস মামলাটি গ্রহণ করে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বরগুনা জজ আদালতের বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরনে জানা যায় – বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ছোনবুনিয়া গ্রামের ১৫ বছরের নাবালিকা মেয়েটির সঙ্গে মোবাইলের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝাড়াখালী গ্রামের ২৫ বছর বয়সী মুছার। মুছা তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে মেয়েটি তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর মুছা মেয়েটিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়।

৩১ আগস্ট সকালে মেয়েটি যখন স্কুলে যাচ্ছিল, তখন মুছা ও তার তিন বন্ধু তাকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। মেয়েটির মা জানান, সেদিন বিকেলে মেয়ে বাসায় না ফেরায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিতে থাকেন। পরে জানতে পারেন মুছা ও তার সঙ্গীরা মেয়েটিকে অপহরণ করেছে। মুছার বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করলে তারা আশ্বাস দিলেও এক মাস ২১ দিন পরও মেয়েকে ফেরত দেয়নি।

মেয়েটির মা আরও বলেন, “আমার মেয়ে এখন মুছার কাছেই আছে, তবে সে বেঁচে আছে কিনা জানি না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস মুছা আমার মেয়েকে আটক রেখে ধর্ষণ করেছে, অথবা তাকে বিদেশে পাচার করেছে। এমনকি মেয়েকে হত্যা করে লাশ গোপন করেও রাখতে পারে। কোথায় কী অবস্থায় আমার মেয়ে আছে তা জানি না। মুছার ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না।”

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর মেয়ের অভিভাবক কেউ আবার থানায় আসেননি। আমরা মেয়েটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে কেউ থানায় মামলা করতে আসেনি, এলে মামলা নিতাম।”