ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সব ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিবাদী সরকার, এখন পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও ড্রপআউটমুক্ত রামপাল গঠনে সাংবাদিকদের অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর বড়লেখা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে ৯২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালতে হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এসএসসিতে চমক রংপুরের জানপুর মুন্সির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুদক মামলার আসামিই এখন তদন্ত কর্মকর্তা ফুলবাড়ীয়ায় পুকুর প্রকল্পে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ বেসিক ব্যাংকের ১৭৩ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ রাজউক জোন-৪ পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়াকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতি

মানিকগঞ্জে দৃশ্যমান হয়েছে জুলাই ৩৬ স্মৃতিস্তম্ভ

মানিকগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক ঘেষা মানরা এলাকায় অবশেষে দৃশ্যমান হলো ঐতিহাসিক জুলাই ৩৬ স্মৃতিস্তম্ভ। এই স্থানটি থেকে মানিকগঞ্জে সূচনা হয়েছিল ২০২৪ সালের একদফা জুলাই যুগপৎ আন্দোলন। ১৮ ফুট উচ্চতা ও ৬ ফুট ব্যাসের লোহার এই স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে খোদাই করে লেখা বৈষ্যমবিরোধী আন্দোলনের সময়ের অগ্নিঝরা স্লোগানঃ ‘জেগে উঠো বাংলাদেশ, জুলাই মানে জাগরণ, তোমার রক্ত বৃথা যাবে না’। আধুনিক সিএনসি কাটিং প্রযুক্তিতে তৈরি এসব অক্ষর যেন মনে করিয়ে দেয় ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা, জাতির সাহস আর আত্মত্যাগের প্রতিধ্বনির কথা।

এই জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক জেলা আহবায়ক কলেজ ছাত্র ওমর ফারুক বলেন, ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি জাতির প্রতিবাদের প্রতীক, সাহসের স্মারক ও নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর। ইতিহাসের নিদর্শন নয়, নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবে।’ মানিকগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাজু মল্লিক বলেন, ‘আধুনিক সিএনসি কাটিং প্রযুক্তিতে তৈরি উন্নতমানের ভারী লোহার দ্বারা তৈরি এই স্তম্ভটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। গণপূর্ত বিভাগের নিজস্ব আর্থিক যোগানে স্মৃতিস্তম্ভটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।’ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সৃষ্ট এক ঐতিহাসিক গণজাগরণ। সুপ্রিম কোর্টের বৈষম্যবিরোধী রায়ের পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন দেশব্যাপী জনবিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় অনেক তরুণ প্রাণ হারান। তাদের স্মরণে সারাদেশে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জেও এই স্তম্ভটি স্থাপিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, ‘এই স্মৃতিস্তম্ভটি আমাদের জাতীয় জীবনে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি সাক্ষ্য হয়ে থাকবে। আন্দোলনের ইতিহাস থেকে নতুন প্রজন্ম শিক্ষা গ্রহণ করে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী চর্চার মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সব ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিবাদী সরকার, এখন পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী

মানিকগঞ্জে দৃশ্যমান হয়েছে জুলাই ৩৬ স্মৃতিস্তম্ভ

আপডেট সময় ০১:৪৩:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

মানিকগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক ঘেষা মানরা এলাকায় অবশেষে দৃশ্যমান হলো ঐতিহাসিক জুলাই ৩৬ স্মৃতিস্তম্ভ। এই স্থানটি থেকে মানিকগঞ্জে সূচনা হয়েছিল ২০২৪ সালের একদফা জুলাই যুগপৎ আন্দোলন। ১৮ ফুট উচ্চতা ও ৬ ফুট ব্যাসের লোহার এই স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে খোদাই করে লেখা বৈষ্যমবিরোধী আন্দোলনের সময়ের অগ্নিঝরা স্লোগানঃ ‘জেগে উঠো বাংলাদেশ, জুলাই মানে জাগরণ, তোমার রক্ত বৃথা যাবে না’। আধুনিক সিএনসি কাটিং প্রযুক্তিতে তৈরি এসব অক্ষর যেন মনে করিয়ে দেয় ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা, জাতির সাহস আর আত্মত্যাগের প্রতিধ্বনির কথা।

এই জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক জেলা আহবায়ক কলেজ ছাত্র ওমর ফারুক বলেন, ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি জাতির প্রতিবাদের প্রতীক, সাহসের স্মারক ও নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর। ইতিহাসের নিদর্শন নয়, নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবে।’ মানিকগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাজু মল্লিক বলেন, ‘আধুনিক সিএনসি কাটিং প্রযুক্তিতে তৈরি উন্নতমানের ভারী লোহার দ্বারা তৈরি এই স্তম্ভটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। গণপূর্ত বিভাগের নিজস্ব আর্থিক যোগানে স্মৃতিস্তম্ভটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।’ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সৃষ্ট এক ঐতিহাসিক গণজাগরণ। সুপ্রিম কোর্টের বৈষম্যবিরোধী রায়ের পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন দেশব্যাপী জনবিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় অনেক তরুণ প্রাণ হারান। তাদের স্মরণে সারাদেশে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জেও এই স্তম্ভটি স্থাপিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, ‘এই স্মৃতিস্তম্ভটি আমাদের জাতীয় জীবনে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি সাক্ষ্য হয়ে থাকবে। আন্দোলনের ইতিহাস থেকে নতুন প্রজন্ম শিক্ষা গ্রহণ করে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী চর্চার মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।’