ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সব ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিবাদী সরকার, এখন পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও ড্রপআউটমুক্ত রামপাল গঠনে সাংবাদিকদের অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর বড়লেখা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে ৯২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালতে হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এসএসসিতে চমক রংপুরের জানপুর মুন্সির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুদক মামলার আসামিই এখন তদন্ত কর্মকর্তা ফুলবাড়ীয়ায় পুকুর প্রকল্পে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ বেসিক ব্যাংকের ১৭৩ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ রাজউক জোন-৪ পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়াকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুদক মামলার আসামিই এখন তদন্ত কর্মকর্তা

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ঘুষ ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ধামাচাপা দিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার আশ্রয় নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) মো. রবিউল ইসলাম। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের নামে তিনি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন, যার অন্যতম সদস্য খোদ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোটি টাকার অর্থ আত্মসাৎ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ উঠেছে, বিতর্কিত এই আসামিকে তদন্ত কমিটিতে বসিয়ে পুরো ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে কৌশলে আড়াল করার ছক কষেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেই।

লিখিত অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মোছাঃ মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ ও চরম হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে শিক্ষা বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়। একই সময়ে পাল্টা পদক্ষেপে জমিদাতাসহ ৪১ জন ব্যক্তি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও একটি পাল্টা অভিযোগ দাখিল করেন।

এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে ডিমলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্র নাথ রায়-কে আহ্বায়ক এবং ডোমার উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আফজালুল হক-কে সদস্য করা হয়। তবে কমিটির ৩ নম্বর সদস্য হিসেবে নীলফামারী সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যাকে দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস নিজেই দুদকের একটি বড় মামলার আসামি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জলঢাকা উপজেলার ২৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের ২ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণের ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নামমাত্র কাজ দেখিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলছে। ওই মামলায় তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ও কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাসসহ ৭ জন এটিইও এবং ২৪৫ জন প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত হন।

সচেতন মহল ও সাধারণ শিক্ষকদের অভিযোগ, এটিইও মরিয়ম নেছার দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা ধামাচাপা দিতেই জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এই ‘অদ্ভুত’ কমিটি গঠন করেছেন। কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার আসামি হয়ে কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস কীভাবে অন্য একজন কর্মকর্তার দুর্নীতির নিরপেক্ষ বিচার করবেন, তা নিয়ে জেলাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষকদের দাবি, এই কমিটি আসলে একটি ‘আইওয়াশ’, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মরিয়ম নেছাকে নির্দোষ প্রমাণ করা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী সদর এটিইও কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস দাবি করেন, মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে এর স্বপক্ষে কোনো দাপ্তরিক কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে, দুদকের মামলার আসামি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সব ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিবাদী সরকার, এখন পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী

নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুদক মামলার আসামিই এখন তদন্ত কর্মকর্তা

আপডেট সময় ০৩:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ঘুষ ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ধামাচাপা দিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার আশ্রয় নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) মো. রবিউল ইসলাম। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের নামে তিনি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন, যার অন্যতম সদস্য খোদ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোটি টাকার অর্থ আত্মসাৎ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ উঠেছে, বিতর্কিত এই আসামিকে তদন্ত কমিটিতে বসিয়ে পুরো ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে কৌশলে আড়াল করার ছক কষেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেই।

লিখিত অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মোছাঃ মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ ও চরম হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে শিক্ষা বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়। একই সময়ে পাল্টা পদক্ষেপে জমিদাতাসহ ৪১ জন ব্যক্তি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও একটি পাল্টা অভিযোগ দাখিল করেন।

এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে ডিমলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্র নাথ রায়-কে আহ্বায়ক এবং ডোমার উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আফজালুল হক-কে সদস্য করা হয়। তবে কমিটির ৩ নম্বর সদস্য হিসেবে নীলফামারী সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যাকে দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস নিজেই দুদকের একটি বড় মামলার আসামি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জলঢাকা উপজেলার ২৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের ২ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণের ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নামমাত্র কাজ দেখিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলছে। ওই মামলায় তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ও কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাসসহ ৭ জন এটিইও এবং ২৪৫ জন প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত হন।

সচেতন মহল ও সাধারণ শিক্ষকদের অভিযোগ, এটিইও মরিয়ম নেছার দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা ধামাচাপা দিতেই জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এই ‘অদ্ভুত’ কমিটি গঠন করেছেন। কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার আসামি হয়ে কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস কীভাবে অন্য একজন কর্মকর্তার দুর্নীতির নিরপেক্ষ বিচার করবেন, তা নিয়ে জেলাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষকদের দাবি, এই কমিটি আসলে একটি ‘আইওয়াশ’, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মরিয়ম নেছাকে নির্দোষ প্রমাণ করা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী সদর এটিইও কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস দাবি করেন, মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে এর স্বপক্ষে কোনো দাপ্তরিক কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে, দুদকের মামলার আসামি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই।