ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি কোনো হুমকি-ধমকিতে ভয় পায় না: মীর শাহে আলম অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা বাংলাদেশের চীন-পাকিস্তান আমাদের চিকিৎসকদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাপানের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা এলজিআরডি মন্ত্রীর অবৈধ মালামালসহ আ.লীগের দুই কর্মী আটক প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী হাতীবান্ধায় ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসার নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ কুমিল্লায় আন্তঃজেলা নারী চোর চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, ১৩ মোবাইল উদ্ধার দুদকের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি, তবু স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর প্রধান নাছির বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ হলো গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া: পবিপ্রবি উপাচার্য

নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুদক মামলার আসামিই এখন তদন্ত কর্মকর্তা

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ঘুষ ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ধামাচাপা দিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার আশ্রয় নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) মো. রবিউল ইসলাম। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের নামে তিনি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন, যার অন্যতম সদস্য খোদ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোটি টাকার অর্থ আত্মসাৎ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ উঠেছে, বিতর্কিত এই আসামিকে তদন্ত কমিটিতে বসিয়ে পুরো ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে কৌশলে আড়াল করার ছক কষেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেই।

লিখিত অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মোছাঃ মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ ও চরম হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে শিক্ষা বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়। একই সময়ে পাল্টা পদক্ষেপে জমিদাতাসহ ৪১ জন ব্যক্তি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও একটি পাল্টা অভিযোগ দাখিল করেন।

এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে ডিমলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্র নাথ রায়-কে আহ্বায়ক এবং ডোমার উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আফজালুল হক-কে সদস্য করা হয়। তবে কমিটির ৩ নম্বর সদস্য হিসেবে নীলফামারী সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যাকে দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস নিজেই দুদকের একটি বড় মামলার আসামি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জলঢাকা উপজেলার ২৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের ২ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণের ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নামমাত্র কাজ দেখিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলছে। ওই মামলায় তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ও কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাসসহ ৭ জন এটিইও এবং ২৪৫ জন প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত হন।

সচেতন মহল ও সাধারণ শিক্ষকদের অভিযোগ, এটিইও মরিয়ম নেছার দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা ধামাচাপা দিতেই জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এই ‘অদ্ভুত’ কমিটি গঠন করেছেন। কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার আসামি হয়ে কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস কীভাবে অন্য একজন কর্মকর্তার দুর্নীতির নিরপেক্ষ বিচার করবেন, তা নিয়ে জেলাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষকদের দাবি, এই কমিটি আসলে একটি ‘আইওয়াশ’, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মরিয়ম নেছাকে নির্দোষ প্রমাণ করা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী সদর এটিইও কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস দাবি করেন, মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে এর স্বপক্ষে কোনো দাপ্তরিক কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে, দুদকের মামলার আসামি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি কোনো হুমকি-ধমকিতে ভয় পায় না: মীর শাহে আলম

নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুদক মামলার আসামিই এখন তদন্ত কর্মকর্তা

আপডেট সময় ০৩:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ঘুষ ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ধামাচাপা দিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার আশ্রয় নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) মো. রবিউল ইসলাম। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের নামে তিনি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন, যার অন্যতম সদস্য খোদ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোটি টাকার অর্থ আত্মসাৎ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ উঠেছে, বিতর্কিত এই আসামিকে তদন্ত কমিটিতে বসিয়ে পুরো ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে কৌশলে আড়াল করার ছক কষেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিজেই।

লিখিত অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মোছাঃ মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ ও চরম হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে শিক্ষা বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়। একই সময়ে পাল্টা পদক্ষেপে জমিদাতাসহ ৪১ জন ব্যক্তি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও একটি পাল্টা অভিযোগ দাখিল করেন।

এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে ডিমলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্র নাথ রায়-কে আহ্বায়ক এবং ডোমার উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আফজালুল হক-কে সদস্য করা হয়। তবে কমিটির ৩ নম্বর সদস্য হিসেবে নীলফামারী সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যাকে দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস নিজেই দুদকের একটি বড় মামলার আসামি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জলঢাকা উপজেলার ২৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের ২ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণের ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নামমাত্র কাজ দেখিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলছে। ওই মামলায় তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ও কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাসসহ ৭ জন এটিইও এবং ২৪৫ জন প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত হন।

সচেতন মহল ও সাধারণ শিক্ষকদের অভিযোগ, এটিইও মরিয়ম নেছার দুর্নীতি ও ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনা ধামাচাপা দিতেই জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এই ‘অদ্ভুত’ কমিটি গঠন করেছেন। কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার আসামি হয়ে কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস কীভাবে অন্য একজন কর্মকর্তার দুর্নীতির নিরপেক্ষ বিচার করবেন, তা নিয়ে জেলাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষকদের দাবি, এই কমিটি আসলে একটি ‘আইওয়াশ’, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মরিয়ম নেছাকে নির্দোষ প্রমাণ করা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী সদর এটিইও কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস দাবি করেন, মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে এর স্বপক্ষে কোনো দাপ্তরিক কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে, দুদকের মামলার আসামি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই।