ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বড়লেখা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে ৯২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালতে হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এসএসসিতে চমক রংপুরের জানপুর মুন্সির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুদক মামলার আসামিই এখন তদন্ত কর্মকর্তা ফুলবাড়ীয়ায় পুকুর প্রকল্পে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ বেসিক ব্যাংকের ১৭৩ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ রাজউক জোন-৪ পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়াকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতি মেট্রোরেলের টেন্ডারে ই-জিপি নেই, উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ শ্রীপুর সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল

রাজউক জোন-৪ পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়াকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতি

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ঢাকা মহানগরের পরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রাজউকের জোন-৪-এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জাকারিয়ার অধীনে রাজউকের কয়েকটি জোনাল অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সালেহ আহমেদ জাকারিয়া বর্তমানে রাজউকের মহাখালী জোনাল অফিসে জোন-৪-এর পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে জোন-৩-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে বলে দাবি সূত্রের। মিরপুর, গুলশান, বনানী ও উত্তরার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকাগুলো তার প্রশাসনিক আওতাধীন হওয়ায় এসব এলাকায় ভবনের নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়। বড় কোনো ফাইল পরিচালকের অনুমোদন ছাড়া অগ্রসর হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে ‘ম্যানেজমেন্ট ফি’ নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

ইমারত পরিদর্শকদের নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ
জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অন্যতম বিষয় হলো রাজউকের ইমারত পরিদর্শকদের একটি অংশকে নিয়ে কথিত সিন্ডিকেট পরিচালনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলে এসব পরিদর্শক বিভিন্ন ত্রুটি চিহ্নিত করে ভবন মালিকদের জোনাল অফিসে পরিচালকের সঙ্গে ‘যোগাযোগ’ করার পরামর্শ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, যারা কথিত অর্থ দিতে রাজি হন না, তাদের ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া অথবা নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। সূত্রের দাবি, পরিদর্শকদের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ পরিচালকের কাছে পৌঁছানোর অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ এ ব্যবস্থাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি’ বলেও অভিহিত করছেন।

সংবাদকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় প্রশ্ন
জাকারিয়ার প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি রাজউকের এক ইমারত পরিদর্শক মো. সোলাইমান হোসেনের বিরুদ্ধে নিজ কক্ষে এক সংবাদকর্মীর ওপর হাতুড়ি দিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই কর্মকর্তা পরিচালকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী থাকা সত্ত্বেও ঘটনাটিকে গুরুত্বহীন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং তাদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে রাজউকের ভেতরে ও বাইরে সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

অযোগ্য ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ
প্রশাসনিক পদায়ন নিয়েও জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে এসএসসি পাস করা আব্দুর রহিমকে জোন-৩-এর প্রধান ইমারত পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এ ধরনের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান ও যোগ্যতার বিষয়টি উপেক্ষা করে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা রাজউকের সার্ভিস রুলস এবং ভবন নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে যোগ্য কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে অনুগত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়নের অভিযোগও রয়েছে।

ভবন মালিকদের হয়রানির অভিযোগ
সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে বৈধ ভবন মালিকদের বিভিন্ন অজুহাতে নোটিশ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো ভবনে সামান্য বিচ্যুতি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে উচ্ছেদ বা কঠোর ব্যবস্থার ভয় দেখানো হয়। পরে দালাল বা অসাধু কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির অভিযোগও রয়েছে।

বেইলি রোড ও বনানীর অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিদর্শন জোরদার করা হলেও সেই সুযোগে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন
সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার সম্পদের পরিমাণ নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পূর্বাচলে তার প্রায় ২০ কাঠা জমি, মালিবাগে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং টাঙ্গাইলে নিজ গ্রামে বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। এসব সম্পদের বৈধ উৎস ও অর্জনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

তবে এসব সম্পদের মালিকানা, পরিমাণ এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগ
জাকারিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ফোনকল গ্রহণ না করা, কল কেটে দেওয়া কিংবা অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।

এদিকে তার বিরুদ্ধে রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করার জন্য একটি বিশেষ অর্থের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
অভিযোগকারীরা বলছেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা রাজউকের মতো প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তাদের দাবি, জোন-৩ ও জোন-৪-এ জাকারিয়ার দায়িত্ব পালনকালে কতগুলো ভবনের নকশা অনুমোদন হয়েছে, কতগুলো অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে এবং এসব প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—তা উচ্চপর্যায়ের অডিটের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত এবং রাজউকের অনুমোদন ও তদারকি কার্যক্রম আরও ডিজিটাল করার দাবি উঠেছে। এতে প্রশাসনিক কাজে অপ্রয়োজনীয় মানবিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে দুর্নীতির সুযোগ সীমিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড়লেখা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

রাজউক জোন-৪ পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়াকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতি

আপডেট সময় ০৩:০০:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ঢাকা মহানগরের পরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রাজউকের জোন-৪-এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জাকারিয়ার অধীনে রাজউকের কয়েকটি জোনাল অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সালেহ আহমেদ জাকারিয়া বর্তমানে রাজউকের মহাখালী জোনাল অফিসে জোন-৪-এর পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে জোন-৩-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে বলে দাবি সূত্রের। মিরপুর, গুলশান, বনানী ও উত্তরার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকাগুলো তার প্রশাসনিক আওতাধীন হওয়ায় এসব এলাকায় ভবনের নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়। বড় কোনো ফাইল পরিচালকের অনুমোদন ছাড়া অগ্রসর হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে ‘ম্যানেজমেন্ট ফি’ নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

ইমারত পরিদর্শকদের নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ
জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অন্যতম বিষয় হলো রাজউকের ইমারত পরিদর্শকদের একটি অংশকে নিয়ে কথিত সিন্ডিকেট পরিচালনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলে এসব পরিদর্শক বিভিন্ন ত্রুটি চিহ্নিত করে ভবন মালিকদের জোনাল অফিসে পরিচালকের সঙ্গে ‘যোগাযোগ’ করার পরামর্শ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, যারা কথিত অর্থ দিতে রাজি হন না, তাদের ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া অথবা নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। সূত্রের দাবি, পরিদর্শকদের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ পরিচালকের কাছে পৌঁছানোর অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ এ ব্যবস্থাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি’ বলেও অভিহিত করছেন।

সংবাদকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় প্রশ্ন
জাকারিয়ার প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি রাজউকের এক ইমারত পরিদর্শক মো. সোলাইমান হোসেনের বিরুদ্ধে নিজ কক্ষে এক সংবাদকর্মীর ওপর হাতুড়ি দিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই কর্মকর্তা পরিচালকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী থাকা সত্ত্বেও ঘটনাটিকে গুরুত্বহীন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং তাদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে রাজউকের ভেতরে ও বাইরে সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

অযোগ্য ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ
প্রশাসনিক পদায়ন নিয়েও জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে এসএসসি পাস করা আব্দুর রহিমকে জোন-৩-এর প্রধান ইমারত পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এ ধরনের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান ও যোগ্যতার বিষয়টি উপেক্ষা করে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা রাজউকের সার্ভিস রুলস এবং ভবন নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে যোগ্য কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে অনুগত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়নের অভিযোগও রয়েছে।

ভবন মালিকদের হয়রানির অভিযোগ
সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে বৈধ ভবন মালিকদের বিভিন্ন অজুহাতে নোটিশ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো ভবনে সামান্য বিচ্যুতি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে উচ্ছেদ বা কঠোর ব্যবস্থার ভয় দেখানো হয়। পরে দালাল বা অসাধু কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির অভিযোগও রয়েছে।

বেইলি রোড ও বনানীর অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিদর্শন জোরদার করা হলেও সেই সুযোগে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন
সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার সম্পদের পরিমাণ নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পূর্বাচলে তার প্রায় ২০ কাঠা জমি, মালিবাগে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং টাঙ্গাইলে নিজ গ্রামে বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। এসব সম্পদের বৈধ উৎস ও অর্জনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

তবে এসব সম্পদের মালিকানা, পরিমাণ এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগ
জাকারিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ফোনকল গ্রহণ না করা, কল কেটে দেওয়া কিংবা অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।

এদিকে তার বিরুদ্ধে রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করার জন্য একটি বিশেষ অর্থের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
অভিযোগকারীরা বলছেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা রাজউকের মতো প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তাদের দাবি, জোন-৩ ও জোন-৪-এ জাকারিয়ার দায়িত্ব পালনকালে কতগুলো ভবনের নকশা অনুমোদন হয়েছে, কতগুলো অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে এবং এসব প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—তা উচ্চপর্যায়ের অডিটের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত এবং রাজউকের অনুমোদন ও তদারকি কার্যক্রম আরও ডিজিটাল করার দাবি উঠেছে। এতে প্রশাসনিক কাজে অপ্রয়োজনীয় মানবিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে দুর্নীতির সুযোগ সীমিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।