জাতীয় নির্বাচন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ‘আগামী নির্বাচিত সংসদেই’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “এই বিষয়টা আগামী পার্লামেন্টের উপরে ছেড়ে দিতে হবে। আগামী পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা যদি মনে করেন যে, এটা বিদ্যমান ভোট পদ্ধতি থেকে পিআরে যাবে, যাবে। কিন্তু এখন তো এটা সম্পর্কে কিছুই বলা যাবে না।”
জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা কয়েকটি দল পিআর পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে দাবি তুলেছে, তা নিয়ে বিএনপির ‘উদ্বেগের’ কারণও ব্যাখ্যা করেন বিএনপি মহাসচিব। যেকোনো ভাবেই হোক, এই প্রচেষ্টা আছে ভিন্নভাবে চিন্তা করার। সেই ভিন্নভাবে চিন্তাভাবনা করার কোন অবকাশ এখানে আছে বলে আরা মনে করি না। আমরা সবাই একটা জাতি, এটা কে আলাদা করার সুযোগ নেই। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা আগামী নির্বাচনে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা মনে করি জন গমেজ শুধু আপনাদের প্রতিনিধি নন, তিনি আমাদের প্রতিনিধি। তিনি বিএনপির ভালো জায়গায় ছিলেন এবং আছেন।”
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আপনাদের যে দাবি, যেটা আপনারা আশা করেছেন, দলীয় মনোনয়নের জন্য, নিঃসন্দেহে আমি আপনাদের এই যে পত্রটি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের কাছে পাঠিয়ে দেব, এবং সেটাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখব এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
তিনি বলেন, আমাদের যে প্রত্যাশা আপনাদের কাছে সব সময় থাকবে.. আপনাদের দাবি – দাওয়া আপনাদের যে প্রয়োজন, সে কথাগুলো আপনাদের জোরের সাথে হবে। আপনারা কখনোই মনে করবেন না যে আপনারা সংখ্যালঘু। আমরা ক্ষুদ্র, এই কথা গুলো মনে করলে কিন্তু পিছয়ে পড়তে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন বাস্তবায়ন করবে, এটাই তারা চেয়েছিলেন।
তারা চেষ্টা করেছেন, নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করেছেন,। কিন্তু মাঝে মাঝেই আমরা এমন কতগুলো বিষয় দেখতে পাই যে বিষয়গুলো আমাদেরকে খুব উদ্বিগ্ন করে তোলে।
জুলাই সনদ স্বাক্ষরের তারিখ হয়েছে সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যেগুলোতে একমত হয়েছে, সেগুলোতে সব দল স্বাক্ষর করবে এবং সেগুলোতে একমত হতে পারেনি সেগুলো আসন্ন নির্বাচনে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল।
খ্রিস্টান লইয়াস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আলবার্ট রোজারিওর সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ খ্রিষ্টান ফোরামের অনিল লিও কস্তার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ডঃ বেনেভিষ্ট আলো ডি রোজারিও, পিউস কস্তা, রীতা রোজলীন কস্তা, প্রতাপ অগাস্টিন গোমেজ, আনোয়ার হোসেন।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, বিএনপি’র ধর্ম বিষয় সহ-সম্পাদক জন গমেজ, বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য সুনীল বড়ুয়া, রমেশ দত্ত, অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
বিএনপির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের তরুণ দে, মন্টু পিটার রোজারিও, ফনিন্দ্রনাথ কর্মকার, বাবুল ডেভিড গমেজ, লুইস গমেজ, শীতল রিবেরু, মার্টিন পেরেরা, স্বপন হাওলাদার, পেপিলন পিউরিফিকেশন, প্রশান্ত পিউরিফিকেশন, এরিক ডি কস্তা আরো অনেক উপস্থিত ছিলেন।
এস এম আয়নুল হকরাজশাহী ব্যুরো 



















