ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইরানের কেশম দ্বীপের বেসামরিক ভবনে ৯০০ কেজির বো’মা ফেলেছে মার্কিন বাহিনী সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ৯৬তম জন্মদিন  গোদাগাড়ীতে যুবককে পিটিয়ে জখম  পীরগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষককে তুলে এনে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা প্রস্তুতিমূলক সভা  অপপ্রচার নয়-পুরো বক্তব্য শুনেই বিচার করুন-এমপি হাফিজ ইব্রাহিমের বক্তব্য বিকৃতি নিয়ে প্রতিবাদ দেশ পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে ডিএসসিসির ৩২৭ কোটি টাকার মেগা কর্মসূচি সাবেক কাস্টমস কমিশনার হাফিজুর রহমানকে ঘিরে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে গ্যাস বিলে ৯৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেল দুদক

তরুণদের মধ্যে ইউরিক এসিড বাড়ার কারন

ইদানীংকালে ব্যস্ত জীবন, বদলে যাওয়া খাদ্যের অভ্যাস—সব উপাদান মিলে নানা ধরনের অসুখ হানা দিচ্ছে শরীরে, এ ধরনের একটি হলো রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়া। আজকাল কম বয়সীদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে।

কারণ

ইউরিক এসিড হলো স্বাভাবিকভাবে শরীরে তৈরি হওয়া রাসায়নিক। এর উৎপাদন হয় পিউরিন নামের এক রাসায়নিক থেকে। এই পিউরিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন—রেড মিট, অরগান মিট, সি-ফিশ ও বিয়ার খেলে এর উৎপাদন বেশি হয়। তাই রক্তেও বাড়ে এর পরিমাণ।

জটিলতা

একসময় তীব্র ব্যথা ঝিমিয়ে এলেও এক ধরনের অস্বস্তি দীর্ঘদিন থেকে যায়। এতে শরীরের সচলতাও কমে। ইউরিক এসিডের মান প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ৭ মিলিগ্রামের বেশি হলে বিপদ। তখন হয় গেঁটে বাত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি গাউট নামে পরিচিত। শীতে এর প্রভাবে ব্যথায় কাতর হয় অনেকে।

ইউরিক এসিড স্ফটিক আকারে জমা হয় অস্থিসন্ধিতে, বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙুল ছাড়াও অন্যান্য আঙুলে হয় গেঁটে বাত। আর হতে পারে কিডনিতে পাথর। রক্তে ইউরিক এসিড বাড়তি থাকলে এক সময় হতে পারে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ। ইউরিক এসিড বাড়লে তা কিডনি দিয়ে বেরোতে চায় আর কিডনি বিকল হলে এই বর্জ্য বেরোতে সমস্যা হয়। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় বলা হয় ‘হাইপার ইউরেসেমিয়া’। শরীর যদি খুব বেশি ইউরিক এসিড উৎপাদন করে বা শরীর থেকে খুব কম পরিমাণে বের হয় তাহলে হাইপার ইউরেসেমিয়া হয়।

করণীয়

স্যাচুরেটেড চর্বি, প্রোটিন, টক জাতীয় খাবার, চকলেট, কফি, কোমল পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। চর্বি, কলিজা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন পালং শাক, ডাল, মাশরুম, শিম, বরবটি, খেজুর, কিশমিশ, তাল, আখ এড়িয়ে চলতে হবে। খেলেও খুবই সামান্য পরিমাণে পাতে নিতে হবে।

শরীরে ওজন বেশি থাকলে কমাতে হবে। প্রচুর পানি পানের পাশাপাশি কলা, আপেল, চেরি ফল, সাইট্রাস ফল, গ্রিন টি, আঙুর, স্ট্রবেরি, কমলা, আনারস খাওয়া ভালো। লো ফ্যাট দই খেতে পারেন পরিমিত। অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করা যাবে না। খাবার নিয়ন্ত্রণে সুফল না পেলে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খেতে হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের কেশম দ্বীপের বেসামরিক ভবনে ৯০০ কেজির বো’মা ফেলেছে মার্কিন বাহিনী

তরুণদের মধ্যে ইউরিক এসিড বাড়ার কারন

আপডেট সময় ১২:২১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২২

ইদানীংকালে ব্যস্ত জীবন, বদলে যাওয়া খাদ্যের অভ্যাস—সব উপাদান মিলে নানা ধরনের অসুখ হানা দিচ্ছে শরীরে, এ ধরনের একটি হলো রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়া। আজকাল কম বয়সীদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে।

কারণ

ইউরিক এসিড হলো স্বাভাবিকভাবে শরীরে তৈরি হওয়া রাসায়নিক। এর উৎপাদন হয় পিউরিন নামের এক রাসায়নিক থেকে। এই পিউরিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন—রেড মিট, অরগান মিট, সি-ফিশ ও বিয়ার খেলে এর উৎপাদন বেশি হয়। তাই রক্তেও বাড়ে এর পরিমাণ।

জটিলতা

একসময় তীব্র ব্যথা ঝিমিয়ে এলেও এক ধরনের অস্বস্তি দীর্ঘদিন থেকে যায়। এতে শরীরের সচলতাও কমে। ইউরিক এসিডের মান প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ৭ মিলিগ্রামের বেশি হলে বিপদ। তখন হয় গেঁটে বাত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি গাউট নামে পরিচিত। শীতে এর প্রভাবে ব্যথায় কাতর হয় অনেকে।

ইউরিক এসিড স্ফটিক আকারে জমা হয় অস্থিসন্ধিতে, বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙুল ছাড়াও অন্যান্য আঙুলে হয় গেঁটে বাত। আর হতে পারে কিডনিতে পাথর। রক্তে ইউরিক এসিড বাড়তি থাকলে এক সময় হতে পারে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ। ইউরিক এসিড বাড়লে তা কিডনি দিয়ে বেরোতে চায় আর কিডনি বিকল হলে এই বর্জ্য বেরোতে সমস্যা হয়। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় বলা হয় ‘হাইপার ইউরেসেমিয়া’। শরীর যদি খুব বেশি ইউরিক এসিড উৎপাদন করে বা শরীর থেকে খুব কম পরিমাণে বের হয় তাহলে হাইপার ইউরেসেমিয়া হয়।

করণীয়

স্যাচুরেটেড চর্বি, প্রোটিন, টক জাতীয় খাবার, চকলেট, কফি, কোমল পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। চর্বি, কলিজা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন পালং শাক, ডাল, মাশরুম, শিম, বরবটি, খেজুর, কিশমিশ, তাল, আখ এড়িয়ে চলতে হবে। খেলেও খুবই সামান্য পরিমাণে পাতে নিতে হবে।

শরীরে ওজন বেশি থাকলে কমাতে হবে। প্রচুর পানি পানের পাশাপাশি কলা, আপেল, চেরি ফল, সাইট্রাস ফল, গ্রিন টি, আঙুর, স্ট্রবেরি, কমলা, আনারস খাওয়া ভালো। লো ফ্যাট দই খেতে পারেন পরিমিত। অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করা যাবে না। খাবার নিয়ন্ত্রণে সুফল না পেলে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খেতে হবে।