সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় থানার সামনে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আটক ৩ জয়পুরহাটে উদ্ধার হলো বিশাল আকৃতির গাঁজা গাছ কসবায় মোবাইল কোর্টের অভিযান: ৫ ফার্মেসিকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা স্পেশাল বিসিএসের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার ডাক্তার নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী টাঙ্গাইলে যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে দুই বোন লতা-পাতার বিয়ে প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি কমানোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে সরকার মাদক ও ধর্ষকের পক্ষে তদবির করলে নেতাদেরও হাজতে পাঠানো হবে: আইনমন্ত্রী সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ঝিনাইগাতী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পবিপ্রবি’র হিট প্রজেক্টের দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত জন্মদিনের আনন্দের একদিন পরই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর আকস্মিক মৃত্যু

রাবিতে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে অনশন, অসুস্থ দুই শিক্ষার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শর্তসাপেক্ষে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল বিকেল থেকে আমরণ অনশনে বসেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জোহা চত্বরে তারা এই অনশন করছেন। ১৯ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তারা সেখানে অবস্থান করছেন।

অনশনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুই শিক্ষার্থী। তারা হলেন সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী ইস্পাহানি এবং আরবি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রমজানুল মোবারক।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও তাদের অনশনে দেখা যায়। গতকাল বিকেল ৫টায় এককভাবে অনশনে বসেন সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম। এরপর তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী যোগ দেন।

এ সময় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান বলেন, আমরা গতকাল রাত থেকে বসে আছি, রোদের মধ্যে পুড়ছি, বৃষ্টিতে ভিজছি, মশার কামড় খাচ্ছি। আমাদের শরীরের কী অবস্থা তা দেখার কেউ নেই। অনেকেই স্লোগান দিয়েছিল ‘রক্ত লাগলে রক্ত নে, পোষ্য কোটার কবর দে’। তারা তাদের রক্ত দেওয়া শেষ করেছে, কিন্তু আমাদের রক্ত দেওয়া এখনো শেষ হয়নি। আমরা আছি। যতক্ষণ না সমাধান হবে, আমরা থাকব। আমাদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না, এখনও নেই। আমি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এখানে আছি এবং থাকব।

সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী সানজিদা বলেন, আমার ভাইয়েরা গতকাল থেকে বৃষ্টিতে ভিজছে, রোদের মধ্যে পুড়ছে, মশার কামড়ে কষ্ট পাচ্ছে তাদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই। প্রশাসনের নামে এই প্রহসন আর কতদিন চলবে? যেখানে আমরা ৬০-৬৫ পেয়ে ভর্তি হতে পারি না, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানরা নামমাত্র পাশ নম্বর পেয়ে কীভাবে ভর্তি হয়?

তিনি আরও বলেন, তারা তাদের সন্তানদের নিয়ে এতটা অনিরাপদ অনুভব করেন কেন? তাদের কি আত্মবিশ্বাস নেই যে সন্তানরা যোগ্যতায় ভর্তি হতে পারবে? এই ভিক্ষাবৃত্তি আর কতদিন চলবে? এখানে যারা অনশনে বসেছে, সবাই তাদের মায়ের কলিজার টুকরা। তারা যে এভাবে নিপীড়িত হচ্ছে তা দেখার কি কেউ নেই?

দুপুর ১টার দিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের পাশে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম কনক। তিনি বলেন, আমি মূলত ছাত্রদের খোঁজ নিতে এসেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি, তারা খুব কষ্টে আছে। তাই আমি নিজেও তাদের সঙ্গে অনশনে যোগ দিয়েছি। ইতোমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে, আমরা তাদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে পাঠিয়েছি।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্তসাপেক্ষে পোষ্য কোটা চালু করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানরা যদি স্নাতক প্রথমবর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেয়ে পাশ করে, তবে তারা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় থানার সামনে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আটক ৩

রাবিতে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে অনশন, অসুস্থ দুই শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ০১:৫৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শর্তসাপেক্ষে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল বিকেল থেকে আমরণ অনশনে বসেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জোহা চত্বরে তারা এই অনশন করছেন। ১৯ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তারা সেখানে অবস্থান করছেন।

অনশনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুই শিক্ষার্থী। তারা হলেন সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী ইস্পাহানি এবং আরবি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রমজানুল মোবারক।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও তাদের অনশনে দেখা যায়। গতকাল বিকেল ৫টায় এককভাবে অনশনে বসেন সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম। এরপর তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী যোগ দেন।

এ সময় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান বলেন, আমরা গতকাল রাত থেকে বসে আছি, রোদের মধ্যে পুড়ছি, বৃষ্টিতে ভিজছি, মশার কামড় খাচ্ছি। আমাদের শরীরের কী অবস্থা তা দেখার কেউ নেই। অনেকেই স্লোগান দিয়েছিল ‘রক্ত লাগলে রক্ত নে, পোষ্য কোটার কবর দে’। তারা তাদের রক্ত দেওয়া শেষ করেছে, কিন্তু আমাদের রক্ত দেওয়া এখনো শেষ হয়নি। আমরা আছি। যতক্ষণ না সমাধান হবে, আমরা থাকব। আমাদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না, এখনও নেই। আমি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এখানে আছি এবং থাকব।

সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী সানজিদা বলেন, আমার ভাইয়েরা গতকাল থেকে বৃষ্টিতে ভিজছে, রোদের মধ্যে পুড়ছে, মশার কামড়ে কষ্ট পাচ্ছে তাদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই। প্রশাসনের নামে এই প্রহসন আর কতদিন চলবে? যেখানে আমরা ৬০-৬৫ পেয়ে ভর্তি হতে পারি না, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানরা নামমাত্র পাশ নম্বর পেয়ে কীভাবে ভর্তি হয়?

তিনি আরও বলেন, তারা তাদের সন্তানদের নিয়ে এতটা অনিরাপদ অনুভব করেন কেন? তাদের কি আত্মবিশ্বাস নেই যে সন্তানরা যোগ্যতায় ভর্তি হতে পারবে? এই ভিক্ষাবৃত্তি আর কতদিন চলবে? এখানে যারা অনশনে বসেছে, সবাই তাদের মায়ের কলিজার টুকরা। তারা যে এভাবে নিপীড়িত হচ্ছে তা দেখার কি কেউ নেই?

দুপুর ১টার দিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের পাশে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম কনক। তিনি বলেন, আমি মূলত ছাত্রদের খোঁজ নিতে এসেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি, তারা খুব কষ্টে আছে। তাই আমি নিজেও তাদের সঙ্গে অনশনে যোগ দিয়েছি। ইতোমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে, আমরা তাদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে পাঠিয়েছি।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্তসাপেক্ষে পোষ্য কোটা চালু করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানরা যদি স্নাতক প্রথমবর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেয়ে পাশ করে, তবে তারা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।