ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাফল্যের সুতোয় স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়ের পথে উইন্ডি গ্রুপ যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদেরকে নজরদারিতে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডেমরায় বাড়ি থেকে ২ বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার জাপানে ভারি বৃষ্টিতে ৮ জনের মৃত্যু, টোকিও বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী মোংলা নদীতে দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ হবে : নৌপরিবহনমন্ত্রী যারা পালিয়ে যায়, তার আর দেশে ফিরতে পারে না: রিজভী শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে; কালিহাতীতে তীব্র ক্ষোভ বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যা সমাধানে অন্তত দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী বংশালে হেলমেটের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট অনার্স পর্যন্ত নারীদের ফ্রিতে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

ঋণের দায়ে চার মৃত্যু, ধার করে চল্লিশা

  • রাজশাহী ব্যুরো
  • আপডেট সময় ০৯:২৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬৬০ বার পড়া হয়েছে

‘ঋণের দায়ে ও খাওয়ার অভাবে’ রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশিকড় গ্রামে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন মিনারুল ইসলাম। মৃতদের জন্য শনিবার লাখ টাকা ধার করে চল্লিশা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী।

কেউ মারা গেলে ৪০ দিনের মাথায় করতে হয় ‘চল্লিশা’। কোনো কোনো এলাকায় এ অনুষ্ঠান ‘ফয়তা’ নামেও পরিচিত। সেখানে সমাজের মানুষ আমন্ত্রিত হন। দুপুরের খাবার খান। এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রুস্তম আলী এক হাজার ২০০ মানুষকে খাইয়েছেন।

গত ১৪ আগস্ট রুস্তম আলীর ছেলে মিনারুল ইসলাম (৩৫), তার স্ত্রী মনিরা খাতুন (৩০), ছেলে মাহিম (১৪) ও মেয়ে মিথিলা (৩) আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে মিনারুল চিরকুটে লিখে গিয়েছেন- আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মুর্শেদ বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের বিধান নেই; কিন্তু কেউ মারা গেলে এটা করতে হয়। এটা আমাদের এলাকার একটা প্রথা।

শনিবার দুপুরে বামনশিকড় গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভ্যানে চড়ে দূরের গ্রাম থেকে আসছেন আত্মীয়স্বজনরা। আসছেন পুরো গ্রামের মানুষও। রুস্তম আলীর বাড়ির সামনে ও পেছনে দুটি প্যান্ডেল করা হয়েছে। প্যান্ডেলে বসে তারা খাচ্ছেন। ভাতের সঙ্গে ছিল ডাল ও মুড়িঘণ্ট। রুস্তম আলী ঘুরে ঘুরে সবকিছু দেখছিলেন। এর এক ফাঁকেই কথা হয় তার সঙ্গে।

রুস্তম আলী বলেন, এ অনুষ্ঠানকে কেউ চল্লিশা বলে, কেউ বলে ফয়তা। সমাজের মানুষকে নিয়ে এটা করতে হয়। বাপ-দাদার আমল থেকেই দেখে আসছি। আমিও মনের আবেগে করলাম। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী করে। আমি গরিব মানুষ, মাংস করতে পারিনি। মাছ দিয়ে মুড়িঘণ্ট আর ডাল করেছি।

তিনি বলেন, আশপাশের মানুষজন বলছিল চারজনের মরার কারণে বাড়ি ভারি ভারি লাগছিল। ছোট ছিলেপিলেরা ভয় পাচ্ছিল। অনুষ্ঠানটা করলাম যাতে ভয় ভাঙে। বাড়ি যেন পাতলা হয়। এ কারণে দুপুরে দোয়া হয়েছে। তারপর খাওয়া-দাওয়া। প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হলো। আত্মীয়স্বজন ও সমাজের মিলিয়ে ১ হাজার ২০০ মানুষের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল।

টাকা জোগাড় হলো কিভাবে? জানতে চাইলে রুস্তম আলী বলেন, সবই ধার-দেনা। আমার তো জমানো টাকা নাই। শোধ করবেন কিভাবে? এ প্রশ্নে বললেন, ১৫-১৬ কাঠা জমি আছে। এক কাঠা বেচব, বেচে ধার শোধ করব। তাছাড়া তো আর কোনো উপায় নাই।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাফল্যের সুতোয় স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়ের পথে উইন্ডি গ্রুপ

ঋণের দায়ে চার মৃত্যু, ধার করে চল্লিশা

আপডেট সময় ০৯:২৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

‘ঋণের দায়ে ও খাওয়ার অভাবে’ রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশিকড় গ্রামে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন মিনারুল ইসলাম। মৃতদের জন্য শনিবার লাখ টাকা ধার করে চল্লিশা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী।

কেউ মারা গেলে ৪০ দিনের মাথায় করতে হয় ‘চল্লিশা’। কোনো কোনো এলাকায় এ অনুষ্ঠান ‘ফয়তা’ নামেও পরিচিত। সেখানে সমাজের মানুষ আমন্ত্রিত হন। দুপুরের খাবার খান। এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রুস্তম আলী এক হাজার ২০০ মানুষকে খাইয়েছেন।

গত ১৪ আগস্ট রুস্তম আলীর ছেলে মিনারুল ইসলাম (৩৫), তার স্ত্রী মনিরা খাতুন (৩০), ছেলে মাহিম (১৪) ও মেয়ে মিথিলা (৩) আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে মিনারুল চিরকুটে লিখে গিয়েছেন- আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মুর্শেদ বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের বিধান নেই; কিন্তু কেউ মারা গেলে এটা করতে হয়। এটা আমাদের এলাকার একটা প্রথা।

শনিবার দুপুরে বামনশিকড় গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভ্যানে চড়ে দূরের গ্রাম থেকে আসছেন আত্মীয়স্বজনরা। আসছেন পুরো গ্রামের মানুষও। রুস্তম আলীর বাড়ির সামনে ও পেছনে দুটি প্যান্ডেল করা হয়েছে। প্যান্ডেলে বসে তারা খাচ্ছেন। ভাতের সঙ্গে ছিল ডাল ও মুড়িঘণ্ট। রুস্তম আলী ঘুরে ঘুরে সবকিছু দেখছিলেন। এর এক ফাঁকেই কথা হয় তার সঙ্গে।

রুস্তম আলী বলেন, এ অনুষ্ঠানকে কেউ চল্লিশা বলে, কেউ বলে ফয়তা। সমাজের মানুষকে নিয়ে এটা করতে হয়। বাপ-দাদার আমল থেকেই দেখে আসছি। আমিও মনের আবেগে করলাম। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী করে। আমি গরিব মানুষ, মাংস করতে পারিনি। মাছ দিয়ে মুড়িঘণ্ট আর ডাল করেছি।

তিনি বলেন, আশপাশের মানুষজন বলছিল চারজনের মরার কারণে বাড়ি ভারি ভারি লাগছিল। ছোট ছিলেপিলেরা ভয় পাচ্ছিল। অনুষ্ঠানটা করলাম যাতে ভয় ভাঙে। বাড়ি যেন পাতলা হয়। এ কারণে দুপুরে দোয়া হয়েছে। তারপর খাওয়া-দাওয়া। প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হলো। আত্মীয়স্বজন ও সমাজের মিলিয়ে ১ হাজার ২০০ মানুষের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল।

টাকা জোগাড় হলো কিভাবে? জানতে চাইলে রুস্তম আলী বলেন, সবই ধার-দেনা। আমার তো জমানো টাকা নাই। শোধ করবেন কিভাবে? এ প্রশ্নে বললেন, ১৫-১৬ কাঠা জমি আছে। এক কাঠা বেচব, বেচে ধার শোধ করব। তাছাড়া তো আর কোনো উপায় নাই।