ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘বন্দিদের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলতেন জিয়া স্যার’ পাঁচ মাস পর দেশের পথে মির্জা আব্বাস ১৫ দিনের মধ্যে বুড়িগঙ্গার তীর থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সরানোর নির্দেশ হাইকোর্টের ভোলায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমানকে জেলা পুলিশের ফুলেল শুভেচ্ছা ও গার্ড অব অনার ধামইরহাটে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ বিটিভির লোগো পরিবর্তন নয়; দরকার দায়িত্বশীল গণমাধ্যমে রূপান্তর হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আজ বিশ্ব নারিকেল দিবস তোর চৌদ্দ গোষ্ঠীকে জেল-হাজতের ভাত খাওয়াব’: কাকে হুমকি দিলেন পলি? ছেলেকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা মেসির মায়ের

আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক, আমরা জমিদার : জামায়াত নেতা

আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মালিক। আমরা জমিদার’ বলে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী ও হাটহাজারী উপজেলা জামায়াত আমির ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। এ ঘটনায় বিবৃতি দিয়ে জামায়াত নেতার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে শাখা ছাত্রশিবির।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে জামায়াতের ওই নেতার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট, এ এফ রহমান হল ও শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন কিছু শিক্ষার্থী।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

ওই বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মালিক। আমরা জমিদার, জমিদারের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে, এটা আমরা মেনে নেব না। এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বুকের ওপর। আমরা এই জায়গার মালিক, তাই অন্যায় কিছু মেনে নেব না। আমাদের সম্মান করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি আমাদের যথাযথ সম্মান না করে, তবে আমরা জনগণ নিয়ে প্রয়োজনীয় নেব।

এদিকে বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে ক্ষমা চেয়ে গত রাতেই নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম। ওই পোস্টে তিনি বলেন, বক্তব্যের কিছু অংশ অনেকের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। আমার শব্দচয়নে কিছুটা ভুল হতে পারে, তবে আমার উদ্দেশ্য এমনটি ছিল না। আমি গত ১৬ বছর ধরে চবিতে চাকরি করেছি। শিক্ষার্থীরা জানে আমি তাদের কতটুকু স্নেহ করি। আহত ছাত্রদের খোঁজ খবর নিয়েছি এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমার বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমা চাচ্ছি। ভবিষ্যতে আমি আমার শব্দচয়নের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকবো।

এদিকে জামায়াত নেতার বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে ছাত্রশিবির চবি শাখা। জামায়াত নেতা সিরাজুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্যের জেরে বিবৃতি দিয়েছে তারা। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জামায়াত নেতার বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে সংগঠনটি।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, হাটহাজারী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও দলীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সিরাজুল ইসলাম জোবরা এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অহংকারী ভাষায় ও শিক্ষার্থীদের জন্য অপমানজনক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রকৃত সন্ত্রাসীদের অপকর্মকে আড়াল করে দেয়। তার বক্তব্য স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দায়মুক্তি দেওয়ার নামান্তর।

বিবৃতিতে এ ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা সরাসরি অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করে ছাত্রশিবির। এতে বলা হয়, হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে এক বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাকে গ্রেপ্তার দূরে থাক, তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়নি। অস্ত্র নিয়ে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা ছাত্রদলের ক্যাডার হওয়ার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে মতবিনিময় সভায় এই বিতর্কিত বক্তব্য দেন জামায়াতে নেতা সিরাজুল ইসলাম।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বন্দিদের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলতেন জিয়া স্যার’

আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক, আমরা জমিদার : জামায়াত নেতা

আপডেট সময় ০২:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মালিক। আমরা জমিদার’ বলে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী ও হাটহাজারী উপজেলা জামায়াত আমির ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। এ ঘটনায় বিবৃতি দিয়ে জামায়াত নেতার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে শাখা ছাত্রশিবির।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে জামায়াতের ওই নেতার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট, এ এফ রহমান হল ও শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন কিছু শিক্ষার্থী।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

ওই বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মালিক। আমরা জমিদার, জমিদারের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে, এটা আমরা মেনে নেব না। এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বুকের ওপর। আমরা এই জায়গার মালিক, তাই অন্যায় কিছু মেনে নেব না। আমাদের সম্মান করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি আমাদের যথাযথ সম্মান না করে, তবে আমরা জনগণ নিয়ে প্রয়োজনীয় নেব।

এদিকে বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে ক্ষমা চেয়ে গত রাতেই নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম। ওই পোস্টে তিনি বলেন, বক্তব্যের কিছু অংশ অনেকের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। আমার শব্দচয়নে কিছুটা ভুল হতে পারে, তবে আমার উদ্দেশ্য এমনটি ছিল না। আমি গত ১৬ বছর ধরে চবিতে চাকরি করেছি। শিক্ষার্থীরা জানে আমি তাদের কতটুকু স্নেহ করি। আহত ছাত্রদের খোঁজ খবর নিয়েছি এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমার বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমা চাচ্ছি। ভবিষ্যতে আমি আমার শব্দচয়নের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকবো।

এদিকে জামায়াত নেতার বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে ছাত্রশিবির চবি শাখা। জামায়াত নেতা সিরাজুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্যের জেরে বিবৃতি দিয়েছে তারা। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জামায়াত নেতার বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে সংগঠনটি।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, হাটহাজারী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও দলীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সিরাজুল ইসলাম জোবরা এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অহংকারী ভাষায় ও শিক্ষার্থীদের জন্য অপমানজনক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রকৃত সন্ত্রাসীদের অপকর্মকে আড়াল করে দেয়। তার বক্তব্য স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দায়মুক্তি দেওয়ার নামান্তর।

বিবৃতিতে এ ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা সরাসরি অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করে ছাত্রশিবির। এতে বলা হয়, হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে এক বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাকে গ্রেপ্তার দূরে থাক, তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়নি। অস্ত্র নিয়ে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা ছাত্রদলের ক্যাডার হওয়ার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে মতবিনিময় সভায় এই বিতর্কিত বক্তব্য দেন জামায়াতে নেতা সিরাজুল ইসলাম।