ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘জি এম তো নাই’ হেসে বললেন স্পিকার, বাতিল হলো প্রশ্ন সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুলের ২৮৪ শতক জমি জব্দ, ৬ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ কুমিল্লা দাউদকান্দিতে ১ লাখ ৪২ হাজার ভারতীয় ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার-১২ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের কাছে নথি চায় দুদক শাবনূরকে বিয়ে করা প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন সালমান শাহর বাবা মনোহরগঞ্জে ভাতের হোটেল থেকে ইয়াবাসহ ২জন আটক ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ : হাসিনা ও রেহানার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত মাদক ও বাল্যবিবাহ রোধে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সভা পবিপ্রবি’র ভেটেরিনারী অনুষদের মেইন গেট উদ্বোধন ও শিক্ষার্থীদের সেমিনার ৫ মাস পর সংসদ অধিবেশনে মির্জা আব্বাস, অভিনন্দন জানালেন স্পিকার

খালি হাতে ধরেন বিদ্যুতের তার, তারপরও কিছুই হয় না আয়নাল মিয়ার

কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই খালি হাতে ধরতে পারেন বিদ্যুতের তার। কাজও করেন খালি হাতে। তারপরও কিছুই হয় না হবিগঞ্জের ‌‘বিদ্যুৎ মানব’ আয়নাল মিয়ার।

শুধু তাই নয়, ৪৪০ ভোল্টের লাইনেও খালি হাতে কাজ করেন আয়নাল মিয়া। এতেও তার কোনো ক্ষতি হয় না। তবে কী কারণে বিদ্যুৎ তার শরীরে কোনো ক্ষতি করে না, তার কারণ জানা যায়নি।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার দোকানটুলা মহল্লার বাসিন্দা আয়নাল মিয়া। বয়স ৬০ বছর। ৩৫ বছর ধরে করছেন বিদ্যুতের কাজ। মাত্র ২৫ বছর বয়সে পেশা হিসেবে ইলেকট্রিকের কাজ শুরু করেন। ২৭ বছর আগে হঠাৎ একদিন তার হাতে বিদ্যুতের তার লেগে যায়। কিন্তু আয়নাল মিয়া খেয়াল করলেন, শরীরে বিদ্যুতের তার লাগলেও তার কিছুই হচ্ছে না। এরপর তিনি নির্ভয়েই অপর তারটি ধরে ফেলেন। দেখেন তাতেও তার কিছু হচ্ছে না। এরপর থেকেই গ্লাভস নয়, খালি হাত দিয়েই শুরু করেন বিদ্যুতের কাজ। আজ পর্যন্ত চলছে তার খালি হাতে বিদ্যুতের কাজ করা।

স্থানীয় মহিবুর রহমান বাবলু বলেন, ‘আয়নাল ভাই একজন বিস্ময়কর মানব। তার কাজ সত্যিই অবিশ্বাস্য। যে কারও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলেই তিনি ছুটে যান। মজুরি নিয়েও তার কোনো দর-কষাকষি নেই। যে যা দেন তাই তিনি নেন। আমরা দোয়া করি, তিনি যেন দীর্ঘদিন এভাবেই মানুষের সেবা করতে পারেন।’

নাজমুল হোসেন নামের আরেকজন বলেন, ‘আয়নাল ভাই একজন পরোপকারী মানুষ। আমরা অনেক বছর ধরেই দেখে আসছি, তিনি খালি হাতে বিদ্যুতের কাজ করছেন। এটি আসলে অলৌকিক বিষয়।’
চানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ বলেন, ‘আয়নাল ভাইয়ের বিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করা দেখলে মনে হবে যেন তিনি সন্তানদের নিয়ে খেলাধুলা করছেন। যেভাবে তিনি হাই ভোল্টেজ লাইনে কাজ করেন, তা যে কারও শিউরে ওঠার কথা। ঝড়-বৃষ্টি যা-ই হোক, এলাকার মানুষের কারও কোনো সমস্য হলে সমাধান করতে ছুটে যান আয়নাল মিয়া। আমরা চাই, সরকার যেন তার কাজের স্বীকৃতি দেয়।’

এ বিষয়ে ‘বিদ্যুৎ মানব’ আয়নাল মিয়া বলেন, ‘৪৪০ ভোল্টের লাইনে আমি খালি হাতে ধরে কাজ করতে পারি। তারপরও আমার কিছুই হয় না।’

তিনি বলেন, ‘২৭ বছর আগে হঠাৎ একদিন কাজ করতে গিয়ে আমার হাতে বিদ্যুতের তার লেগে যায়। দেখি আমার কিছুই হয়নি। এরপর আমি নিজে ধরার চেষ্টা করি। তাতেও দেখি কিছু হয় না। তখন থেকেই মূলত আমি খালি হাতে বিদ্যুতের কাজ করা শুরু করি। বিদ্যুতের তার ধরে আমি ডিমে ধরলে ডিম সিদ্ধ হয়, দেয়াশলাইয়ের কাঠি ধরলে আগুন জ্বলে।’

তবে অলৌকিক এ ঘটনার পেছনে ‘মায়ের দোয়ার’ প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন আয়নাল মিয়া। তিনি বলেন, ‘এটি আমার মায়ের দোয়া। আমার মা প্রতিদিন আমার জন্য দোয়া করতেন যেন বিদ্যুৎ আমার কোনো ক্ষতি করতে না পারে।’

অন্যদের সতর্ক করে দিয়ে আয়নাল মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎ খুবই ভয়ানক জিনিস। কেউ যেন আমার মতো খালি হাতে ধরার চেষ্টা না করেন। এতে মৃত্যু হওয়া স্বাভাবিক।’
এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘আমরা জানি আয়নাল মিয়া ২২০ এবং ৪৪০ ভোল্টের লাইনে খালি হাতে ধরলেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন না। এটি কী কারণে হয় না তা আসলে বলা কঠিন। এমন ভোল্টের লাইনে ধরলে যে কারও মৃত্যু হওয়া স্বাভাবিক।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জি এম তো নাই’ হেসে বললেন স্পিকার, বাতিল হলো প্রশ্ন

খালি হাতে ধরেন বিদ্যুতের তার, তারপরও কিছুই হয় না আয়নাল মিয়ার

আপডেট সময় ০৪:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই খালি হাতে ধরতে পারেন বিদ্যুতের তার। কাজও করেন খালি হাতে। তারপরও কিছুই হয় না হবিগঞ্জের ‌‘বিদ্যুৎ মানব’ আয়নাল মিয়ার।

শুধু তাই নয়, ৪৪০ ভোল্টের লাইনেও খালি হাতে কাজ করেন আয়নাল মিয়া। এতেও তার কোনো ক্ষতি হয় না। তবে কী কারণে বিদ্যুৎ তার শরীরে কোনো ক্ষতি করে না, তার কারণ জানা যায়নি।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার দোকানটুলা মহল্লার বাসিন্দা আয়নাল মিয়া। বয়স ৬০ বছর। ৩৫ বছর ধরে করছেন বিদ্যুতের কাজ। মাত্র ২৫ বছর বয়সে পেশা হিসেবে ইলেকট্রিকের কাজ শুরু করেন। ২৭ বছর আগে হঠাৎ একদিন তার হাতে বিদ্যুতের তার লেগে যায়। কিন্তু আয়নাল মিয়া খেয়াল করলেন, শরীরে বিদ্যুতের তার লাগলেও তার কিছুই হচ্ছে না। এরপর তিনি নির্ভয়েই অপর তারটি ধরে ফেলেন। দেখেন তাতেও তার কিছু হচ্ছে না। এরপর থেকেই গ্লাভস নয়, খালি হাত দিয়েই শুরু করেন বিদ্যুতের কাজ। আজ পর্যন্ত চলছে তার খালি হাতে বিদ্যুতের কাজ করা।

স্থানীয় মহিবুর রহমান বাবলু বলেন, ‘আয়নাল ভাই একজন বিস্ময়কর মানব। তার কাজ সত্যিই অবিশ্বাস্য। যে কারও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলেই তিনি ছুটে যান। মজুরি নিয়েও তার কোনো দর-কষাকষি নেই। যে যা দেন তাই তিনি নেন। আমরা দোয়া করি, তিনি যেন দীর্ঘদিন এভাবেই মানুষের সেবা করতে পারেন।’

নাজমুল হোসেন নামের আরেকজন বলেন, ‘আয়নাল ভাই একজন পরোপকারী মানুষ। আমরা অনেক বছর ধরেই দেখে আসছি, তিনি খালি হাতে বিদ্যুতের কাজ করছেন। এটি আসলে অলৌকিক বিষয়।’
চানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ বলেন, ‘আয়নাল ভাইয়ের বিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করা দেখলে মনে হবে যেন তিনি সন্তানদের নিয়ে খেলাধুলা করছেন। যেভাবে তিনি হাই ভোল্টেজ লাইনে কাজ করেন, তা যে কারও শিউরে ওঠার কথা। ঝড়-বৃষ্টি যা-ই হোক, এলাকার মানুষের কারও কোনো সমস্য হলে সমাধান করতে ছুটে যান আয়নাল মিয়া। আমরা চাই, সরকার যেন তার কাজের স্বীকৃতি দেয়।’

এ বিষয়ে ‘বিদ্যুৎ মানব’ আয়নাল মিয়া বলেন, ‘৪৪০ ভোল্টের লাইনে আমি খালি হাতে ধরে কাজ করতে পারি। তারপরও আমার কিছুই হয় না।’

তিনি বলেন, ‘২৭ বছর আগে হঠাৎ একদিন কাজ করতে গিয়ে আমার হাতে বিদ্যুতের তার লেগে যায়। দেখি আমার কিছুই হয়নি। এরপর আমি নিজে ধরার চেষ্টা করি। তাতেও দেখি কিছু হয় না। তখন থেকেই মূলত আমি খালি হাতে বিদ্যুতের কাজ করা শুরু করি। বিদ্যুতের তার ধরে আমি ডিমে ধরলে ডিম সিদ্ধ হয়, দেয়াশলাইয়ের কাঠি ধরলে আগুন জ্বলে।’

তবে অলৌকিক এ ঘটনার পেছনে ‘মায়ের দোয়ার’ প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন আয়নাল মিয়া। তিনি বলেন, ‘এটি আমার মায়ের দোয়া। আমার মা প্রতিদিন আমার জন্য দোয়া করতেন যেন বিদ্যুৎ আমার কোনো ক্ষতি করতে না পারে।’

অন্যদের সতর্ক করে দিয়ে আয়নাল মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎ খুবই ভয়ানক জিনিস। কেউ যেন আমার মতো খালি হাতে ধরার চেষ্টা না করেন। এতে মৃত্যু হওয়া স্বাভাবিক।’
এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘আমরা জানি আয়নাল মিয়া ২২০ এবং ৪৪০ ভোল্টের লাইনে খালি হাতে ধরলেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন না। এটি কী কারণে হয় না তা আসলে বলা কঠিন। এমন ভোল্টের লাইনে ধরলে যে কারও মৃত্যু হওয়া স্বাভাবিক।’