সংবাদ শিরোনাম ::
জাল সনদে ১২ বছর চাকরি, বৈধ সনদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বগুড়া পাসপোর্ট অফিসে ডিডি মানিক ও এডি আজিজের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রূপগঞ্জে ১% বরাদ্দের কোটি টাকা ‘লুটপাট’: ইউএনও ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ বিআরটিসির গাবতলী ডিপো ম্যানেজার নায়েব আলীর বিরুদ্ধে রাজস্বে ৮ কোটি টাকার ক্ষতির দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কুমিল্লার নতুন ডিসি গুলশানে ৩শ’ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি দখলে ভূমিদস্যু চক্রের সিন্ডিকেট ডেসটিনি থেকে ‘অতিথি ডটকম’ জেল থেকে বের হয়ে সাইফুলের আবার প্রতারনা রাজবাড়ীতে রেলগেটের ব্যারিয়ার ভেঙে রেললাইনে ট্রাক, ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ব্রাজিলকে ছেড়ে কথা বলব না: জাপান কোচ বিআরটিএর ফিটনেস সনদে মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলমের অনিয়ম

ফিফার বিরুদ্ধে ১ লাখ ফুটবলারের মামলা!

ফুটবল বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা পড়তে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইনি ঝামেলায়। ডাচ ফাউন্ডেশন ‘জাস্টিস ফর প্লেয়ার্স’ (জেএফপি) ঘোষণা দিয়েছে, তারা ফিফা ও ইউরোপের পাঁচটি দেশের ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ ক্লাস-অ্যাকশন মামলা দায়ের করতে যাচ্ছে। দাবি? গত দুই দশকে ট্রান্সফার নীতিমালার মাধ্যমে যেসব খেলোয়াড় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।

২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস ফিফার কিছু ট্রান্সফার নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে জানায়, এগুলো খেলোয়াড়দের মুক্ত চলাচলের অধিকার লঙ্ঘন করে এবং প্রতিযোগিতায় বাঁধা দেয়। এ রায়কে ভিত্তি করেই এবার আন্দোলনে নামছে জাস্টিস ফর প্লেয়ার্স।

জেএফপি জানায়, ২০০২ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ফিফার অনৈতিক ট্রান্সফার নীতির কারণে খেলোয়াড়রা গড়ে ৮% কম আয় করেছেন। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউ) এবং যুক্তরাজ্যের প্রায় ১ লাখ পেশাদার ফুটবলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি ফাউন্ডেশনটির।

মামলা কোথায়, কাদের বিরুদ্ধে?

এই মামলা করা হবে নেদারল্যান্ডসের মিডেন-নেদারল্যান্ড জেলা আদালতে। অভিযুক্তদের তালিকায় ফিফার পাশাপাশি রয়েছে নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম ও ডেনমার্কের ফুটবল ফেডারেশন।

জেএফপির ভাষ্য, ‘ফিফার নীতিমালায় ক্লাবগুলো একচেটিয়া ক্ষমতা পেত—কোনো খেলোয়াড় কখন, কীভাবে দল ছাড়বে, তার সবকিছুই ক্লাবের হাতে বন্দী ছিল। এটা কার্যত এক ধরনের অকার্যকর ‘নন-ট্রান্সফার’ চুক্তি ছিল।’

তারা আরও জানায়, এই মামলা শুধু অর্থ আদায়ের জন্য নয়, বরং এটা আইনের শাসনের প্রশ্ন। তারা চায় খেলোয়াড়েরা যেন তাদের প্রাপ্য ন্যায্যতা ও ক্ষতিপূরণ পান।

এই প্রসঙ্গে আলোচনায় এসেছে প্রাক্তন রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজি তারকা লাসানা দিয়ারার নামও। তিনি তার এক পুরোনো ট্রান্সফার নিয়ে যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন—সেই উদাহরণও উঠে এসেছে মামলার নথিতে।

এই মামলা যদি খেলোয়াড়রা জিতে যায়, তবে তা ফিফার গঠনমূলক নীতিতেই বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে—বিশেষ করে খেলোয়াড়দের অধিকার ও ট্রান্সফার ব্যবস্থাকে ঘিরে। এখন দেখার বিষয়, ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এই বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে কীভাবে সাড়া দেয়।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাল সনদে ১২ বছর চাকরি, বৈধ সনদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

ফিফার বিরুদ্ধে ১ লাখ ফুটবলারের মামলা!

আপডেট সময় ০৪:৩৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

ফুটবল বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা পড়তে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইনি ঝামেলায়। ডাচ ফাউন্ডেশন ‘জাস্টিস ফর প্লেয়ার্স’ (জেএফপি) ঘোষণা দিয়েছে, তারা ফিফা ও ইউরোপের পাঁচটি দেশের ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ ক্লাস-অ্যাকশন মামলা দায়ের করতে যাচ্ছে। দাবি? গত দুই দশকে ট্রান্সফার নীতিমালার মাধ্যমে যেসব খেলোয়াড় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।

২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস ফিফার কিছু ট্রান্সফার নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে জানায়, এগুলো খেলোয়াড়দের মুক্ত চলাচলের অধিকার লঙ্ঘন করে এবং প্রতিযোগিতায় বাঁধা দেয়। এ রায়কে ভিত্তি করেই এবার আন্দোলনে নামছে জাস্টিস ফর প্লেয়ার্স।

জেএফপি জানায়, ২০০২ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ফিফার অনৈতিক ট্রান্সফার নীতির কারণে খেলোয়াড়রা গড়ে ৮% কম আয় করেছেন। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউ) এবং যুক্তরাজ্যের প্রায় ১ লাখ পেশাদার ফুটবলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি ফাউন্ডেশনটির।

মামলা কোথায়, কাদের বিরুদ্ধে?

এই মামলা করা হবে নেদারল্যান্ডসের মিডেন-নেদারল্যান্ড জেলা আদালতে। অভিযুক্তদের তালিকায় ফিফার পাশাপাশি রয়েছে নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম ও ডেনমার্কের ফুটবল ফেডারেশন।

জেএফপির ভাষ্য, ‘ফিফার নীতিমালায় ক্লাবগুলো একচেটিয়া ক্ষমতা পেত—কোনো খেলোয়াড় কখন, কীভাবে দল ছাড়বে, তার সবকিছুই ক্লাবের হাতে বন্দী ছিল। এটা কার্যত এক ধরনের অকার্যকর ‘নন-ট্রান্সফার’ চুক্তি ছিল।’

তারা আরও জানায়, এই মামলা শুধু অর্থ আদায়ের জন্য নয়, বরং এটা আইনের শাসনের প্রশ্ন। তারা চায় খেলোয়াড়েরা যেন তাদের প্রাপ্য ন্যায্যতা ও ক্ষতিপূরণ পান।

এই প্রসঙ্গে আলোচনায় এসেছে প্রাক্তন রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজি তারকা লাসানা দিয়ারার নামও। তিনি তার এক পুরোনো ট্রান্সফার নিয়ে যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন—সেই উদাহরণও উঠে এসেছে মামলার নথিতে।

এই মামলা যদি খেলোয়াড়রা জিতে যায়, তবে তা ফিফার গঠনমূলক নীতিতেই বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে—বিশেষ করে খেলোয়াড়দের অধিকার ও ট্রান্সফার ব্যবস্থাকে ঘিরে। এখন দেখার বিষয়, ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এই বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে কীভাবে সাড়া দেয়।