সংবাদ শিরোনাম ::
দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কুমিল্লার নতুন ডিসি গুলশানে ৩শ’ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি দখলে ভূমিদস্যু চক্রের সিন্ডিকেট ডেসটিনি থেকে ‘অতিথি ডটকম’ জেল থেকে বের হয়ে সাইফুলের আবার প্রতারনা রাজবাড়ীতে রেলগেটের ব্যারিয়ার ভেঙে রেললাইনে ট্রাক, ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ব্রাজিলকে ছেড়ে কথা বলব না: জাপান কোচ বিআরটিএর ফিটনেস সনদে মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলমের অনিয়ম প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আজ জাপানের বিপক্ষে কতক্ষণ খেলবেন নেইমার? জানালেন আনচেলত্তি দেশীয় ফলের আয়োজনে প্রাণবন্ত বেরোবি সাংবাদিক সমিতি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিআরটিএর ফিটনেস সনদে মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলমের অনিয়ম

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ (উত্তরা-দিয়াবাড়ি) কার্যালয়ের ফিটনেস শাখাকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং অনিয়মের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলম-এর নাম। একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেছেন, ফিটনেস শাখার নানা অনিয়মের ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে ফাইল বারবার ফেরত দেওয়া হয়, অযৌক্তিক জটিলতা সৃষ্টি করা হয় এবং সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিলে একই কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যায়।
একাধিক পরিবহন মালিকের দাবি, সরকারি ফির বাইরে এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। তাদের অভিযোগ, এই পুরো প্রক্রিয়া এমনভাবে পরিচালিত হয় যে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা শেষ পর্যন্ত দালালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন।
পরিবহন মালিক আজম, মালেক, আব্দুল গনি ও সামাদসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ফিটনেস শাখার কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন থাকলেও কার্যকর পরিবর্তন আসেনি। তাদের দাবি, কার্যালয়ের ভেতর ও বাইরে দালালদের প্রকাশ্য তৎপরতা থাকলেও তা বন্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন মালিক বলেন,
“নিয়ম মেনে গেলে কাজ হয় না। কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যায়।”
আরও অভিযোগ রয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত কিছু যানবাহনও অর্থের বিনিময়ে ফিটনেস সনদ পাচ্ছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা ঘটলে তা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে।
একাধিক সেবাগ্রহীতা সরাসরি মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলম-এর নাম উল্লেখ করে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ফিটনেস শাখার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর তদন্ত হয়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কায়সার আলম বলেন,
“আমি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। আর মোবাইলে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।”
অতীতেও বিআরটিএতে ফিটনেস সনদ, দালালচক্র ও ঘুষের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৬ সালের গণশুনানি, ২০১৮ সালের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ২০২২ সালের পরিদর্শন ছাড়াই ফিটনেস সনদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথাও জানা যায়।
দূরপাল্লার পরিবহন মালিক, স্থানীয় পরিবহন উদ্যোক্তা ও চালকদের দাবি, ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ কার্যালয়ের ফিটনেস শাখার কার্যক্রম, বিশেষ করে সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ এবং মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। তাদের মতে, বিআরটিএ সদর দপ্তর, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
এ বিষয়ে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শফিকুজ্জামান ভূইয়া বলেন,
“আমরা সব অভিযোগ আমলে নিয়ে কাজ করছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত কুমিল্লার নতুন ডিসি

বিআরটিএর ফিটনেস সনদে মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলমের অনিয়ম

আপডেট সময় ১২:০১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ (উত্তরা-দিয়াবাড়ি) কার্যালয়ের ফিটনেস শাখাকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং অনিয়মের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলম-এর নাম। একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেছেন, ফিটনেস শাখার নানা অনিয়মের ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে ফাইল বারবার ফেরত দেওয়া হয়, অযৌক্তিক জটিলতা সৃষ্টি করা হয় এবং সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিলে একই কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যায়।
একাধিক পরিবহন মালিকের দাবি, সরকারি ফির বাইরে এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। তাদের অভিযোগ, এই পুরো প্রক্রিয়া এমনভাবে পরিচালিত হয় যে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা শেষ পর্যন্ত দালালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন।
পরিবহন মালিক আজম, মালেক, আব্দুল গনি ও সামাদসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ফিটনেস শাখার কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন থাকলেও কার্যকর পরিবর্তন আসেনি। তাদের দাবি, কার্যালয়ের ভেতর ও বাইরে দালালদের প্রকাশ্য তৎপরতা থাকলেও তা বন্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন মালিক বলেন,
“নিয়ম মেনে গেলে কাজ হয় না। কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যায়।”
আরও অভিযোগ রয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত কিছু যানবাহনও অর্থের বিনিময়ে ফিটনেস সনদ পাচ্ছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা ঘটলে তা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে।
একাধিক সেবাগ্রহীতা সরাসরি মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলম-এর নাম উল্লেখ করে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ফিটনেস শাখার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর তদন্ত হয়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কায়সার আলম বলেন,
“আমি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। আর মোবাইলে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।”
অতীতেও বিআরটিএতে ফিটনেস সনদ, দালালচক্র ও ঘুষের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৬ সালের গণশুনানি, ২০১৮ সালের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ২০২২ সালের পরিদর্শন ছাড়াই ফিটনেস সনদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথাও জানা যায়।
দূরপাল্লার পরিবহন মালিক, স্থানীয় পরিবহন উদ্যোক্তা ও চালকদের দাবি, ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ কার্যালয়ের ফিটনেস শাখার কার্যক্রম, বিশেষ করে সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ এবং মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। তাদের মতে, বিআরটিএ সদর দপ্তর, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
এ বিষয়ে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শফিকুজ্জামান ভূইয়া বলেন,
“আমরা সব অভিযোগ আমলে নিয়ে কাজ করছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”