ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফের বিরুদ্ধে টেন্ডারে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ অভিযোগের মুখে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স এডি ইমরানের বিরুদ্ধে বেপরোয়া হুমকির অভিযোগ রেলের প্রকৌশলী সামছ তুষারের বিরুদ্ধে টেন্ডারে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ৫০ ভিক্ষুক পরিবারের পুনর্বাসনে ২৪ লাখ টাকার বকনা গরু বিতরণ জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেনী পাসপোর্ট অফিসের এডি জাহাঙ্গীরকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেটে দল বদলেছে, দখল বদলায়নি; চাঁদাবাজি চলছে আগের মতোই

ত্বকের অনিরাময়যোগ্য রোগ সোরিয়াসিস

সোরিয়াসিস হলো ইমিউন সিস্টেমের সঙ্গে সম্পর্কিত রোগ। এই রোগে হয় প্রদাহ আর এর সঙ্গে ইমিউন সিস্টেমের কর্মক্ষমতার বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সোরিয়াসিস পাঁচ রকমের হয়ে থাকে। এই রোগ ছোঁয়াচে নয়।ত্বকের এই অসুখ সম্বন্ধে ধারণা দিতে গোড়ার কথা বলি।

ত্বকের স্তর দুটি—

১. ওপরের স্তর হলো এপিডার্মিস বা বহিঃত্বক

২. ভেতরের ত্বক হলো ডার্মিস বা অন্তঃত্বক

বহিঃত্বকের ঠিক ওপরের অংশ হলো কেরাটিন, যা এক ধরনের প্রোটিন। নির্দিষ্ট সময় অন্তর কেরাটিন খসে যায় আর এর নিচের সজীব কোষ উঠে আসে। সময় হলে এরাও খসে পড়ে। চক্রাকারে এমন চলতেই থাকে। ত্বকবিজ্ঞানে একে বলে এপিডার্মিস টার্নওভার। এই নিরন্তর চলতে থাকা প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা হলে সোরিয়াসিস দেখা দেয়। এমন অদলবদল বা টার্নওভার সমাপ্ত হতে সময় লাগে ২৮ দিন। মানে এ সময়ের মধ্যেই বহিঃত্বকের আয়ু শেষ হয়।

কিন্তু এই সময়ের বদলে যদি পরিবর্তনটা দ্রুত ঘটে, অর্থাৎ তিন থেকে চার দিন লাগে, তবে ইমিউন সিস্টেম অতি সক্রিয় হওয়ায় ত্বকের কোষের বৃদ্ধি খুব দ্রুত হয়।

কারণ : এর কারণ খুব স্পষ্ট নয়। কিছু জিনিস একে ট্রিগার করতে বা উসকে দিতে পারে। ট্রিগারের কারণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

লক্ষণ : শরীরের নানা অংশ থেকে ছাল উঠতে শুরু করে। শুধু ছাল ওঠার মধ্যেই এই সমস্যা সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে থাকে ভয়ংকর চুলকানি, র‌্যাশ, ব্যথা, চুলকাতে চুলকাতে সংক্রমণ হয়ে ঘা হতে পারে।

শরীরের অন্যান্য জায়গার তুলনায় কনুই, হাঁটু আর করোটি ত্বকে বেশি পরিমাণে ছাল ওঠে। প্রদাহ হয়, আর তাই মাছের আঁশের মতো ত্বকের ছাল ওঠে। মাথায় বাড়াবাড়ি রকমের খুশকি হতে পারে। নখে এর প্রভাব পড়াতে গর্ত হয়ে যেতে পারে। ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আবার যেকোনো বয়সে যে কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারে।

চিকিৎসা : এই রোগ কখনো নিরাময় হয় না। তবে চিকিৎসার নানা বিকল্প আছে। তাই উপসর্গ দেখলে দ্রুত ত্বক বিশেষজ্ঞকে দেখাতে হবে। রোগের লক্ষণ অনুযায়ী বিশেষ ধরনের স্টেরয়েড ওষুধ দিয়ে রোগ আটকে দেওয়া যায়।

স্কিন বায়োপসি করে রোগ সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যায়। শুরুতে চিকিৎসা করা খুব জরুরি। রোগ চুপসে থাকলেও আবার ঘুরে-ফিরে আসে। এই রোগ স্ট্রেস উসকে দেয়। তাই স্ট্রেস কমানো চিকিৎসার অন্যতম অংশ।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফের বিরুদ্ধে টেন্ডারে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

ত্বকের অনিরাময়যোগ্য রোগ সোরিয়াসিস

আপডেট সময় ১১:৩০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২২

সোরিয়াসিস হলো ইমিউন সিস্টেমের সঙ্গে সম্পর্কিত রোগ। এই রোগে হয় প্রদাহ আর এর সঙ্গে ইমিউন সিস্টেমের কর্মক্ষমতার বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সোরিয়াসিস পাঁচ রকমের হয়ে থাকে। এই রোগ ছোঁয়াচে নয়।ত্বকের এই অসুখ সম্বন্ধে ধারণা দিতে গোড়ার কথা বলি।

ত্বকের স্তর দুটি—

১. ওপরের স্তর হলো এপিডার্মিস বা বহিঃত্বক

২. ভেতরের ত্বক হলো ডার্মিস বা অন্তঃত্বক

বহিঃত্বকের ঠিক ওপরের অংশ হলো কেরাটিন, যা এক ধরনের প্রোটিন। নির্দিষ্ট সময় অন্তর কেরাটিন খসে যায় আর এর নিচের সজীব কোষ উঠে আসে। সময় হলে এরাও খসে পড়ে। চক্রাকারে এমন চলতেই থাকে। ত্বকবিজ্ঞানে একে বলে এপিডার্মিস টার্নওভার। এই নিরন্তর চলতে থাকা প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা হলে সোরিয়াসিস দেখা দেয়। এমন অদলবদল বা টার্নওভার সমাপ্ত হতে সময় লাগে ২৮ দিন। মানে এ সময়ের মধ্যেই বহিঃত্বকের আয়ু শেষ হয়।

কিন্তু এই সময়ের বদলে যদি পরিবর্তনটা দ্রুত ঘটে, অর্থাৎ তিন থেকে চার দিন লাগে, তবে ইমিউন সিস্টেম অতি সক্রিয় হওয়ায় ত্বকের কোষের বৃদ্ধি খুব দ্রুত হয়।

কারণ : এর কারণ খুব স্পষ্ট নয়। কিছু জিনিস একে ট্রিগার করতে বা উসকে দিতে পারে। ট্রিগারের কারণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

লক্ষণ : শরীরের নানা অংশ থেকে ছাল উঠতে শুরু করে। শুধু ছাল ওঠার মধ্যেই এই সমস্যা সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে থাকে ভয়ংকর চুলকানি, র‌্যাশ, ব্যথা, চুলকাতে চুলকাতে সংক্রমণ হয়ে ঘা হতে পারে।

শরীরের অন্যান্য জায়গার তুলনায় কনুই, হাঁটু আর করোটি ত্বকে বেশি পরিমাণে ছাল ওঠে। প্রদাহ হয়, আর তাই মাছের আঁশের মতো ত্বকের ছাল ওঠে। মাথায় বাড়াবাড়ি রকমের খুশকি হতে পারে। নখে এর প্রভাব পড়াতে গর্ত হয়ে যেতে পারে। ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আবার যেকোনো বয়সে যে কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারে।

চিকিৎসা : এই রোগ কখনো নিরাময় হয় না। তবে চিকিৎসার নানা বিকল্প আছে। তাই উপসর্গ দেখলে দ্রুত ত্বক বিশেষজ্ঞকে দেখাতে হবে। রোগের লক্ষণ অনুযায়ী বিশেষ ধরনের স্টেরয়েড ওষুধ দিয়ে রোগ আটকে দেওয়া যায়।

স্কিন বায়োপসি করে রোগ সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যায়। শুরুতে চিকিৎসা করা খুব জরুরি। রোগ চুপসে থাকলেও আবার ঘুরে-ফিরে আসে। এই রোগ স্ট্রেস উসকে দেয়। তাই স্ট্রেস কমানো চিকিৎসার অন্যতম অংশ।