সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

প্রকৌশলী জহির রায়হানের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হানের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে জহির রায়হানের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের মানববন্ধন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি দুদকের নজরে আসে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ই মে চট্টগ্রাম জোনের বাংলাদেশ ঠিকাদার সমিতির নেতৃবৃন্দ এক মানববন্ধনে গণপূর্তের প্রকৌশলী জহির রায়হানকে অপসারণের দাবি জানান। বক্তারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে কোড বিক্রি ও একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন জহির রায়হান। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের নিকট থেকে সুবিধা না পেলে তাদের কাজ বন্ধ রাখা, বিল পাশ করতে গড়িমসি করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি টিম সম্প্রতি গণপূর্ত বিভাগের চট্টগ্রাম অফিসে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিভিন্ন নথিপত্র, বিল, টেন্ডার কার্যক্রমের কাগজপত্র কিছু নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিক অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাচ্ছে দুদক।

দুদক সংশ্লিষ্ট একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে এবং তদন্ত শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সেবা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে প্রকৌশলী জহির রায়হানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠলেও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় ঠিকাদার ও নাগরিক মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়। তবে এবারের ঘটনায় দুদকের সক্রিয়তা নাগরিকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সচেতনমহল।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

প্রকৌশলী জহির রায়হানের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:২০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হানের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে জহির রায়হানের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের মানববন্ধন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি দুদকের নজরে আসে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ই মে চট্টগ্রাম জোনের বাংলাদেশ ঠিকাদার সমিতির নেতৃবৃন্দ এক মানববন্ধনে গণপূর্তের প্রকৌশলী জহির রায়হানকে অপসারণের দাবি জানান। বক্তারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে কোড বিক্রি ও একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন জহির রায়হান। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের নিকট থেকে সুবিধা না পেলে তাদের কাজ বন্ধ রাখা, বিল পাশ করতে গড়িমসি করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি টিম সম্প্রতি গণপূর্ত বিভাগের চট্টগ্রাম অফিসে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিভিন্ন নথিপত্র, বিল, টেন্ডার কার্যক্রমের কাগজপত্র কিছু নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিক অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাচ্ছে দুদক।

দুদক সংশ্লিষ্ট একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে এবং তদন্ত শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সেবা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে প্রকৌশলী জহির রায়হানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠলেও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় ঠিকাদার ও নাগরিক মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়। তবে এবারের ঘটনায় দুদকের সক্রিয়তা নাগরিকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সচেতনমহল।