সংবাদ শিরোনাম ::
অনেকে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডো গাড়িতে চড়ে জুলাই চেতনা বিক্রি করেন ফেনীতে ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন, ২ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি শিশু পাবে ক্যাপসুল নাঙ্গলকোটে বোন, ভাগিনা ও ভগ্নিপতির হামলায় ভাই নিহত  মুকসুদপুরে জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত  বিগত সময়ের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প আমাদের জন্য বোঝা : অর্থমন্ত্রী আসামী হয়েও বহাল তবিয়তে সিলেট গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদ টাকশালে শত মিলিয়ন ডলারের মেগা-লুটপাটের অভিযোগ: নেপথ্যে সাবেক গভর্নরের ‘প্রিয়পাত্র’ আশরাফুল আলম দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর ফিরেই কাঁদলেন নেইমার, ছেলেকে জড়িয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তিস্তা ও অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-চীনের ঐকমত্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বাড়ি ভাড়া নেন ২০ হাজার, থাকেন অফিস কক্ষে

টাকশালে শত মিলিয়ন ডলারের মেগা-লুটপাটের অভিযোগ: নেপথ্যে সাবেক গভর্নরের ‘প্রিয়পাত্র’ আশরাফুল আলম

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া লাগলেও, বাংলাদেশ ব্যাংক ও টাকশালে (The Security Printing Corporation) এখনো সক্রিয় রয়েছে বিগত আমলের সিন্ডিকেট। সাবেক বিতর্কিত গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি (BRPD) বিভাগের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মেগা-প্রকল্পের নামে শত শত মিলিয়ন ডলার লুটপাট এবং অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমানোর উদ্দেশ্যে নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে টাকা মুদ্রণ করে বাজারে ছাড়ার পেছনেও এই কর্মকর্তার সরাসরি হাত ছিল। সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা পড়া এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই সিন্ডিকেটের ৩টি ভয়ংকর মেগা-দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে।

১. ১৯৭২ সালের ভাঙারি মেশিনকে ২০২৩ মডেল বানানোর অবিশ্বাস্য প্রকল্প!
প্রতিবেদনে দেখা যায়, কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির স্পষ্ট মতামত উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট সরকারের কতিপয় ঠিকাদারের স্বার্থে এক আজব প্রকল্প হাতে নেন আশরাফুল আলম। টাকশালের ১৯৭২ মডেলের পুরোনো টয়োটা মেশিনকে ‘ওভারহোলিং’ বা সংস্কারের নামে ২০২৩-এর মডেল করার প্রকল্প পাস করানো হয়। কোনো নতুন কার্যকারিতা ছাড়াই শুধুমাত্র কাগজে কলমে এই সংস্কারের নামে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার অপচয় ও পাচার করা হয়েছে।

২. OVI এবং Spark প্রকল্পের নামে ডলারের হরিলুট
নোট মুদ্রণের অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তি ‘OVI’ এবং ‘Spark’ প্রবর্তনের নামে সরকারি কোষাগার থেকে শত শত মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আশরাফুল আলমের অন্যতম প্রধান সহযোগী এবং টাকশালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) সাফায়েত আরেফিনের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে এই বিশাল অঙ্কের টাকা লুটপাট হচ্ছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩. ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইন ও জাল নোটের মহোৎসব
সিন্ডিকেটের তৃতীয় ধূর্ত পরিকল্পনাটি ছিল নতুন প্রচলিত ব্যাংকনোটসমূহের ডিজাইন ও অরিজিনেশন। অত্যন্ত নিম্নমানের এবং ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনে নোট মুদ্রণ করার কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তেমনি দেশের বাজারে জাল নোটের মহোৎসব শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির ঘোর বিরোধী এই কর্মকর্তা কর্মজীবনেও ফ্যাসিস্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত ছিলেন।

আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই আমলাতান্ত্রিক সিন্ডিকেটকে অবিলম্বে অপসারণ না করলে দেশের ব্যাংকিং খাতকে সচল করা অসম্ভব। ইতিমধ্যে এই অনিয়মগুলোর বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে একটি বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদন উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। যেখানে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে চাকরি থেকে অব্যাহতি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক অডিট সংস্থা দ্বারা বিগত দুই বছরের একটি ফরেনসিক অডিট করানোর জোর দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অনেকে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডো গাড়িতে চড়ে জুলাই চেতনা বিক্রি করেন

টাকশালে শত মিলিয়ন ডলারের মেগা-লুটপাটের অভিযোগ: নেপথ্যে সাবেক গভর্নরের ‘প্রিয়পাত্র’ আশরাফুল আলম

আপডেট সময় ০১:০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া লাগলেও, বাংলাদেশ ব্যাংক ও টাকশালে (The Security Printing Corporation) এখনো সক্রিয় রয়েছে বিগত আমলের সিন্ডিকেট। সাবেক বিতর্কিত গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি (BRPD) বিভাগের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মেগা-প্রকল্পের নামে শত শত মিলিয়ন ডলার লুটপাট এবং অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমানোর উদ্দেশ্যে নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে টাকা মুদ্রণ করে বাজারে ছাড়ার পেছনেও এই কর্মকর্তার সরাসরি হাত ছিল। সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা পড়া এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই সিন্ডিকেটের ৩টি ভয়ংকর মেগা-দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে।

১. ১৯৭২ সালের ভাঙারি মেশিনকে ২০২৩ মডেল বানানোর অবিশ্বাস্য প্রকল্প!
প্রতিবেদনে দেখা যায়, কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির স্পষ্ট মতামত উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট সরকারের কতিপয় ঠিকাদারের স্বার্থে এক আজব প্রকল্প হাতে নেন আশরাফুল আলম। টাকশালের ১৯৭২ মডেলের পুরোনো টয়োটা মেশিনকে ‘ওভারহোলিং’ বা সংস্কারের নামে ২০২৩-এর মডেল করার প্রকল্প পাস করানো হয়। কোনো নতুন কার্যকারিতা ছাড়াই শুধুমাত্র কাগজে কলমে এই সংস্কারের নামে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার অপচয় ও পাচার করা হয়েছে।

২. OVI এবং Spark প্রকল্পের নামে ডলারের হরিলুট
নোট মুদ্রণের অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তি ‘OVI’ এবং ‘Spark’ প্রবর্তনের নামে সরকারি কোষাগার থেকে শত শত মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আশরাফুল আলমের অন্যতম প্রধান সহযোগী এবং টাকশালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) সাফায়েত আরেফিনের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে এই বিশাল অঙ্কের টাকা লুটপাট হচ্ছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩. ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইন ও জাল নোটের মহোৎসব
সিন্ডিকেটের তৃতীয় ধূর্ত পরিকল্পনাটি ছিল নতুন প্রচলিত ব্যাংকনোটসমূহের ডিজাইন ও অরিজিনেশন। অত্যন্ত নিম্নমানের এবং ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনে নোট মুদ্রণ করার কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তেমনি দেশের বাজারে জাল নোটের মহোৎসব শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির ঘোর বিরোধী এই কর্মকর্তা কর্মজীবনেও ফ্যাসিস্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত ছিলেন।

আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই আমলাতান্ত্রিক সিন্ডিকেটকে অবিলম্বে অপসারণ না করলে দেশের ব্যাংকিং খাতকে সচল করা অসম্ভব। ইতিমধ্যে এই অনিয়মগুলোর বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে একটি বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদন উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। যেখানে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে চাকরি থেকে অব্যাহতি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক অডিট সংস্থা দ্বারা বিগত দুই বছরের একটি ফরেনসিক অডিট করানোর জোর দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।