ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত চুয়াডাঙ্গায় ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে ফের উত্তাল চট্টগ্রাম শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডাকসু

তিনটি প্রকল্পে ডিপিডিসির ২২ হাজার কোটি টাকার পাচারের অভিযোগ

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) অন্তত তিনটি প্রকল্পে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দেশের বিদ্যুৎ খাতে নজিরবিহীন দুর্নীতির এই অভিযোগে ঝড় উঠেছে ডিপিডিসিতে। জল্পনা-কল্পনার সঙ্গে সমালোচনাও চলছে সমানতালে। একই সঙ্গে এর সঙ্গে জড়িতরা চাকরি হারানো কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ভয়ে নাওয়া খাওয়া ভুলে গেছেন । ইতিমধ্যে প্রকল্পে নিয়োজিত বর্তমান ও সাবেক বেশকিছু কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী দেশছাড়ার পায়তারা চালাচ্ছেন। ডিপিডিসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, এই কাজে অনুসন্ধান করছে তিন সদস্যের তদন্ত দল। গত ৫ মে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ডিপিডিসিকে ১৪ মে’র মধ্যে তিনটি প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সব দরপত্র, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, বিল, চুক্তি ও চালানপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাহিদা মোতাবেক নথিপত্র সরবরাহের জন্য দুদকের কাছে সাত দিনের সময় চেয়েছে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ। বুধবার (২১ মে) এই বর্ধিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা।

প্রকল্প তিনটি হলো- ১. পিডিএসডি প্রকল্প (বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প) ২. স্মার্ট মিটার সহ উন্নত মিটারিং অবকাঠামো প্রকল্প ৩. জিটুজি প্রকল্প (বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প)।

গত ৫ মে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো এক অফিস আদেশে বলা হয়, জিটুজি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী ফজিলাতুন্নেসা এবং অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সহায়তায় অনিয়মের মাধ্যমে জিটুজি ভিত্তিক বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ও বাস্তবতাবর্জিত প্রকল্প গ্রহণ করে দরপত্রের শর্ত লঙ্ঘনপূর্বক ইউরোপের পরিবর্তে চীন হতে যন্ত্রপাতি ক্রয় করে ২২ হাজার কোটি টাকা লোপাট ও হুণ্ডির মাধ্যমে দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর সহযোগিতায় ইউরোপের নামে দরপত্র দিয়ে চীন থেকে কমদামী যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়। প্রকল্পগুলোর মধ্যে কিছু বাস্তবতাবর্জিত ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে কেবল কমিশন আদায়ের উদ্দেশ্যে। দরপত্র প্রক্রিয়া মানা হয়নি, টার্নকি ভিত্তিতে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও বাস্তবায়নে ছিল অসংখ্য ঘাটতি।

ডিপিডিসি সূত্রে জানা গেছে, বিগত স্বৈরাচার সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুই মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস ও আবুল কালাম আজাদ, ডিপিডিসির সাবেক দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জিটুজি প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমানসহ একাধিক প্রভাবশালী প্রকৌশলী-কর্মকর্তা জিটুজি প্রকল্পের লুটপাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

ডিপিডিসির সাধারণ প্রকৌশলীরা বলছেন, এই প্রকল্পটি (জিটুজি) ডেসকোকে নেয়ার জন্য তৎকালীন বিদ্যুৎপ্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ একাধিকবার চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু ডেসকোর তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাড়া দেননি। পরবর্তীতে এই অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পটি ডিপিডিসির ওপর চেপে বসে। তাঁরা বলছেন, জিটুজি প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজই জনস্বার্থে – এমনটি কাগজ-কলমে দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বাংলাদেশের মত একটি গরিব দেশে এ ধরনের প্রকল্প উচ্চাভিলাষী, যা কেবল দেশের অর্থনীতিকে ঋণে জর্জরিত করেছে।

সাধারণ প্রকৌশলীদের অভিযোগ, মূলত প্রকল্পটি নেয়া হয়েছিল অবাধ লুটপাটের জন্য। সাবেক সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, আমলা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা যেমন এই প্রকল্প থেকে টাকা লুটে নিয়েছে, তেমনি ফুলেফেঁপে উঠেছেন প্রকল্পে নিয়োজিত প্রকৌশলী-কর্মকর্তাদের একাংশ।

দুদক সূত্র জানায়, এই ঘটনায় বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন।

এ বিষয়ে ডিপিডিসির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া আমরা মন্তব্য করতে পারি না।” বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি হবে বিদ্যুৎ খাতের আরও একটি বড় দুর্নীতি। যা খুবই ন্যাক্কারজনক।

অভিযোগের বিষয়ে জিটুজি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফজিলাতুন্নেসার বক্তব্য নিতে মঙ্গলবার (২০ মে) একাধিকবার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি

তিনটি প্রকল্পে ডিপিডিসির ২২ হাজার কোটি টাকার পাচারের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৮:১১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) অন্তত তিনটি প্রকল্পে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দেশের বিদ্যুৎ খাতে নজিরবিহীন দুর্নীতির এই অভিযোগে ঝড় উঠেছে ডিপিডিসিতে। জল্পনা-কল্পনার সঙ্গে সমালোচনাও চলছে সমানতালে। একই সঙ্গে এর সঙ্গে জড়িতরা চাকরি হারানো কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ভয়ে নাওয়া খাওয়া ভুলে গেছেন । ইতিমধ্যে প্রকল্পে নিয়োজিত বর্তমান ও সাবেক বেশকিছু কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী দেশছাড়ার পায়তারা চালাচ্ছেন। ডিপিডিসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, এই কাজে অনুসন্ধান করছে তিন সদস্যের তদন্ত দল। গত ৫ মে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ডিপিডিসিকে ১৪ মে’র মধ্যে তিনটি প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সব দরপত্র, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, বিল, চুক্তি ও চালানপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাহিদা মোতাবেক নথিপত্র সরবরাহের জন্য দুদকের কাছে সাত দিনের সময় চেয়েছে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ। বুধবার (২১ মে) এই বর্ধিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা।

প্রকল্প তিনটি হলো- ১. পিডিএসডি প্রকল্প (বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প) ২. স্মার্ট মিটার সহ উন্নত মিটারিং অবকাঠামো প্রকল্প ৩. জিটুজি প্রকল্প (বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প)।

গত ৫ মে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো এক অফিস আদেশে বলা হয়, জিটুজি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী ফজিলাতুন্নেসা এবং অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সহায়তায় অনিয়মের মাধ্যমে জিটুজি ভিত্তিক বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ও বাস্তবতাবর্জিত প্রকল্প গ্রহণ করে দরপত্রের শর্ত লঙ্ঘনপূর্বক ইউরোপের পরিবর্তে চীন হতে যন্ত্রপাতি ক্রয় করে ২২ হাজার কোটি টাকা লোপাট ও হুণ্ডির মাধ্যমে দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর সহযোগিতায় ইউরোপের নামে দরপত্র দিয়ে চীন থেকে কমদামী যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়। প্রকল্পগুলোর মধ্যে কিছু বাস্তবতাবর্জিত ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে কেবল কমিশন আদায়ের উদ্দেশ্যে। দরপত্র প্রক্রিয়া মানা হয়নি, টার্নকি ভিত্তিতে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও বাস্তবায়নে ছিল অসংখ্য ঘাটতি।

ডিপিডিসি সূত্রে জানা গেছে, বিগত স্বৈরাচার সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুই মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস ও আবুল কালাম আজাদ, ডিপিডিসির সাবেক দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জিটুজি প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমানসহ একাধিক প্রভাবশালী প্রকৌশলী-কর্মকর্তা জিটুজি প্রকল্পের লুটপাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

ডিপিডিসির সাধারণ প্রকৌশলীরা বলছেন, এই প্রকল্পটি (জিটুজি) ডেসকোকে নেয়ার জন্য তৎকালীন বিদ্যুৎপ্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ একাধিকবার চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু ডেসকোর তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাড়া দেননি। পরবর্তীতে এই অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পটি ডিপিডিসির ওপর চেপে বসে। তাঁরা বলছেন, জিটুজি প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজই জনস্বার্থে – এমনটি কাগজ-কলমে দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বাংলাদেশের মত একটি গরিব দেশে এ ধরনের প্রকল্প উচ্চাভিলাষী, যা কেবল দেশের অর্থনীতিকে ঋণে জর্জরিত করেছে।

সাধারণ প্রকৌশলীদের অভিযোগ, মূলত প্রকল্পটি নেয়া হয়েছিল অবাধ লুটপাটের জন্য। সাবেক সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, আমলা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা যেমন এই প্রকল্প থেকে টাকা লুটে নিয়েছে, তেমনি ফুলেফেঁপে উঠেছেন প্রকল্পে নিয়োজিত প্রকৌশলী-কর্মকর্তাদের একাংশ।

দুদক সূত্র জানায়, এই ঘটনায় বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন।

এ বিষয়ে ডিপিডিসির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া আমরা মন্তব্য করতে পারি না।” বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি হবে বিদ্যুৎ খাতের আরও একটি বড় দুর্নীতি। যা খুবই ন্যাক্কারজনক।

অভিযোগের বিষয়ে জিটুজি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফজিলাতুন্নেসার বক্তব্য নিতে মঙ্গলবার (২০ মে) একাধিকবার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।