সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা
ড্রাইভার থেকে হয়ে গেলেন কোটিপতি

এলজিইডি’র রুহুল আমিন

একটি কিংবা দুটি নয়; রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় ২১টি ফ্ল্যাটের মালিক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর- এলজিইডি’র গাড়ি চালক রুহুল আমিন। ৬০ টাকা হাজিরায় চাকরী নিলেও বর্তমানে বেতন পান ৩৪ হাজার টাকা। আর এই চাকরী করেই গড়েছেন বিশাল সম্পদ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রুহুল আমিন সরদার ১৯৯৬ সালে এলজিইডি-তে দৈনিক ৬০ টাকা হাজিরায় চুক্তিভিত্তিক চাকুরি নেন। কিন্তু সেই চাকরি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। চাকরিতে যোগদানের পর পরই বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং চাকরি হারান। যদিও তিনি দাবি করেছেন রাজনৈতিক কারনে তিনি চাকরি হারান।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১৫ আগস্ট আবারো এলজিইডির চাকরিতে ফিরে আসেন রুহুল আমিন। নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন জিয়া পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি। এখন বেতন ৩৪ হাজার টাকা। গাড়ি চালক হিসেবে পুণ:নিয়োগ পেলেও এখন আর তিনি গাড়ি চালান না! রাজনীতি এবং তদবির বানিজ্য করেই দিন কাটান।

অভিযোগ রয়েছে, মাঝে কয়েক বছর চাকরিতে না থাকলেও এলজিইডিতে তার পদচারনা থেমে থাকেনি। তাদের রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এলজিইডি’তে বিভিন্ন তদবির করে দু’হাতে কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়েছেন এই গাড়ি চালক। আর সেই অর্থে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একতা ও চন্দ্রিমা হাউজিং এ গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ। পাশাপাশি তিনি জমি কেনা-বেঁচা ও ফ্ল্যাটের ব্যবসায় নেমে পড়েন।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি- ডিপিডিসি’র কাছ থেকে রুহুল আমিন সরদারের নামে অন্তত ২১টি ফ্ল্যাটে বিদ্যুতের মিটার থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সরজমিনে মোহাম্মদপুরের একতা হাউজিং এর ৪, ৫, ৭, ৮ নম্বর রোডে রয়েছে তার জমি এবং প্রায় আটটি ফ্ল্যাট। একসঙ্গে চলছে তার তিনটি থেকে চারটি বিল্ডিংয়ের কাজ। আর চন্দ্রিমা হাউজিং এ রয়েছে তার দুটি ফ্ল্যাট।

এগুলো হলো, একতা হাউজিং এর ৫ নম্বর রোডের ১০১ নম্বর ‘জয়েন্ট টাওয়ারে’, চন্দ্রিমা মডেল টাউনের এভিনিউ-২, ব্লক- ই, বাড়ি নম্বর ১৮ ‘রয়েল প্যাসিফিক টাওয়ারে’, একই মডেল টাউনের ব্লক-বি, রোড: ২, প্লট নম্বর ১০/৭ এ তার ফ্ল্যাটের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে।

এছাড়া গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরেও রয়েছে অনেক সম্পত্তি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলজিইডি’র স্তরে স্তরে যে লাগামহীন দুর্নীতির মহোৎসব চলছে, তারই নমুনা এই কর্মচারীর সম্পদ।

অভিযোগের বিষয়ে রুহুল আমিন সরদার আমাদের মাতৃভূমিকে কে জানান, তারা ১৮জন মিলে একটি বাড়ি তৈরি করেছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের ভুলের কারনে ১৮টি ফ্ল্যাটের বিদ্যুতের মিটার ও একটি কমন মিটার তার নামে হয়েছে।

এছাড়া পাশ্ববর্তী আরো একটি ভবনের দুটি বিদ্যুতের মিটার তার নামে ইস্যু করা হয়েছে। অর্থাৎ ২১টি মিটারের মধ্যে তার মাত্র একটি মিটার রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আর নিজের নামে মাত্র দুটি ফ্লাট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

ড্রাইভার থেকে হয়ে গেলেন কোটিপতি

এলজিইডি’র রুহুল আমিন

আপডেট সময় ১০:৩৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

একটি কিংবা দুটি নয়; রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় ২১টি ফ্ল্যাটের মালিক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর- এলজিইডি’র গাড়ি চালক রুহুল আমিন। ৬০ টাকা হাজিরায় চাকরী নিলেও বর্তমানে বেতন পান ৩৪ হাজার টাকা। আর এই চাকরী করেই গড়েছেন বিশাল সম্পদ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রুহুল আমিন সরদার ১৯৯৬ সালে এলজিইডি-তে দৈনিক ৬০ টাকা হাজিরায় চুক্তিভিত্তিক চাকুরি নেন। কিন্তু সেই চাকরি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। চাকরিতে যোগদানের পর পরই বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং চাকরি হারান। যদিও তিনি দাবি করেছেন রাজনৈতিক কারনে তিনি চাকরি হারান।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১৫ আগস্ট আবারো এলজিইডির চাকরিতে ফিরে আসেন রুহুল আমিন। নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন জিয়া পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি। এখন বেতন ৩৪ হাজার টাকা। গাড়ি চালক হিসেবে পুণ:নিয়োগ পেলেও এখন আর তিনি গাড়ি চালান না! রাজনীতি এবং তদবির বানিজ্য করেই দিন কাটান।

অভিযোগ রয়েছে, মাঝে কয়েক বছর চাকরিতে না থাকলেও এলজিইডিতে তার পদচারনা থেমে থাকেনি। তাদের রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এলজিইডি’তে বিভিন্ন তদবির করে দু’হাতে কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়েছেন এই গাড়ি চালক। আর সেই অর্থে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একতা ও চন্দ্রিমা হাউজিং এ গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ। পাশাপাশি তিনি জমি কেনা-বেঁচা ও ফ্ল্যাটের ব্যবসায় নেমে পড়েন।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি- ডিপিডিসি’র কাছ থেকে রুহুল আমিন সরদারের নামে অন্তত ২১টি ফ্ল্যাটে বিদ্যুতের মিটার থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সরজমিনে মোহাম্মদপুরের একতা হাউজিং এর ৪, ৫, ৭, ৮ নম্বর রোডে রয়েছে তার জমি এবং প্রায় আটটি ফ্ল্যাট। একসঙ্গে চলছে তার তিনটি থেকে চারটি বিল্ডিংয়ের কাজ। আর চন্দ্রিমা হাউজিং এ রয়েছে তার দুটি ফ্ল্যাট।

এগুলো হলো, একতা হাউজিং এর ৫ নম্বর রোডের ১০১ নম্বর ‘জয়েন্ট টাওয়ারে’, চন্দ্রিমা মডেল টাউনের এভিনিউ-২, ব্লক- ই, বাড়ি নম্বর ১৮ ‘রয়েল প্যাসিফিক টাওয়ারে’, একই মডেল টাউনের ব্লক-বি, রোড: ২, প্লট নম্বর ১০/৭ এ তার ফ্ল্যাটের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে।

এছাড়া গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরেও রয়েছে অনেক সম্পত্তি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলজিইডি’র স্তরে স্তরে যে লাগামহীন দুর্নীতির মহোৎসব চলছে, তারই নমুনা এই কর্মচারীর সম্পদ।

অভিযোগের বিষয়ে রুহুল আমিন সরদার আমাদের মাতৃভূমিকে কে জানান, তারা ১৮জন মিলে একটি বাড়ি তৈরি করেছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের ভুলের কারনে ১৮টি ফ্ল্যাটের বিদ্যুতের মিটার ও একটি কমন মিটার তার নামে হয়েছে।

এছাড়া পাশ্ববর্তী আরো একটি ভবনের দুটি বিদ্যুতের মিটার তার নামে ইস্যু করা হয়েছে। অর্থাৎ ২১টি মিটারের মধ্যে তার মাত্র একটি মিটার রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আর নিজের নামে মাত্র দুটি ফ্লাট রয়েছে বলেও জানান তিনি।