ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী তেজগাঁও থানায় আকস্মিক পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিউজ নেটওয়ার্ক নীলফামারীর আহ্বায়ক কমিটি গঠন অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী জাজিরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা মঠবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কীর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলেন তাকওয়া ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার রাজনীতি নিষিদ্ধ ববিতে জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের কাউন্সিল, পূর্ণাঙ্গ কমিটির আত্মপ্রকাশ   পোষা বিড়ালের আঁচড়ের পর থেকে ‘মিউ মিউ’ করছে শিশু আদ্রিতা

নবীগঞ্জে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন দিবস আজ

আজ ২২ মার্চ শনিবার নবীগঞ্জে মহান স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস। একাত্তরের আজকের এই দিনে নবীগঞ্জে প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। আব্দুর রউফ তৎকালীন তিতুমীর কলেজের ছাত্রনেতা মহাখালী আঞ্চলিক ছাত্রলীগের সভাপতি এবং স্বাধীন বাংলা ছাত্র পরিষদ মহাখালী আঞ্চলিক শাখার আহবায়ক ছিলেন।
জানা যায়- ১৯৭১ সালের এই দিনে সকাল ১০ টায় নবীগঞ্জের ডাকবাংলো প্রাঙ্গনে তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও মহাখালী আঞ্চলিক ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রউফ সঙ্গীয় সহযোদ্ধা ছাত্রনেতা শাহাবুদ্দিন ও কামাল আহমেদকে সাথে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন।
ছাত্রনেতা শরিফ নুরুল আম্বিয়ার পরামর্শে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্ততি পূর্বে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ নবীগঞ্জে আসেন। তাকে সঙ্গ দেন পরবর্তীতে তিতুমীর কলেজের ভিপি নির্বাচিত হওয়া কামাল আহমেদ ও ছাত্রনেতা মো. শাহাবুদ্দিন। তারা ২০শে মার্চ রাতে নবীগঞ্জ এসে তৎকালীন নব নির্বাচিত এমপি আব্দুল আজিজ চৌধুরীর বাস ভবনে উঠেন। পরদিন ২১শে মার্চ সকালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আব্দুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছাত্রনেতা আব্দুর রউফ পতাকা উত্তোলনের পরিকল্পনার কথা আব্দুল হক চৌধুরীকে অবহিত করলে তিনি তাতে একাত্বতা পোষণ করেন এবং দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ২২শে মার্চ সকাল ১০.০০ ঘঠিকায় নবীগঞ্জ ডাক বাংলো প্রাঙ্গনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ছাত্রনেতা আব্দুর রউফ পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিকে সফল করার লক্ষ্যে মো. বদরুজ্জামান (রাজাবাদ), আব্দুল হান্নান (জিয়াপুর), ছানু মিয়া (নাদামপুর), মোহাম্মদ আলী (বাউসা), আবিদুর রহমান চৌধুরী (চরগাঁও), বশির আহমেদ (বাউসা), মহিবুর রহমান মাশুক(রায়ঘর) ছাত্রদের নিয়ে দিনব্যাপী নবীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন।
২২শে মার্চ ১৯৭১ইং সকালে ডাক্তার মিম্বারুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ হীরা মিয়া, আব্দুল হক চৌধুরী, আব্দুস সোবহান মাষ্টার, আব্দুস সালাম, আজিজুর রহমান চৌধুরী ছুরুক মিয়া, চারুচন্দ্র দাশ, এনাম উদ্দিন (ডিলার), রামদয়াল ভট্টাচার্য্য, আব্দুল মতিন চৌধুরী, মিহির কান্তি রায়, আবু সালেহ চৌধুরীসহ নবীগঞ্জের সকল বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন। নবীগঞ্জের ছাত্র জনতা, বিশিষ্ট মুরুব্বিয়ানসহ কয়েকশ জনতার উপস্থিতিতে সেদিন ডাক বাংলো প্রাঙ্গণে উড়ন্ত পাকিস্তানি পতাকা ছাত্রনেতা ভিপি কামাল আহমেদ নামিয়ে এনে আগুন ধরিয়ে দেন। ছাত্রনেতা আব্দুর রউফ সংগীয় ছাত্রনেতা শাহাবুদ্দিনকে নিয়ে তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। তখন গণবিদারী জয় বাংলা স্লোগানে চারদিক প্রকম্পিত হয়ে উঠে। নবীগঞ্জ যুগল-কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকবৃৃন্দসহ সাধারণ জনতা এই পতাকা স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রতি বছরই এই দিনটি অনেকটা নীরবে অতিবাহিত হয়। মাঝে মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী তৎকালীন ছাত্রনেতা আব্দুর রউফ উক্ত দিবসটি পালন করে আসছিলেন। উল্লেখ্য- ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নবীগঞ্জে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন দিবস আজ

আপডেট সময় ১১:৩৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
আজ ২২ মার্চ শনিবার নবীগঞ্জে মহান স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস। একাত্তরের আজকের এই দিনে নবীগঞ্জে প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। আব্দুর রউফ তৎকালীন তিতুমীর কলেজের ছাত্রনেতা মহাখালী আঞ্চলিক ছাত্রলীগের সভাপতি এবং স্বাধীন বাংলা ছাত্র পরিষদ মহাখালী আঞ্চলিক শাখার আহবায়ক ছিলেন।
জানা যায়- ১৯৭১ সালের এই দিনে সকাল ১০ টায় নবীগঞ্জের ডাকবাংলো প্রাঙ্গনে তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও মহাখালী আঞ্চলিক ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রউফ সঙ্গীয় সহযোদ্ধা ছাত্রনেতা শাহাবুদ্দিন ও কামাল আহমেদকে সাথে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন।
ছাত্রনেতা শরিফ নুরুল আম্বিয়ার পরামর্শে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্ততি পূর্বে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ নবীগঞ্জে আসেন। তাকে সঙ্গ দেন পরবর্তীতে তিতুমীর কলেজের ভিপি নির্বাচিত হওয়া কামাল আহমেদ ও ছাত্রনেতা মো. শাহাবুদ্দিন। তারা ২০শে মার্চ রাতে নবীগঞ্জ এসে তৎকালীন নব নির্বাচিত এমপি আব্দুল আজিজ চৌধুরীর বাস ভবনে উঠেন। পরদিন ২১শে মার্চ সকালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আব্দুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছাত্রনেতা আব্দুর রউফ পতাকা উত্তোলনের পরিকল্পনার কথা আব্দুল হক চৌধুরীকে অবহিত করলে তিনি তাতে একাত্বতা পোষণ করেন এবং দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ২২শে মার্চ সকাল ১০.০০ ঘঠিকায় নবীগঞ্জ ডাক বাংলো প্রাঙ্গনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ছাত্রনেতা আব্দুর রউফ পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিকে সফল করার লক্ষ্যে মো. বদরুজ্জামান (রাজাবাদ), আব্দুল হান্নান (জিয়াপুর), ছানু মিয়া (নাদামপুর), মোহাম্মদ আলী (বাউসা), আবিদুর রহমান চৌধুরী (চরগাঁও), বশির আহমেদ (বাউসা), মহিবুর রহমান মাশুক(রায়ঘর) ছাত্রদের নিয়ে দিনব্যাপী নবীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন।
২২শে মার্চ ১৯৭১ইং সকালে ডাক্তার মিম্বারুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ হীরা মিয়া, আব্দুল হক চৌধুরী, আব্দুস সোবহান মাষ্টার, আব্দুস সালাম, আজিজুর রহমান চৌধুরী ছুরুক মিয়া, চারুচন্দ্র দাশ, এনাম উদ্দিন (ডিলার), রামদয়াল ভট্টাচার্য্য, আব্দুল মতিন চৌধুরী, মিহির কান্তি রায়, আবু সালেহ চৌধুরীসহ নবীগঞ্জের সকল বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন। নবীগঞ্জের ছাত্র জনতা, বিশিষ্ট মুরুব্বিয়ানসহ কয়েকশ জনতার উপস্থিতিতে সেদিন ডাক বাংলো প্রাঙ্গণে উড়ন্ত পাকিস্তানি পতাকা ছাত্রনেতা ভিপি কামাল আহমেদ নামিয়ে এনে আগুন ধরিয়ে দেন। ছাত্রনেতা আব্দুর রউফ সংগীয় ছাত্রনেতা শাহাবুদ্দিনকে নিয়ে তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। তখন গণবিদারী জয় বাংলা স্লোগানে চারদিক প্রকম্পিত হয়ে উঠে। নবীগঞ্জ যুগল-কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকবৃৃন্দসহ সাধারণ জনতা এই পতাকা স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রতি বছরই এই দিনটি অনেকটা নীরবে অতিবাহিত হয়। মাঝে মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী তৎকালীন ছাত্রনেতা আব্দুর রউফ উক্ত দিবসটি পালন করে আসছিলেন। উল্লেখ্য- ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ।