ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকীতে বগুড়ায় জাতীয় ক্বেরাত প্রতিযোগীতা শুরু কুমিল্লা দেবিদ্বারে ডেভিল হান্ট অভিযানে গ্রেফতার ৩ কলেজ ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টায় ৫ নারীসহ ১০ অপহরণকারী পুলিশের হাতে গ্রেফতার ভেড়ামারায় রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা ও বাজার মূল্য নির্ধারণে প্রস্তুতিসভা পবিপ্রবির এএনএসভিএম অনুষদের নতুন ডিন ড. খোন্দকার জাহাঙ্গীর আলম  কোটালীপাড়ায় উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত চাঁদপুরে পলিথিন বিরোধী অভিযানে জরিমানা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিএনপির দ্বি- বার্ষিক সম্মেলন বাউফলে বিভিন্ন মামলায় নারীসহ গ্রেফতার ৮ গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দির জব্দকৃত পাথরলুট: দায় কার ?

গাজীপুরে দিন দিন কমছে বনভূমি-জলাশয়,বাড়ছে দখলকারী

  • এম এ হোসেন
  • আপডেট সময় ০৮:০৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৫২৪ বার পড়া হয়েছে

সবুজে শিল্পে ভরপুর ঐতিহ্যের গাজীপুর কিন্তু গত দুই দশকে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের কারণে গাজীপুর বাংলাদেশের পরিবেশগত অবক্ষয়ের উদাহরণে পরিণত হয়েছে। এসময় এ এলাকার ৬০ শতাংশ বন উজাড় এবং ৫০ শতাংশ জলাধার দখল করে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য বলছে, ২০০০ সালে গাজীপুরের বনাঞ্চলের আয়তন ছিল ৩৯ হাজার ৯৪৩ হেক্টর। ২০২৩ সালে তা কমে ১৬ হাজার ১৭৪ হেক্টরে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ২৩ বছরে বনাঞ্চল কমেছে ৫৯.৫১ শতাংশ। একই সময় জলাশয়ের আয়তন কমেছে ৫১.৪২ শতাংশ। ২০০০ সালে জলাশয় ছিল ১১ হাজার ৪৬২ হেক্টর। ২০২৩ সালে সেখান থেকে কমে ৫ হাজার ৫৬৮ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, শিল্প কারখানার বৃদ্ধি বন ও জলাশয় দখলের অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে বাড়িয়ে তুলেছে দূষণের মাত্রা।

তারা বলছেন, ২০০০ সালে জেলার জমির ২৩.৪৪ শতাংশ বনাঞ্চল, ৬.৭৩ শতাংশ জলাশয়, ৫০.২১ শতাংশ বসতি, ৫.২১ শতাংশ শিল্প এলাকা, ১০.২১ শতাংশ কৃষি এলাকা এবং ৩.১৯ শতাংশ খোলা জায়গা ছিল। ২০২৩ সালের মধ্যে এসব পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন দেখা যায়। এসময় বসতি এলাকা ৬৫.৮৩ শতাংশ এবং শিল্প অঞ্চলগুলো ৮.৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল। এর বিপরীতে বনাঞ্চলের পরিমাণ কমেছে ৯.৪৯ শতাংশ, জলাশয় ৩.২৭ শতাংশ, কৃষি এলাকা ১১.৯২ শতাংশ এবং উন্মুক্ত স্থান ০.৭৭ শতাংশ।

গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গাজীপুরের বাস্তুতন্ত্র ও অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য নদ-নদী, খাল, জলাভূমি দূষণ ও দখলের কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে। কৃষিকাজ ও মাছ ধরার মতো ঐতিহ্যবাহী জীবিকা ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখোমুখি।

সরেজমিনে দেখা যায়, দখলকৃত এসব জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে শিল্পকারখানা, মৎস্য খামার, হ্যাচারি ও পোলট্রি ফার্ম। শিল্পকারখানার মধ্যে আছে ডাইং, স্পিনিং, স্টিল, সিরামিকস, ফার্মাসিউটিক্যালস, নিটওয়্যার, রাবার- যাদের অধিকাংশই মারাত্মক পরিবেশ দূষণ করছে।

স্থানীয়দের দাবি, গাজীপুরে বনভূমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দখলকারী যে-ই হোক তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। উদ্ধারকৃত জমিতে বন সৃজন করতে হবে। অন্যথায় গাজীপুরে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে না। সর্বোপরি বন সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের উপলব্ধিতে আসতে হবে। বাড়াতে হবে জনসচেতনতাও।

এসব বিষয়ে কথা হলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি বনভূমি উদ্ধারে আমরা কাজ চালাচ্ছি। বন বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে আমরা চেষ্টা করছি গাজীপুরকে সবুজ রাখার। আমাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষদেরও বনভূমি রক্ষায় সচেতন হতে হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকীতে বগুড়ায় জাতীয় ক্বেরাত প্রতিযোগীতা শুরু

গাজীপুরে দিন দিন কমছে বনভূমি-জলাশয়,বাড়ছে দখলকারী

আপডেট সময় ০৮:০৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫

সবুজে শিল্পে ভরপুর ঐতিহ্যের গাজীপুর কিন্তু গত দুই দশকে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের কারণে গাজীপুর বাংলাদেশের পরিবেশগত অবক্ষয়ের উদাহরণে পরিণত হয়েছে। এসময় এ এলাকার ৬০ শতাংশ বন উজাড় এবং ৫০ শতাংশ জলাধার দখল করে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য বলছে, ২০০০ সালে গাজীপুরের বনাঞ্চলের আয়তন ছিল ৩৯ হাজার ৯৪৩ হেক্টর। ২০২৩ সালে তা কমে ১৬ হাজার ১৭৪ হেক্টরে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ২৩ বছরে বনাঞ্চল কমেছে ৫৯.৫১ শতাংশ। একই সময় জলাশয়ের আয়তন কমেছে ৫১.৪২ শতাংশ। ২০০০ সালে জলাশয় ছিল ১১ হাজার ৪৬২ হেক্টর। ২০২৩ সালে সেখান থেকে কমে ৫ হাজার ৫৬৮ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, শিল্প কারখানার বৃদ্ধি বন ও জলাশয় দখলের অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে বাড়িয়ে তুলেছে দূষণের মাত্রা।

তারা বলছেন, ২০০০ সালে জেলার জমির ২৩.৪৪ শতাংশ বনাঞ্চল, ৬.৭৩ শতাংশ জলাশয়, ৫০.২১ শতাংশ বসতি, ৫.২১ শতাংশ শিল্প এলাকা, ১০.২১ শতাংশ কৃষি এলাকা এবং ৩.১৯ শতাংশ খোলা জায়গা ছিল। ২০২৩ সালের মধ্যে এসব পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন দেখা যায়। এসময় বসতি এলাকা ৬৫.৮৩ শতাংশ এবং শিল্প অঞ্চলগুলো ৮.৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল। এর বিপরীতে বনাঞ্চলের পরিমাণ কমেছে ৯.৪৯ শতাংশ, জলাশয় ৩.২৭ শতাংশ, কৃষি এলাকা ১১.৯২ শতাংশ এবং উন্মুক্ত স্থান ০.৭৭ শতাংশ।

গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গাজীপুরের বাস্তুতন্ত্র ও অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য নদ-নদী, খাল, জলাভূমি দূষণ ও দখলের কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে। কৃষিকাজ ও মাছ ধরার মতো ঐতিহ্যবাহী জীবিকা ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখোমুখি।

সরেজমিনে দেখা যায়, দখলকৃত এসব জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে শিল্পকারখানা, মৎস্য খামার, হ্যাচারি ও পোলট্রি ফার্ম। শিল্পকারখানার মধ্যে আছে ডাইং, স্পিনিং, স্টিল, সিরামিকস, ফার্মাসিউটিক্যালস, নিটওয়্যার, রাবার- যাদের অধিকাংশই মারাত্মক পরিবেশ দূষণ করছে।

স্থানীয়দের দাবি, গাজীপুরে বনভূমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দখলকারী যে-ই হোক তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। উদ্ধারকৃত জমিতে বন সৃজন করতে হবে। অন্যথায় গাজীপুরে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে না। সর্বোপরি বন সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের উপলব্ধিতে আসতে হবে। বাড়াতে হবে জনসচেতনতাও।

এসব বিষয়ে কথা হলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি বনভূমি উদ্ধারে আমরা কাজ চালাচ্ছি। বন বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে আমরা চেষ্টা করছি গাজীপুরকে সবুজ রাখার। আমাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষদেরও বনভূমি রক্ষায় সচেতন হতে হবে।