সংবাদ শিরোনাম ::
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী আড়াল ভেঙে ফিরছেন বুবলী মাদক কারবারিদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এলাকাবাসী ‘আমার সঙ্গী তো আর্জেন্টিনারই’ স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে রোনালদোর রসিকতা জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৩ গ্রামের সংঘর্ষ খেলা শেষ, খোদা হাফেজ : মাহফুজ আলম

গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ ও বৈদেশিক নীতির সরলীকরণ:

১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘ ৯ মাস মরনপন যুদ্ধে লক্ষ প্রান এবং মা- বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের ৯৩০০০ সৈন্য ঢাকা রেসকোর্সের (বর্তমান সরোওয়ারদী উদ্যান) উওরাংশে ভারতীয় বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লে: জেনারেল জগজিৎ সিং অররার নিকট স্যারেন্ডারের মাধ্যমে বিজয় অর্জিনের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। ঐসময়ে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওশমানী কে রাখা হয়নি অজ্ঞাত কারণে। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে ভোট গননা সঠিকভাবে হলে জাসদের সিট সংখ্যা ৪০ পার হতো মর্মে আমার বয়সীরা ঐসময় অনুভব করেন। কিন্তু তা হতে দেওয়া হয়নি। সকলে আমার সাথে সম্মত হবেন যে, সে সময় গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাঁধাগ্রস্ত করা না হলে ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল সৃষ্টির প্রয়োজন হতো না।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে আসার পর তাঁর অনুরোধে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার করেন। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ জোট নিরপেক্ষ জোটে এবং ১৯৭৩ সালে ওআইসি জোটে যোগদান করে। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ফেরত আসা সৈন্যদেরকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ গ্রহণকারীদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করা হয় । এতে সেনাবাহিনীর মধ্যে শুরু থকে অভ্যন্তরিন দন্দ্ব দানা বাঁধে। সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে শএুতা নয়,এমন পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ। অনেকে মনে করেন,বাংলাদেশ ইসলামী দেশ সমূহের সংগঠন ওআইসিতে ১৯৭৩ সালে যোগদান করায় প্রতিবেশী ভারত ও আমেরিকা সহজভাবে গ্রহন করেনি। যাঁর পরিনতিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ জীবন দিতে হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় সেনাবাহিনীকে সুসংগঠিত করা হয়।তাঁর উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার ৭ টি দেশ নিয়ে আঞ্চলিক জোট সার্ক গঠিত হওয়ায় ভারত সহ প্রতিবেশী দেশ সমূহের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে গার্মেন্টস শিল্প স্হাপনের মাধ্যমে তৈরী পোশাক রপ্তানি, সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাশ্চ্যের বহু দেশে বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের প্রদক্ষেপ গ্রহন করেন। এতে করে বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে স্বাধীনতাযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্স এর অধিনায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জাস্টিস আবদুস সাত্তার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহন করেন। তিনি জনগনের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ৬ মাসের মাথায় পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনকৃত সেনাবাহিনীর সদস্য ভারতীয় ডিফেন্স কলেজ থেকে এনডিসি করা সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে ২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে মার্শাল জারী করেন। সে থেকে আঞ্চলিক সংস্থা সার্ক এর কার্যক্রম কমতে থাকে এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে পরোক্ষভাবে ভারতের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

১৯৯০ এর স্বৈরশাসক এরশাদ পতন আন্দোলনে পুরো জাতী ঐক্যবদ্ধ হয়। কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে ১৯৯১, ১৯৯৬ জুন, ২০০১ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিনএপি) ১৯৯১ ও ২০০১ সরকার গঠন করে এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ২০০৬ সালে কেয়ারটেকার সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ দ্বীমত পোষণ করে প্রেসিডেন্ট ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ কেয়ারটেকার সরকারের অধিনে নির্বাচন করতে না চাওয়ায় ২০০৭ সালের জানুয়ারীর ১১ তারিখ সেনবাহিনীর সমর্থিত ফখরুদ্দীন আহমদ কেয়ারটেকার সরকার গঠিত হয়। এ সরকার ২ বছর ক্ষমতায় থেকে ডিসেম্বর ২০০৮ নির্বাচন দিলে ২০০৯ জানুয়ারীতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ঐ পরযন্ত বলা যায় যে, বাংলাদেশে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এগিয়েছে।

কিন্তু ২০১৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে ভোটারবিহীন নির্বাচন। ২০১৮ তে শখ হাসিনা সরকারের অধীনে পুলিশের তদারকিতে ভোটের আগের রাতে ‘ভোট বাক্সে ভরে’ পরের দিন ফলাফল ঘোষনা করে সরকার গঠন। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ স্বীয় দলের ডামি কেন্ডিডেট দিয়ে একদলীয় নির্বাচন করে। ২০০৯ -২০২৪ সময়ে রাজনৈতিক নেতা, আমলা, ব্যবসায়ীরা মিলে দেশের অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার, শ্রেণী বৈষম্য মারাত্মক আকার ধারন, জনগনের ক্রয়ক্ষমতা সর্ব নিম্নে যাওয়া এবং চাকরির ক্ষেএে চরম বৈষম্য ও হিংসাত্মক ভাবে দলীয় সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজী হয়েছে। সর্ব বিষয়ে প্রতিবেশীনির্ভর নীতি অনুসরণ করে শেখ হাসিনা সরকার। চাকরির ক্ষেএে কোটা বৈষম্য বিরোধী ছাএ- জনতার গনঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট ২০২৪ ফ্যসিবাদ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ও দলীয় নেতাদের অধিকাংশ ভারতে পালিয়ে আস্রয় নেয়। দেশ ৫-৮ আগস্ট সরকারবিহীন ছিল।

৮ আগস্ট ২০২৪ রাতে নোবেল লরেট ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে অন্তবর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহন করে। এতে দেশের আপামর জনগন শান্তি- শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ঘুনে ধরা প্রশাসনের সর্বএ সংস্কারের রুপ রেখা প্রনয়ণ, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক সরকার গঠন প্রক্রিয়া তরান্বিতকরন এবং প্রতিবেশী ভারতসহ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দেশ সমূহের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার নিমিত্তে পররাষ্ট্রনীতি নতুন করে সাজানোর দায়িত্ব পড়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনুস কেয়ারটেকার সরকারের উপর।তদুপরি দেশের সেনাবাহিনীর পুনর্গঠন ও শক্তিশালীকরন; বর্ডার গার্ড পুন:গঠন;পুলিশ বাহিনী পুন:গঠন এবং দেশের সার্বভৌমত্বের হুমকি মোকাবেলায় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাএ-ছাএীদেরকে পড়াশোনার পাশাপাশি ৫ বছর সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের পর সামরিক বাহিনীর নিবন্ধন কার্ড দেয়া আবশ্যক। নিবিড় প্রশিক্ষণকালীন সময়ে তাঁদেরকে রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদানের বিধান চালু করতে হবে।

গনতান্ত্রিক বাংলাদেশে জনআকাঙ্খা প্রতিফলন হিসেবে পররাষ্ট্রনীতি নতুন করে সাজাতে হবে:

# দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে এমনক্ষেএে বৈদেশিক সম্পর্ক স্হাপন;

# জনগনের সম্পৃক্ততা ও মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় এমন নীতিকৌশল গ্রহন ;

# পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কোঅডিনেটেড নীতি কৌশল গ্রহন। সরকারের অপরাপর মন্ত্রনালয় সরাসরি বৈদেশিক নীতি কৌশল নির্ধারণ না করে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতামতের ভিওিতে নীতি-কৌশল গ্রহন করবে;

# প্রশিক্ষত পররাষ্ট্র ক্যাডার সার্ভিস। তাঁদেরকে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মানসিকভাবে এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এ ক্ষেএে দেশের স্বার্থের বৈপরীত্যে কাজ করা কর্মকর্তা – কর্মচারীদেরকে বাছাই করে অবসরে পাঠাতে হবে এবং

# পরাশক্তিধর দেশের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত হতে হবে বাংলাদেরদেশের পররাষ্ট্র নীতি। অর্থাৎ দেশের পক্ষে প্রতিবেশী সহ পরাশক্তির দেশকে পররাষ্ট্র নীতির ঠিকাদারীর লাইসেন্স দিলে তা দেশ এবং জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে চলে যাবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ ও বৈদেশিক নীতির সরলীকরণ:

আপডেট সময় ১০:৪৩:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪

১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘ ৯ মাস মরনপন যুদ্ধে লক্ষ প্রান এবং মা- বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের ৯৩০০০ সৈন্য ঢাকা রেসকোর্সের (বর্তমান সরোওয়ারদী উদ্যান) উওরাংশে ভারতীয় বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লে: জেনারেল জগজিৎ সিং অররার নিকট স্যারেন্ডারের মাধ্যমে বিজয় অর্জিনের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। ঐসময়ে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওশমানী কে রাখা হয়নি অজ্ঞাত কারণে। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে ভোট গননা সঠিকভাবে হলে জাসদের সিট সংখ্যা ৪০ পার হতো মর্মে আমার বয়সীরা ঐসময় অনুভব করেন। কিন্তু তা হতে দেওয়া হয়নি। সকলে আমার সাথে সম্মত হবেন যে, সে সময় গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাঁধাগ্রস্ত করা না হলে ১৯৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল সৃষ্টির প্রয়োজন হতো না।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে আসার পর তাঁর অনুরোধে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার করেন। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ জোট নিরপেক্ষ জোটে এবং ১৯৭৩ সালে ওআইসি জোটে যোগদান করে। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ফেরত আসা সৈন্যদেরকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ গ্রহণকারীদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করা হয় । এতে সেনাবাহিনীর মধ্যে শুরু থকে অভ্যন্তরিন দন্দ্ব দানা বাঁধে। সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে শএুতা নয়,এমন পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ। অনেকে মনে করেন,বাংলাদেশ ইসলামী দেশ সমূহের সংগঠন ওআইসিতে ১৯৭৩ সালে যোগদান করায় প্রতিবেশী ভারত ও আমেরিকা সহজভাবে গ্রহন করেনি। যাঁর পরিনতিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ জীবন দিতে হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় সেনাবাহিনীকে সুসংগঠিত করা হয়।তাঁর উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার ৭ টি দেশ নিয়ে আঞ্চলিক জোট সার্ক গঠিত হওয়ায় ভারত সহ প্রতিবেশী দেশ সমূহের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে গার্মেন্টস শিল্প স্হাপনের মাধ্যমে তৈরী পোশাক রপ্তানি, সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাশ্চ্যের বহু দেশে বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের প্রদক্ষেপ গ্রহন করেন। এতে করে বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে স্বাধীনতাযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্স এর অধিনায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জাস্টিস আবদুস সাত্তার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহন করেন। তিনি জনগনের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ৬ মাসের মাথায় পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনকৃত সেনাবাহিনীর সদস্য ভারতীয় ডিফেন্স কলেজ থেকে এনডিসি করা সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে ২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে মার্শাল জারী করেন। সে থেকে আঞ্চলিক সংস্থা সার্ক এর কার্যক্রম কমতে থাকে এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে পরোক্ষভাবে ভারতের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

১৯৯০ এর স্বৈরশাসক এরশাদ পতন আন্দোলনে পুরো জাতী ঐক্যবদ্ধ হয়। কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে ১৯৯১, ১৯৯৬ জুন, ২০০১ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিনএপি) ১৯৯১ ও ২০০১ সরকার গঠন করে এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ২০০৬ সালে কেয়ারটেকার সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ দ্বীমত পোষণ করে প্রেসিডেন্ট ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ কেয়ারটেকার সরকারের অধিনে নির্বাচন করতে না চাওয়ায় ২০০৭ সালের জানুয়ারীর ১১ তারিখ সেনবাহিনীর সমর্থিত ফখরুদ্দীন আহমদ কেয়ারটেকার সরকার গঠিত হয়। এ সরকার ২ বছর ক্ষমতায় থেকে ডিসেম্বর ২০০৮ নির্বাচন দিলে ২০০৯ জানুয়ারীতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ঐ পরযন্ত বলা যায় যে, বাংলাদেশে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এগিয়েছে।

কিন্তু ২০১৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে ভোটারবিহীন নির্বাচন। ২০১৮ তে শখ হাসিনা সরকারের অধীনে পুলিশের তদারকিতে ভোটের আগের রাতে ‘ভোট বাক্সে ভরে’ পরের দিন ফলাফল ঘোষনা করে সরকার গঠন। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ স্বীয় দলের ডামি কেন্ডিডেট দিয়ে একদলীয় নির্বাচন করে। ২০০৯ -২০২৪ সময়ে রাজনৈতিক নেতা, আমলা, ব্যবসায়ীরা মিলে দেশের অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার, শ্রেণী বৈষম্য মারাত্মক আকার ধারন, জনগনের ক্রয়ক্ষমতা সর্ব নিম্নে যাওয়া এবং চাকরির ক্ষেএে চরম বৈষম্য ও হিংসাত্মক ভাবে দলীয় সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজী হয়েছে। সর্ব বিষয়ে প্রতিবেশীনির্ভর নীতি অনুসরণ করে শেখ হাসিনা সরকার। চাকরির ক্ষেএে কোটা বৈষম্য বিরোধী ছাএ- জনতার গনঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট ২০২৪ ফ্যসিবাদ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ও দলীয় নেতাদের অধিকাংশ ভারতে পালিয়ে আস্রয় নেয়। দেশ ৫-৮ আগস্ট সরকারবিহীন ছিল।

৮ আগস্ট ২০২৪ রাতে নোবেল লরেট ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে অন্তবর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহন করে। এতে দেশের আপামর জনগন শান্তি- শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ঘুনে ধরা প্রশাসনের সর্বএ সংস্কারের রুপ রেখা প্রনয়ণ, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক সরকার গঠন প্রক্রিয়া তরান্বিতকরন এবং প্রতিবেশী ভারতসহ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দেশ সমূহের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার নিমিত্তে পররাষ্ট্রনীতি নতুন করে সাজানোর দায়িত্ব পড়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনুস কেয়ারটেকার সরকারের উপর।তদুপরি দেশের সেনাবাহিনীর পুনর্গঠন ও শক্তিশালীকরন; বর্ডার গার্ড পুন:গঠন;পুলিশ বাহিনী পুন:গঠন এবং দেশের সার্বভৌমত্বের হুমকি মোকাবেলায় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাএ-ছাএীদেরকে পড়াশোনার পাশাপাশি ৫ বছর সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের পর সামরিক বাহিনীর নিবন্ধন কার্ড দেয়া আবশ্যক। নিবিড় প্রশিক্ষণকালীন সময়ে তাঁদেরকে রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদানের বিধান চালু করতে হবে।

গনতান্ত্রিক বাংলাদেশে জনআকাঙ্খা প্রতিফলন হিসেবে পররাষ্ট্রনীতি নতুন করে সাজাতে হবে:

# দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে এমনক্ষেএে বৈদেশিক সম্পর্ক স্হাপন;

# জনগনের সম্পৃক্ততা ও মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় এমন নীতিকৌশল গ্রহন ;

# পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কোঅডিনেটেড নীতি কৌশল গ্রহন। সরকারের অপরাপর মন্ত্রনালয় সরাসরি বৈদেশিক নীতি কৌশল নির্ধারণ না করে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতামতের ভিওিতে নীতি-কৌশল গ্রহন করবে;

# প্রশিক্ষত পররাষ্ট্র ক্যাডার সার্ভিস। তাঁদেরকে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মানসিকভাবে এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এ ক্ষেএে দেশের স্বার্থের বৈপরীত্যে কাজ করা কর্মকর্তা – কর্মচারীদেরকে বাছাই করে অবসরে পাঠাতে হবে এবং

# পরাশক্তিধর দেশের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত হতে হবে বাংলাদেরদেশের পররাষ্ট্র নীতি। অর্থাৎ দেশের পক্ষে প্রতিবেশী সহ পরাশক্তির দেশকে পররাষ্ট্র নীতির ঠিকাদারীর লাইসেন্স দিলে তা দেশ এবং জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে চলে যাবে।