সম্মানিত সদস্য, সালাম ও শুভেচ্ছা নিন।এবি পার্টির আসন্ন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদের নির্বাচন ২০২৪ এর একজন প্রার্থী হয়ে সম্মানিত ভোটার হিসেবে আপনার সদয় বিবেচনার জন্য আমার পরিচয়, স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিম্নে পেশ করলাম:
পরিচয়-
আমি মো. আনোয়র হোসেন ( আনোয়ার ফারুক) ১মার্চ ১৯৭৮ তারিখে লক্ষ্মীপুর জেলাধীন রামগঞ্জ উপজেলার টামটা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মোল্লা পরিবারে জন্মগ্রহণ করি।লেখাপড়া : ১৯৯৯ সালে মাদ্রাসা – ই- আলীয়া ঢাকা থেকে কামিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগ থেকে ১৯৯৮ সালে ২য় শ্রেণীতে অনার্স এবং ১৯৯৯ সালে ১ম শ্রেণীতে এমএ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাশ করি।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডিএমডি হিসেবে চাকুরী এবং শেয়ারে বিল্ডিং তৈরী,
ডায়াগনস্টিক, ফার্মেসি ও একটি ব্যাংকের এজেন্ট শাখার স্বত্তাধিকারী হিসেবে ব্যবসা করছি। পবিত্র হজ্ব পালনে ২০১৭ ও ২০২৩ সালে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও চীন সফর করি।
সমাজ সেবা-
১) সভাপতি : ফতেহপুর মাদ্রাসা এলামানাই এসোসিয়েশন ২) জীবন সদস্য – আরবী বিভাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামানাই এবং রেজিষ্টার্ড গ্রাজুয়েট।৩)শিক্ষা ও গবেষনা সম্পাদক – রামগঞ্জ চ্যারিটেবল সোসাইটি
৪) প্রাক্তন সভাপতি – ঢাকাস্থ রামগঞ্জ ফোরাম, সহকারী সেক্রেটারি, ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুর ফোরাম, দপ্তর সম্পাদক- লক্ষ্মীপুর স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন ও কবি জসিম উদ্দিন হল ডিবেটিং ক্লাব। সদস্য – বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস, ডিবেটিং ক্লাব ও বাঁধন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।তাছাড়া ১৯৯৫-১৯৯৬ সেশনে ভর্তি হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্টুডেন্টদের সংগঠন ডুফার ২০২২ সেশনে নির্বাচিত ইসি মেম্বার ও ২০২৩ সেশনে যাকাত উপকমিটির প্রেসিডেন্ট ছিলাম।
রাজনীতি –
বিগত দিনে- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবি জসিম উদ্দিন হলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রোকন এবং ঢাকার নিউমার্কেট ও কলাবাগান থানা শ্রম বিভাগের তত্তাবধায়ক ছিলাম।ছাত্র জীবনে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি পদে জয়ী হয়েছি।
এবি পার্টিতে অবস্থান : ২০২০ সালে আমার বাংলাদেশ পার্টি(এবি পার্টি)তে যোগদান করে নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক হিসেবে কাজ শুরু করে, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং বর্তমানে জাতীয় অর্থ কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় সহকারী সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করছি।
পার্টিতে আমার অবদান : জয়েন করার দিন থেকেই আমি পার্টিকে মনেপ্রাণে ভালোবেসে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে সহযোগীতা করার চেষ্টা করেছি। যার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিম্নরুপ :
১) যোগদানের পরথেকে এ পর্যন্ত কমবেশি ৫০০ জনকে এবি পার্টিতে যোগদান করিয়েছি।যাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আছেন।এদের অন্তত দশজন আছেন যারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ আসনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য। ২) পার্টির প্রথম জেলা সম্মেলনে নিবন্ধন কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার জোবায়ের আহমেদ ভুঁইয়া ভাইয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পার্টির নিবন্ধন ফি বাবদ ৫০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা সর্বপ্রথম প্রদান করার ঐতিহাসিক গৌরব আমি অর্জন করি।তাছাড়া আমার মাধ্যমে উৎসাহী হয়ে ইতিহাসের অংশ হতে উপস্থিত জেলা প্রতিনিধিগন মাত্র ৪৫ মিনিট সময়ের মধ্যে পার্টির নিবন্ধন ফান্ডে পনের লক্ষ টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।
৩) জুলাই – আগষ্টের বৈষম্য বিরুধী আন্দোলনে আমি জাতীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। বিশেষকরে গনঅধিকারসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব গেলে পুলিশের সরাসরি গুলিতে আমাদের সদস্য সচিব মঞ্জু ভাই ও খালিদ ভাই গুলিবিদ্ধ হয়, সেখানে উনাদের সাথে থেকে ভূমিকা রাখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।তাছাড়া হেফাজতের শাপলাচত্বর ও জামায়াতে ইসলামীর ২৮ অক্টোবর ট্রাজেডির আমি ছিলাম অন্যতর সম্মুখ যোদ্ধা ও আওয়ামিলীগের নির্যাতনে আহত।আরো উল্লেখ্য যে, ১৯৯৯ সালে ততকালীন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সাজ্জাদের নেতৃত্বে আমাকে শাররীক নির্যাতনের মাধ্যমে আহত করা হয়, যা তখনকার সকল জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়।
৪) করোনা মহামারি, বিগত বন্যাসহ সকল জাতীয় দুর্যোগে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী পার্টির দুস্থ নেতাকর্মী ও সাধারন জনগনের সেবায় শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে নিজেকে নিয়োজিত করেছি।
৫) নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে আমার জন্মস্থান রামগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, সৌদী আরব ( মক্কা,জেদ্দা ও রিয়াদে) ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণে বেশ কয়েকটি পোগ্রাম করেছি। যেখান সোলায়মান চৌধুরী স্যার, নাজমুল ভাই, মঞ্জু ভাই, ফুয়াদ ভাই, আমিনুল ইসলাম ভাই ও আনোয়ার সাদাত টুটুল ভাইসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে আমাকে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করেছেন।বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ফুয়াদ ভাইয়ের উৎসাহ ও পরামর্শে বাংলা সনের প্রবর্তক মীর ফতেহ আলী খানকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত তার কবরস্থানের নিকট দোআ ও স্মরণ সভা করেছি।
আমার স্বপ্ন :
এবি পার্টির সর্বস্তরের নেতাকর্মীগনকে সাথে নিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিনত করতে এবি পার্টির সকল কর্মসূচি সফল করা।
জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হলে আমার করনীয় – পরিকল্পনা-
১) পার্টির গঠনতন্ত্রের আলোকে আপনাদের ও সাধারণ সদস্যগনের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখবো।
২) পার্টির অভ্যন্তরে গণতন্ত্র ও পার্টির মূল নীতি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার চর্চা ও প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভুমিকা পালন করবো।
৩) সর্বস্তরের সদস্যদের উপকারে, স্বার্থে ও প্রয়োজনে আমার পরিচিত সরকারী ও বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত পেশাজীবীগনের মাধ্যমে সাধ্যমত প্রচেষ্টা চালানো।বিশেষ করে, প্রবাসী সদস্যগনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন।
৪) স্টুডেন্টদের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকা আমার শিক্ষক বন্ধুদের মাধ্যমে যথাসম্ভব সহায়তা করা।
৫) সদস্যগনের মাঝে থাকা বেকার যুবক ও যুবতীগনের কর্মস্থানে সহায়তা করা এবং দুস্থ- বিধবা বোনদের স্বাবলম্বীকরে তুলতে ভূমিকা রাখা।
৬) পার্টির আর্থিক সঙ্কট নিরসনে সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসাহ প্রদানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন।
৭) প্রিয় এবি পার্টিকে একটি গনমানুষের রাজনৈতিক দলে পরিনত করা।
৮) পার্টির নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালানায় যোগ্য জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা।
সর্বোপরি আমি আপনাদের হয়ে আপনাদের মনের কথা বলতে ও কাজ করতে চাই।আমি আশাবাদী আপনি আমার যোগ্যতা, দক্ষতা ও পার্টিতে আমার অবদানকে সদয় মূল্যায়ন করে আমাকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন।আল্লাহ হাফিজ।
আপনাদেরই ভাই
আনোয়ার ফারুক
প্রার্থী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদের নির্বাচন ২০২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















