ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ৯৬তম জন্মদিন  গোদাগাড়ীতে যুবককে পিটিয়ে জখম  পীরগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষককে তুলে এনে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা প্রস্তুতিমূলক সভা  অপপ্রচার নয়-পুরো বক্তব্য শুনেই বিচার করুন-এমপি হাফিজ ইব্রাহিমের বক্তব্য বিকৃতি নিয়ে প্রতিবাদ দেশ পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে ডিএসসিসির ৩২৭ কোটি টাকার মেগা কর্মসূচি সাবেক কাস্টমস কমিশনার হাফিজুর রহমানকে ঘিরে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে গ্যাস বিলে ৯৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেল দুদক অনিয়মকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে অগ্রণী ব্যাংক!

ইথোফোন-রাইপেনে পাকানো হচ্ছে অপরিপক্ব টমেটো!

দাম ভালো পাওয়ায় রাজশাহীতে হরহামেশাই অপরিপক্ব টমেটো ইথোফোন-রাইপেন দিয়ে পাকানো হচ্ছে। আর এসব টমেটো রাজশাহীর বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় ট্রাকযোগে পাঠাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ইটাহার, ললত্রি, পানিহার, জগপুর, বিড়ইল গ্রামে গিয়ে ইথোফোন দিয়ে টমেটো পাকানোর সত্যতা পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানায়, বর্তমানে টমেটো প্রতি মণ ২ হাজার থেকে ২২শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে চাহিদাও ভালো আছে। চাষিরা বলছেন, ‘কিছু দিন পর এই দাম আর দাম থাকবে না। তাই ছোট অবস্থায় টমেটো বিক্রি করছেন।

গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। গত বছর গোদাগাড়ীতে ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছিল। জেলার গোদাগাড়ীতে সব চেয়ে বেশি টমেটো চাষ হয়। আর রাজশাহী জেলাজুড়ে ৩৬ জাতের টমেটো চাষ হয়। এর মধ্যে তিন জাতের টমেটো বেশি চাষ হয়।

Dhaka post

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব টমেটো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। ফলে টমেটো কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি অফিস।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ীতে আউশ ধান কেটে নেওয়ার পর টমেটো চাষ শুরু হয়। এটা মূলত শীত ও বর্ষাকালীন টমেটো। যার সবগুলো হাইব্রিড। অন্য যেকোনো ফসলের তুলনায় টমেটো চাষ লাভজনক। এক বিঘায় ৬০-৭০ মণ টমেটো উৎপাদন হয়। আর প্রতি মণ ১ হাজার টাকা করে হলেও ৬০-৭০ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। যা ধান কিংবা অন্য ফসলে সম্ভব না।

চাষি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি থেকে টমেটো তুলে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। ২৪ ঘণ্টায় দু’বার ইথোফোন বা রাইপেন ছিটানো হয়। এরপর তা শুকনো কাঁথা ও ধানের নাড়া বা কুটো দিয়ে জাগ দেওয়া হয়। এতে টমেটো দ্রুত লাল হয়ে যায়।

চাষি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘টমেটো চাষে সুবিধা আছে। ব্যাবসায়ীরা জমির কাছে থেকে টমেটো কিনে নেয়। ফলে হাটে-বাজারে বিক্রির খরচ নেই। অনেক সময় টমেটো চাষের জন্য ব্যবসায়ীরা চাষিদের অগ্রিম টাকাও দিয়ে থাকে। আবার পুরো জমির টমেটো কিনে নেয় ব্যবসায়ীরা। টমেটো উঠার শুরু থেকেই ভালো দাম পাওয়া যায়।

গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ীর কৃষক সাদ্দাম হোসেন দেড় বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। গাছে টমেটো আসার আগ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। যা গত বছরের চেয়ে ১০ হাজার টাকা বেশি। আরও ৫ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানান তিনি।

বিড়ইল গ্রামের ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘প্রতিদিন ৮-১০ ট্রাক টমেটো ঢাকা, কারওয়ান বাজার, চৌরাস্তা, সিলেট ও চট্টগ্রামে যায়। আমার জানা মতে, শনিবার ৮ ট্রাক টমেটো নিয়ে যাওয়া হয়েছে এসব এলাকা থেকে।

তিনি আরও বলেন, পাকা টমেটো পেতে এখনো এক মাস সময় লাগবে। তখন দাম আরও কমে যাবে। কাঁচা টমেটো কীভাবে পাকান? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন যেসব পাকা টমেটো দেখবেন সব ওষুধ দিলে পাকানো। তবে এই টমেটোতে তেমন স্বাদ নেই।’

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, ‘হরমোন দিয়ে টমেটো পাকানো হচ্ছে। এটা খেলে মানবদেহের ক্ষতি হবে না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এতে ক্ষতিকারক কিছু থাকে না, তারপরও কম মাত্রায় থাকতে পারে। এই হরমোন (ইথোফোন) কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা করা হয়েছে। মূলত বেশি দাম পাওয়ার জন্য কাঁচা টমেটো বিক্রি করছেন চাষিরা।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ৯৬তম জন্মদিন 

ইথোফোন-রাইপেনে পাকানো হচ্ছে অপরিপক্ব টমেটো!

আপডেট সময় ১২:৩১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ নভেম্বর ২০২২

দাম ভালো পাওয়ায় রাজশাহীতে হরহামেশাই অপরিপক্ব টমেটো ইথোফোন-রাইপেন দিয়ে পাকানো হচ্ছে। আর এসব টমেটো রাজশাহীর বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় ট্রাকযোগে পাঠাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ইটাহার, ললত্রি, পানিহার, জগপুর, বিড়ইল গ্রামে গিয়ে ইথোফোন দিয়ে টমেটো পাকানোর সত্যতা পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানায়, বর্তমানে টমেটো প্রতি মণ ২ হাজার থেকে ২২শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে চাহিদাও ভালো আছে। চাষিরা বলছেন, ‘কিছু দিন পর এই দাম আর দাম থাকবে না। তাই ছোট অবস্থায় টমেটো বিক্রি করছেন।

গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। গত বছর গোদাগাড়ীতে ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছিল। জেলার গোদাগাড়ীতে সব চেয়ে বেশি টমেটো চাষ হয়। আর রাজশাহী জেলাজুড়ে ৩৬ জাতের টমেটো চাষ হয়। এর মধ্যে তিন জাতের টমেটো বেশি চাষ হয়।

Dhaka post

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব টমেটো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। ফলে টমেটো কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি অফিস।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ীতে আউশ ধান কেটে নেওয়ার পর টমেটো চাষ শুরু হয়। এটা মূলত শীত ও বর্ষাকালীন টমেটো। যার সবগুলো হাইব্রিড। অন্য যেকোনো ফসলের তুলনায় টমেটো চাষ লাভজনক। এক বিঘায় ৬০-৭০ মণ টমেটো উৎপাদন হয়। আর প্রতি মণ ১ হাজার টাকা করে হলেও ৬০-৭০ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। যা ধান কিংবা অন্য ফসলে সম্ভব না।

চাষি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি থেকে টমেটো তুলে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। ২৪ ঘণ্টায় দু’বার ইথোফোন বা রাইপেন ছিটানো হয়। এরপর তা শুকনো কাঁথা ও ধানের নাড়া বা কুটো দিয়ে জাগ দেওয়া হয়। এতে টমেটো দ্রুত লাল হয়ে যায়।

চাষি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘টমেটো চাষে সুবিধা আছে। ব্যাবসায়ীরা জমির কাছে থেকে টমেটো কিনে নেয়। ফলে হাটে-বাজারে বিক্রির খরচ নেই। অনেক সময় টমেটো চাষের জন্য ব্যবসায়ীরা চাষিদের অগ্রিম টাকাও দিয়ে থাকে। আবার পুরো জমির টমেটো কিনে নেয় ব্যবসায়ীরা। টমেটো উঠার শুরু থেকেই ভালো দাম পাওয়া যায়।

গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ীর কৃষক সাদ্দাম হোসেন দেড় বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। গাছে টমেটো আসার আগ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। যা গত বছরের চেয়ে ১০ হাজার টাকা বেশি। আরও ৫ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানান তিনি।

বিড়ইল গ্রামের ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘প্রতিদিন ৮-১০ ট্রাক টমেটো ঢাকা, কারওয়ান বাজার, চৌরাস্তা, সিলেট ও চট্টগ্রামে যায়। আমার জানা মতে, শনিবার ৮ ট্রাক টমেটো নিয়ে যাওয়া হয়েছে এসব এলাকা থেকে।

তিনি আরও বলেন, পাকা টমেটো পেতে এখনো এক মাস সময় লাগবে। তখন দাম আরও কমে যাবে। কাঁচা টমেটো কীভাবে পাকান? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন যেসব পাকা টমেটো দেখবেন সব ওষুধ দিলে পাকানো। তবে এই টমেটোতে তেমন স্বাদ নেই।’

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, ‘হরমোন দিয়ে টমেটো পাকানো হচ্ছে। এটা খেলে মানবদেহের ক্ষতি হবে না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এতে ক্ষতিকারক কিছু থাকে না, তারপরও কম মাত্রায় থাকতে পারে। এই হরমোন (ইথোফোন) কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা করা হয়েছে। মূলত বেশি দাম পাওয়ার জন্য কাঁচা টমেটো বিক্রি করছেন চাষিরা।’