ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএমইটি ঘিরে একচেটিয়া প্রভাবের অভিযোগ ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ডলার কারসাজিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুমন ডিএই’তে প্রধান সহকারী নাসির উদ্দীনের বদলি ঘিরে উত্তেজনা, নানা অনিয়মের অভিযোগ দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত আরিফুরের পুনর্বহালের তদবির সব আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম : রিজভী নীলকুঞ্জ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ও একজন সংবাদকর্মীর জাতীয় সম্মান প্রাপ্তি পিপিআর বিধিমালা ভেঙে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কামরুল- ফিরাদুলের পৌনে ৭ কোটি টাকা দুর্নীতি দুখু মিয়ার ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের শ্রদ্ধাঞ্জলি সৌদি থেকে আত্রাইয়ের সাতজনের মরদেহ দেশে আসছে আজ কুমিল্লায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

আবেদনপত্র ছিড়ে ফেলায় বাহুবল ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে শোকজ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মীর মোহাম্মদ শাহীনকে শোকজ করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রুহুল আমিন। গোপাল রবিদাস নামের একটি আবেদনপত্র ছিড়ে ফেলায় আজ রবিবার তাকে শোকজ করেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার খরিয়া গ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী চর্মকার সম্প্রদায়ের গোপাল রবিদাস কয়েকমাস পূর্বে বাড়ির সীমানা নির্ধারণের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভূমি অফিসে লিখিত আবেদন করেন। যথারীতি আবেদনপত্রে তিনি বিশ টাকা মূল্যের কোর্ট ফিও সংযুক্ত করেন। এর পর থেকে অফিসে ধর্ণা দিতে থাকে দরিদ্র গোপাল। কিন্তু সার্ভেয়ার মীর মোহাম্মদ শাহীনকে ঘুষের টাকা না দেয়ায় তাকে দিনের পর দিন আজ নয় কাল হয়রানী করতে থাকে। সর্বশেষ আজ রবিবার বিকাল ২টারদিকে গোপাল রবিদাস অবস্থা জানার জন্য অফিসে সাথে দেখা করতে যান। তখন কম্পিউটার অপারেটর নাহিদ আহমেদ গোপাল রবিদাসকে নিয়মানুযায়ী সার্ভেয়ার মীর মোহাম্মদ শাহীনের রুমে নিয়ে যান। গোপালকে দেখেই সার্ভেয়ার ক্ষেপে গিয়ে ফাইল থেকে তার আবেদনপত্রটি বের করে প্রত্যক্ষদর্শীর সামনেই একটানে ছিড়ে ফেলেন। সাথে সাথেই শুরু হয় তোলপাড়। অফিসে থাকা অন্যান্য সাধারণ মানুষও সার্ভেয়ারের বেআইনী কান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশের রুমেই থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রুহুল আমিন বিষয়টি জেনে মর্মাহত হন এবং দ্রুতই তাকে শোকজ করেন এবং উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন পাঠানোর প্রস্তুতি নেন। এব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রুহুল আমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি- বিষয়টি অপরাধমূলক। তাই তাকে শোকজ করেছি। অভিযুক্ত মীর মোহাম্মদ শাহীনের কাছে জানতে চাইলে অপরাধ স্বীকার করে বলেন- গোপাল রবিদাসের কোর্টফিসহ আবেদনপত্র আমি নতুন করে দিয়ে দেব। এদিকে উপস্থিত থাকা ভূক্তভোগী লোকজন সরাসরি তার সামনেই ঘুষ ছাড়া কাজ না করার অভিযোগ তুলতে থাকেন এবং অফিসেও আসেন ১১টার পর। তখন তিনি কোন কথা না বলে নিচের দিকে থেকে তাকিয়ে মোবাইল টিপতে থাকেন।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএমইটি ঘিরে একচেটিয়া প্রভাবের অভিযোগ

আবেদনপত্র ছিড়ে ফেলায় বাহুবল ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে শোকজ

আপডেট সময় ০৬:২২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মীর মোহাম্মদ শাহীনকে শোকজ করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রুহুল আমিন। গোপাল রবিদাস নামের একটি আবেদনপত্র ছিড়ে ফেলায় আজ রবিবার তাকে শোকজ করেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার খরিয়া গ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী চর্মকার সম্প্রদায়ের গোপাল রবিদাস কয়েকমাস পূর্বে বাড়ির সীমানা নির্ধারণের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভূমি অফিসে লিখিত আবেদন করেন। যথারীতি আবেদনপত্রে তিনি বিশ টাকা মূল্যের কোর্ট ফিও সংযুক্ত করেন। এর পর থেকে অফিসে ধর্ণা দিতে থাকে দরিদ্র গোপাল। কিন্তু সার্ভেয়ার মীর মোহাম্মদ শাহীনকে ঘুষের টাকা না দেয়ায় তাকে দিনের পর দিন আজ নয় কাল হয়রানী করতে থাকে। সর্বশেষ আজ রবিবার বিকাল ২টারদিকে গোপাল রবিদাস অবস্থা জানার জন্য অফিসে সাথে দেখা করতে যান। তখন কম্পিউটার অপারেটর নাহিদ আহমেদ গোপাল রবিদাসকে নিয়মানুযায়ী সার্ভেয়ার মীর মোহাম্মদ শাহীনের রুমে নিয়ে যান। গোপালকে দেখেই সার্ভেয়ার ক্ষেপে গিয়ে ফাইল থেকে তার আবেদনপত্রটি বের করে প্রত্যক্ষদর্শীর সামনেই একটানে ছিড়ে ফেলেন। সাথে সাথেই শুরু হয় তোলপাড়। অফিসে থাকা অন্যান্য সাধারণ মানুষও সার্ভেয়ারের বেআইনী কান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশের রুমেই থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রুহুল আমিন বিষয়টি জেনে মর্মাহত হন এবং দ্রুতই তাকে শোকজ করেন এবং উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন পাঠানোর প্রস্তুতি নেন। এব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রুহুল আমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি- বিষয়টি অপরাধমূলক। তাই তাকে শোকজ করেছি। অভিযুক্ত মীর মোহাম্মদ শাহীনের কাছে জানতে চাইলে অপরাধ স্বীকার করে বলেন- গোপাল রবিদাসের কোর্টফিসহ আবেদনপত্র আমি নতুন করে দিয়ে দেব। এদিকে উপস্থিত থাকা ভূক্তভোগী লোকজন সরাসরি তার সামনেই ঘুষ ছাড়া কাজ না করার অভিযোগ তুলতে থাকেন এবং অফিসেও আসেন ১১টার পর। তখন তিনি কোন কথা না বলে নিচের দিকে থেকে তাকিয়ে মোবাইল টিপতে থাকেন।