ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অতীতে আটকে গেলে তো উন্নয়ন হবে না : ভারতীয় হাইকমিশনার দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি : প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১০০০ মুকসুদপুরে সরকারি খাসজমি ও জলাশয় দখলের অভিযোগ বোরহানউদ্দিনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, হাফিজ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‍্যালি জিয়া ‍উদ্যানের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী চীনে অনিশ্চয়তা, ভারতে ব্যবসা বাড়াচ্ছে জাপানি কোম্পানিগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের ৫০ বছরপূর্তি, কর্মসূচি নির্ধারণে জেলা-উপজেলা সাংবাদিকদের প্রস্তুতি সভা বাবা-মায়ের দেওয়া নাম বদলে চলচ্চিত্রে তারকা পরিচিতি পেয়েছেন যেসব অভিনেত্রী

শোকের মাতমে ভাসছে বাগমারার ঝিকড়া ইউনিয়ন

সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া নয়জনের মধ্যে চারজনেরই বাড়ি রাজশাহীর বাগমারায়। এর মধ্যে তিনজনের বাড়ি ঝিকড়া ইউনিয়নে। অন্যজনের যোগিপাড়া ইউনিয়নে। তাঁরা হলেন বারইপাড়া গ্রামের রুবেল হোসনেকে (২৬), সাজেদুল ইসলাম (৪৫), রুবেল আলী (২৭) ও বড়মাধাইমুড়ি গ্রামের ফিরোজ আলী সরদার (৩৮)। তাঁদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

গতকাল শুক্রবার সৌদি সময় বিকেল চারটায় রাজধানী রিয়াদ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার পর্বে আল আহসা শহরের হুফুফ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল সিটি এলাকার এক সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত রুবেল হোসেনের বাবা জফির উদ্দিন ছেলেকে হারিয়ে নিস্তব্ধ প্রায়। এই দুর্ঘটনা মানতেই পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, গতকাল শুক্রবারই তাঁরা মৃত্যুর খবর পেয়েছিলেন। তবে নিশ্চিত হতে পারেননি। আজ সকালে সেখানে থেকে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সাজেদুল ইসলাম আট বছর ধরে সৌদি আরবে ছিলেন। তিনিও মারা গেছেন। তাঁরা দুজনেই একসঙ্গে থাকতেন।

তাঁদের সহযোগিতায় একই কোম্পানিতে চাকরি নিয়েছিলেন একই গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে রুবেল আলী (২৭)। সাত মাস আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এর মধ্যে তিনিও আগুনে পুড়ে লাশ হলেন। উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়নের বড় মাধাইমুড়ি গ্রামের ফিরোজ আলী সরদার (৩৯) ছয় বছর আগে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। বাবা আনিছার রহমান বলেন, ছেলে কিছু টাকা জমিয়ে এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেই টাকা ধিরে ধিরে শোধ করেছেন। এখন সুদিন আসছিল। কিন্তু তার আগেই সব ছেড়ে চলে যেতে হলো তাকে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ছেলেটি খুবই ভদ্র ছিল। মাত্র দুই বছর আগে গিয়ে সেখানে ওই কারখানায় চাকরি নিয়েছেন। তাঁর এক শিশু ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে পরিবারগুলোর খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অতীতে আটকে গেলে তো উন্নয়ন হবে না : ভারতীয় হাইকমিশনার

শোকের মাতমে ভাসছে বাগমারার ঝিকড়া ইউনিয়ন

আপডেট সময় ০৪:৪১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০২৩

সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া নয়জনের মধ্যে চারজনেরই বাড়ি রাজশাহীর বাগমারায়। এর মধ্যে তিনজনের বাড়ি ঝিকড়া ইউনিয়নে। অন্যজনের যোগিপাড়া ইউনিয়নে। তাঁরা হলেন বারইপাড়া গ্রামের রুবেল হোসনেকে (২৬), সাজেদুল ইসলাম (৪৫), রুবেল আলী (২৭) ও বড়মাধাইমুড়ি গ্রামের ফিরোজ আলী সরদার (৩৮)। তাঁদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

গতকাল শুক্রবার সৌদি সময় বিকেল চারটায় রাজধানী রিয়াদ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার পর্বে আল আহসা শহরের হুফুফ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল সিটি এলাকার এক সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত রুবেল হোসেনের বাবা জফির উদ্দিন ছেলেকে হারিয়ে নিস্তব্ধ প্রায়। এই দুর্ঘটনা মানতেই পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, গতকাল শুক্রবারই তাঁরা মৃত্যুর খবর পেয়েছিলেন। তবে নিশ্চিত হতে পারেননি। আজ সকালে সেখানে থেকে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সাজেদুল ইসলাম আট বছর ধরে সৌদি আরবে ছিলেন। তিনিও মারা গেছেন। তাঁরা দুজনেই একসঙ্গে থাকতেন।

তাঁদের সহযোগিতায় একই কোম্পানিতে চাকরি নিয়েছিলেন একই গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে রুবেল আলী (২৭)। সাত মাস আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এর মধ্যে তিনিও আগুনে পুড়ে লাশ হলেন। উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়নের বড় মাধাইমুড়ি গ্রামের ফিরোজ আলী সরদার (৩৯) ছয় বছর আগে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। বাবা আনিছার রহমান বলেন, ছেলে কিছু টাকা জমিয়ে এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেই টাকা ধিরে ধিরে শোধ করেছেন। এখন সুদিন আসছিল। কিন্তু তার আগেই সব ছেড়ে চলে যেতে হলো তাকে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ছেলেটি খুবই ভদ্র ছিল। মাত্র দুই বছর আগে গিয়ে সেখানে ওই কারখানায় চাকরি নিয়েছেন। তাঁর এক শিশু ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে পরিবারগুলোর খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।