ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার আভাসে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ধস কুমিল্লায় মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় আশাবাদী ঢাকা আবু বকর চরিত্রে মুগ্ধতা, কে এই অভিনেতা শেহরিয়ার মুনাওয়ার? মেসির বাঁ পা পেলে থামানো কঠিন হতো: কেইন গণপূর্তে বৈষম্য সৃষ্টির অভিযোগে আলোচনায় নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইসকান্দার আলী মিয়ানমারে ক্লিনিক ও স্কুলে বিমান হামলা, নবজাতকসহ নিহত ১৫ এলপিজির মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবনে নতুন সংকটের আশঙ্কা গোলাম পরওয়ারের প্রধানমন্ত্রীর বিমানে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি, কারণ জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল ও ল্যাপটপ চুরি বেড়ে যাবে : রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি, কারণ জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাগুলোর সার্বিক কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে ঘন ঘন দেখা দেওয়া যান্ত্রিক ত্রুটির সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট কারণ জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতির দায় নির্ধারণের পাশাপাশি আইটি খাতের দুর্বলতার কারণে রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও সংসদীয় প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এ বার্তা দেওয়া হয়। এতে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন উপস্থিত থেকে মতামত দেন।

বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সাম্প্রতিক পরিচালন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সময়ে উঠে আসা নিরীক্ষা প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির আলোচনায় সরকারি তহবিলের অপচয় বন্ধ, দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাঠামোগত জবাবদিহি নিশ্চিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আলোচনায় রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ফ্লাইটের নিরাপত্তার বিষয়টি উঠে আসে। বিমানে বারবার দেখা দেওয়া কারিগরি জটিলতার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অতীত ও সাম্প্রতিক উড়োজাহাজ কেনাকাটা, বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রপাতি সংগ্রহের চুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ আইটি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বা হতে পারত, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ পর্যন্ত গৃহীত অডিট আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ঠিক কত টাকা সরকারি কোষাগারে আদায় হয়েছে, এখনো কী পরিমাণ অর্থ অনাদায়ি রয়েছে এবং অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়মে জড়িত কতজনের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়েছে। প্রতিটি নিষ্পত্তিকৃত ও অসম্পূর্ণ নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে দাপ্তরিক প্রমাণাদিসহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সংসদীয় কমিটি উত্থাপিত সার্বিক বিষয়ের ওপর বিস্তৃত লিখিত বক্তব্য, কাগজপত্র ও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী নির্ধারিত বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে কমিটি।

গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ), অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ, মঙ্গলবার থেকে নিবন্ধন শুরু ডিএসসিসিতে

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি, কারণ জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

আপডেট সময় ০৮:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাগুলোর সার্বিক কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে ঘন ঘন দেখা দেওয়া যান্ত্রিক ত্রুটির সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট কারণ জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতির দায় নির্ধারণের পাশাপাশি আইটি খাতের দুর্বলতার কারণে রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও সংসদীয় প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এ বার্তা দেওয়া হয়। এতে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন উপস্থিত থেকে মতামত দেন।

বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সাম্প্রতিক পরিচালন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সময়ে উঠে আসা নিরীক্ষা প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির আলোচনায় সরকারি তহবিলের অপচয় বন্ধ, দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাঠামোগত জবাবদিহি নিশ্চিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আলোচনায় রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ফ্লাইটের নিরাপত্তার বিষয়টি উঠে আসে। বিমানে বারবার দেখা দেওয়া কারিগরি জটিলতার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অতীত ও সাম্প্রতিক উড়োজাহাজ কেনাকাটা, বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রপাতি সংগ্রহের চুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ আইটি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বা হতে পারত, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ পর্যন্ত গৃহীত অডিট আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ঠিক কত টাকা সরকারি কোষাগারে আদায় হয়েছে, এখনো কী পরিমাণ অর্থ অনাদায়ি রয়েছে এবং অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়মে জড়িত কতজনের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়েছে। প্রতিটি নিষ্পত্তিকৃত ও অসম্পূর্ণ নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে দাপ্তরিক প্রমাণাদিসহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সংসদীয় কমিটি উত্থাপিত সার্বিক বিষয়ের ওপর বিস্তৃত লিখিত বক্তব্য, কাগজপত্র ও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী নির্ধারিত বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে কমিটি।

গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ), অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।