ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডি মনিরুজ্জামানের হাতে সব ক্ষমতা দুঃখের কথা শুনেই সহায়তার হাত বাড়ালেন মানবিক ডিসি জাহিদ পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর, যুবদল নেতা আল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে ক্ষমতা হারাতে পারেন নেতানিয়াহু বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে টোলের নামে চাঁদাবাজি, ক্ষুব্ধ পর্যটক ও যাত্রীরা ১২ কেজি এলপিজির দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ভোটার স্থানান্তরের আবেদনের সময় বাড়ল ১ নভেম্বর পর্যন্ত উখিয়ায় এসআই কিবরিয়াসহ ৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ১ লাখ ইয়াবা ও পিস্তল গায়েবের অভিযোগ নেতানিয়াহুর বদলে ‘কম ক্ষতিকর’ প্রধানমন্ত্রী চান গাজাবাসী বরগুনায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

নিজ কার্যালয়েই মারধরের শিকার আইইডিসিআর পরিচালক

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী আহমেদ জাকিকে তাঁর কার্যালয়ে একটি বৈঠক চলাকালে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতাদের বিরুদ্ধে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে আইইডিসিআরের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় সেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক চলছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বৈঠক শুরুর প্রায় পাঁচ মিনিটের মাথায় ড্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসানসহ ৮ থেকে ১০ জন ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর বৈঠকে চেয়ারে বসে থাকা পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী আহমেদ জাকিকে টেনেহিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় বিদেশি প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আইইডিসিআরের কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে পরিচালককে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার পর মারধরের দৃশ্য দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও কার্যালয়ে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, পরিচালককে কক্ষের ভেতর থেকে বাইরে নিয়ে আসার পরও মারধর করা হয়। তাঁদের ভাষ্য, কোনো ধরনের কথাবার্তা ছাড়াই তাঁকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের মতো লোক সেখানে এসেছিলেন। ডা. জাকি মাস দুয়েক আগেও আইইডিসিআরের ফিল্ড এপিডেমিওলজি ট্রেনিং প্রোগ্রামের (এফইটিপি) প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. নিতীশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘আমি মিটিংয়ে একটু পরে যোগ দিয়েছি। মিটিংয়ে প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ৮ থেকে ১০ জনের মতো লোক কক্ষে প্রবেশ করে ডা. জাকিকে টেনেহিঁচড়ে মিটিং থেকে বের করে নিয়ে যান। এটি ইউএসএআইডির ইউএনজির প্রোগ্রেসিভ মিটিং ছিল।’

এ ঘটনায় ড্যাবের পক্ষ থেকে ডা. জাহিদ হাসানের সদস্যপদ প্রাথমিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ড্যাবের সভাপতি ও মহাসচিবের কাছে যথোপযুক্ত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ড্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, ‘আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করি না। স্বাস্থ্য খাতের সব পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ড্যাব সব ধরনের সহযোগিতা করবে। ড্যাবের কোনো সদস্য অনিয়ম, উগ্রপন্থা বা এ ধরনের হস্তক্ষেপের সঙ্গে জড়িত থাকলে আমরা তা কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেব না, বরদাশত করব না। এ ঘটনায় ডা. জাহিদের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও ড্যাব সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’

ঘটনাটি তদন্তে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান। তিনি বলেন, এ ঘটনাটি পুরোপুরি অনাকাঙ্ক্ষিত। কার্যালয়ের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক হিসেবে আখ্যায়িত করে আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘আইইডিসিআরের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ড্যাবের নেতাকর্মীদের হাতে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূচনা হলো, তা খুবই নিন্দনীয় ও জঘন্য কাজ। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, এ ঘটনায় যাঁরা সম্পৃক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে যেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি। তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আজ আমার কার্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। আমি মারধরের শিকার হয়েছি।’

এদিকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আইইডিসিআরের পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে তাঁর কক্ষের ভেতরে তাঁকে মারধর করেছেন ড্যাবের কর্মীরা। মব সৃষ্টি করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ বেলা ১১টায় আইইডিসিআরে যে ঘটনা ঘটেছে, সমাজের একটি বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষিত সমাজেও যদি এ ধরনের মব প্রকাশ্য দিবালোকে বেপরোয়াভাবে তৈরি করা হয়, তাহলে ভাবা যায়, দেশ কোন পথে?’

তিনি আরও বলেন, ‘একের পর এক অঘটন ঘটে চলেছে। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার ভাঙচুর ও লুটপাটের ক্ষত এখনো তাজা। এর মধ্যে সরকারি দলের চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের নেতাকর্মীরা যে ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় রচনা করেছে।’

এ ঘটনাকে সীমালঙ্ঘন, ধৃষ্টতা ও অপরাধমূলক কাজ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হতে হবে। অন্যথায় ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা কোনোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডি মনিরুজ্জামানের হাতে সব ক্ষমতা

নিজ কার্যালয়েই মারধরের শিকার আইইডিসিআর পরিচালক

আপডেট সময় ০৮:১১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী আহমেদ জাকিকে তাঁর কার্যালয়ে একটি বৈঠক চলাকালে টেনেহিঁচড়ে বের করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতাদের বিরুদ্ধে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে আইইডিসিআরের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় সেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক চলছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বৈঠক শুরুর প্রায় পাঁচ মিনিটের মাথায় ড্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসানসহ ৮ থেকে ১০ জন ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর বৈঠকে চেয়ারে বসে থাকা পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী আহমেদ জাকিকে টেনেহিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় বিদেশি প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আইইডিসিআরের কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে পরিচালককে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার পর মারধরের দৃশ্য দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও কার্যালয়ে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, পরিচালককে কক্ষের ভেতর থেকে বাইরে নিয়ে আসার পরও মারধর করা হয়। তাঁদের ভাষ্য, কোনো ধরনের কথাবার্তা ছাড়াই তাঁকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের মতো লোক সেখানে এসেছিলেন। ডা. জাকি মাস দুয়েক আগেও আইইডিসিআরের ফিল্ড এপিডেমিওলজি ট্রেনিং প্রোগ্রামের (এফইটিপি) প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. নিতীশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘আমি মিটিংয়ে একটু পরে যোগ দিয়েছি। মিটিংয়ে প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ৮ থেকে ১০ জনের মতো লোক কক্ষে প্রবেশ করে ডা. জাকিকে টেনেহিঁচড়ে মিটিং থেকে বের করে নিয়ে যান। এটি ইউএসএআইডির ইউএনজির প্রোগ্রেসিভ মিটিং ছিল।’

এ ঘটনায় ড্যাবের পক্ষ থেকে ডা. জাহিদ হাসানের সদস্যপদ প্রাথমিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ড্যাবের সভাপতি ও মহাসচিবের কাছে যথোপযুক্ত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ড্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, ‘আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করি না। স্বাস্থ্য খাতের সব পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ড্যাব সব ধরনের সহযোগিতা করবে। ড্যাবের কোনো সদস্য অনিয়ম, উগ্রপন্থা বা এ ধরনের হস্তক্ষেপের সঙ্গে জড়িত থাকলে আমরা তা কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেব না, বরদাশত করব না। এ ঘটনায় ডা. জাহিদের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও ড্যাব সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’

ঘটনাটি তদন্তে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান। তিনি বলেন, এ ঘটনাটি পুরোপুরি অনাকাঙ্ক্ষিত। কার্যালয়ের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক হিসেবে আখ্যায়িত করে আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘আইইডিসিআরের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ড্যাবের নেতাকর্মীদের হাতে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূচনা হলো, তা খুবই নিন্দনীয় ও জঘন্য কাজ। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, এ ঘটনায় যাঁরা সম্পৃক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে যেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি। তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আজ আমার কার্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। আমি মারধরের শিকার হয়েছি।’

এদিকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আইইডিসিআরের পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে তাঁর কক্ষের ভেতরে তাঁকে মারধর করেছেন ড্যাবের কর্মীরা। মব সৃষ্টি করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ বেলা ১১টায় আইইডিসিআরে যে ঘটনা ঘটেছে, সমাজের একটি বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষিত সমাজেও যদি এ ধরনের মব প্রকাশ্য দিবালোকে বেপরোয়াভাবে তৈরি করা হয়, তাহলে ভাবা যায়, দেশ কোন পথে?’

তিনি আরও বলেন, ‘একের পর এক অঘটন ঘটে চলেছে। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার ভাঙচুর ও লুটপাটের ক্ষত এখনো তাজা। এর মধ্যে সরকারি দলের চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের নেতাকর্মীরা যে ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় রচনা করেছে।’

এ ঘটনাকে সীমালঙ্ঘন, ধৃষ্টতা ও অপরাধমূলক কাজ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হতে হবে। অন্যথায় ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা কোনোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’