রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে গ্রাম পুলিশ লেবু মিয়া বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর।
নিহত দুজন হলেন উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার রেজাউল ওরফে কানা রেজাউল (৫০) এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাদিকুল ইসলাম (২৫)। রোববার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তর পানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকায় বড় সেচ ক্যানেলের কাছে তাঁদের গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার সিদ্দিকুর রহমান সোহেলের বাড়ি থেকে অটোরিকশা চুরি করে পালানোর অভিযোগ ওঠে ওই দুজনের বিরুদ্ধে। সোহেল ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মতিন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, ধাওয়া খেয়ে ওই দুজন অটোরিকশাটি ফেলে ধানখেত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁদের আটক করে মারধর করা হলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, সাদিকুল আগে মাদক সেবন করতেন। ছেলেকে ভালো পথে ফেরাতে তাঁর বাবা অনেক চেষ্টা করেছিলেন। সাদিকুলের ছয় ও চার বছর বয়সী দুটি ছেলে রয়েছে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর জানান, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ লেবু মিয়ার করা হত্যা মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পুলিশ জানায়, নিহত রেজাউলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরির অভিযোগে নয়টি মামলা রয়েছে।
মোছাদ্দেক সৈকত-স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর 





















