ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বড়লেখা সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল ৫২ বিজিবি ঋণের টাকা নিয়ে বিরোধ, ভাবিকে চুলের মুঠি ধরে পেটালেন দেবর দুই জেলার সীমান্তে বিজিবির অভিযান, জব্দ ১ কোটি ৫ লাখ টাকার পণ্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট চেয়েছিল বিএনপি: শফিকুর রহমান সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা, রাতে কবর খুঁড়লেন মেয়ে-বোন সংস্কার বাস্তবায়নে বিএনপির সদিচ্ছা নেই: আখতার হোসেন রংপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সড়ক মেরামত, সাত দিনেই বেহাল দশা বিদেশের কারাগারে ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি, মিলছে না পর্যাপ্ত সরকারি সহযোগিতা আওয়ামী লীগর সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে চাকরি পাওয়া মাসুম বিল্লাহ এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গোপালগঞ্জে গ্রাম পুলিশকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ

কালীগঞ্জে শামীম হত্যা মামলার আসামি ইমরান আলম, এখন মহেশপুর থানার ওসি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা শামীম হোসেনকে তুলে নিয়ে হত্যা করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইমরান আলম এখন মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৬ সালে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে পাঁচ নম্বর আসামি করা হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর মহেশপুর থানায় ওসি হিসেবে যোগ দেন তিনি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের মাহতাব উদ্দিন কলেজের পূর্ব পাশের গেটের সামনে থেকে শামীম হোসেনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এজাহার অনুযায়ী, দুটি মোটরসাইকেলে আসা সাদা পোশাকধারী চার ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে নিয়ে যান। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

নিখোঁজের প্রায় ২০ দিন পর, ১৩ এপ্রিল যশোর সদর উপজেলার লাউখালী গ্রামের শ্মশানঘাট এলাকা থেকে শামীমের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শামীম কালীগঞ্জ উপজেলার বাকুলিয়া গ্রামের নুরুল আমীনের ছেলে এবং উপজেলা ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় শামীমের বাবা ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ১৭ অক্টোবর পিটিশনটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেন।

মামলায় ঝিনাইদহের সাবেক পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া তৎকালীন কালীগঞ্জ থানার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা, সাবেক জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে মামলার বিবরণে জানা যায়। এজাহারে ইমরান আলমের নাম ইমরান হোসেন হিসেবেও উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, শামীমকে তুলে নেওয়ার পর প্রায় ২০ দিন পুলিশ ক্যাম্পে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারকে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া ও তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো জানা যায়নি।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শামীমকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন সময়ে কালীগঞ্জ থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ইমরান আলমের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কালীগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে কোটচাঁদপুর থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি বরগুনায় কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে বদলি হয়ে গত ১০ অক্টোবর মহেশপুর থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন।

নাম প্রত্যাহারের দাবি ও আইনজীবীর বক্তব্য

মামলায় নিজের নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মহেশপুর থানার ওসি ইমরান আলম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি মামলার পাঁচ নম্বর আসামি। তবে বাদী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা করে তাঁরসহ আওয়ামী লীগের সাতজনের নাম প্রত্যাহার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ওসি আরও জানান, মামলাটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং পিবিআই দ্রুত চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে তিনি মনে করেন।

তবে মামলার আইনজীবী ইসমাইল হোসাইন বলেন, শুধু হলফনামার মাধ্যমে আসামির নাম প্রত্যাহারের আইনগত ভিত্তি নেই। মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা আসামির নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি ইমরান আলম বলেন, “আপনার যা ইচ্ছে মত লেখেন। তা না হলে আমার থানায় আসেন আলাপ করি।”

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, মহেশপুর থানার বর্তমান ওসি হত্যা মামলার আসামি কি না, তা এই মুহূর্তে তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে তিনি জানান।

এদিকে, একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে নাম থাকা অবস্থায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মামলায় নাম থাকা মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড়লেখা সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল ৫২ বিজিবি

কালীগঞ্জে শামীম হত্যা মামলার আসামি ইমরান আলম, এখন মহেশপুর থানার ওসি

আপডেট সময় ১১:৩৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা শামীম হোসেনকে তুলে নিয়ে হত্যা করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইমরান আলম এখন মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৬ সালে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে পাঁচ নম্বর আসামি করা হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর মহেশপুর থানায় ওসি হিসেবে যোগ দেন তিনি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের মাহতাব উদ্দিন কলেজের পূর্ব পাশের গেটের সামনে থেকে শামীম হোসেনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এজাহার অনুযায়ী, দুটি মোটরসাইকেলে আসা সাদা পোশাকধারী চার ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে নিয়ে যান। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

নিখোঁজের প্রায় ২০ দিন পর, ১৩ এপ্রিল যশোর সদর উপজেলার লাউখালী গ্রামের শ্মশানঘাট এলাকা থেকে শামীমের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শামীম কালীগঞ্জ উপজেলার বাকুলিয়া গ্রামের নুরুল আমীনের ছেলে এবং উপজেলা ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় শামীমের বাবা ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ১৭ অক্টোবর পিটিশনটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেন।

মামলায় ঝিনাইদহের সাবেক পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া তৎকালীন কালীগঞ্জ থানার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা, সাবেক জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে মামলার বিবরণে জানা যায়। এজাহারে ইমরান আলমের নাম ইমরান হোসেন হিসেবেও উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, শামীমকে তুলে নেওয়ার পর প্রায় ২০ দিন পুলিশ ক্যাম্পে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারকে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া ও তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো জানা যায়নি।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শামীমকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন সময়ে কালীগঞ্জ থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ইমরান আলমের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কালীগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে কোটচাঁদপুর থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি বরগুনায় কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে বদলি হয়ে গত ১০ অক্টোবর মহেশপুর থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন।

নাম প্রত্যাহারের দাবি ও আইনজীবীর বক্তব্য

মামলায় নিজের নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মহেশপুর থানার ওসি ইমরান আলম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি মামলার পাঁচ নম্বর আসামি। তবে বাদী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা করে তাঁরসহ আওয়ামী লীগের সাতজনের নাম প্রত্যাহার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ওসি আরও জানান, মামলাটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং পিবিআই দ্রুত চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে তিনি মনে করেন।

তবে মামলার আইনজীবী ইসমাইল হোসাইন বলেন, শুধু হলফনামার মাধ্যমে আসামির নাম প্রত্যাহারের আইনগত ভিত্তি নেই। মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা আসামির নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি ইমরান আলম বলেন, “আপনার যা ইচ্ছে মত লেখেন। তা না হলে আমার থানায় আসেন আলাপ করি।”

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, মহেশপুর থানার বর্তমান ওসি হত্যা মামলার আসামি কি না, তা এই মুহূর্তে তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে তিনি জানান।

এদিকে, একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে নাম থাকা অবস্থায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মামলায় নাম থাকা মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।