ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা তুহিন চৌধুরী নামে-বেনামে গড়েছেন কোটি টাকার বিপুল সম্পদের পাহাড় কমলনগরে মা ইলিশ শিকারের দায়ে ৭ জেলের কারাদণ্ড, নৌকা জব্দ ১১টি নওগাঁয় বৃদ্ধা হালিমা হত্যা: ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫, উদ্ধার রশি ও ওড়না ১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, লাগবে লাইসেন্সও মোদির বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদে বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন, উচ্ছেদের নির্দেশ বাবা-মাকে মারধরের পর এবার বিধবা নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ, বহিষ্কার যুবদল নেতা সোহেল চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সময় হাতেনাতে আটক বান্দরবান পুলিশের কনস্টেবলসহ ৫ জন ফ্রান্সে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত; নিখোঁজ নেভিগেটর ডিআইজির বাড়িতে অপকর্মের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ: শফিকুর রহমান যশোরে ৪ কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আলাউদ্দীন আটক

পূজায় গিয়ে নৌকাডুবি, স্ত্রী-মেয়েকে হারিয়ে বাবার আহাজারি

দুর্গাপূজার আনন্দ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয়েছে পিরোজপুরের নেছারাবাদের শংকর বেপারীর পরিবারে। পূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে কালীগঙ্গা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় আট বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে অদ্রিতাকে হারিয়েছেন তিনি। মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হলেও তিন দিন ধরে স্ত্রী রিনা বেপারীর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় শোক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বামী শংকরের।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত দুর্ঘটনার তিন দিন পার হলেও রিনা বেপারীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ার ফাইটার মো. পারভেজ।

এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় কালীগঙ্গা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত যাত্রী ও ভারী মোটরসাইকেল বোঝাই একটি ট্রলার ডুবে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা দর্শন শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ট্রলারে বাড়ি ফিরছিলেন শংকর বেপারী। ট্রলারটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ৫০ জনের বেশি যাত্রী এবং ছয় থেকে আটটি ভারী মোটরসাইকেল তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত বোঝার কারণে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়। এ সময় অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে পারলেও রিনা ও তাঁর মেয়ে নিখোঁজ হন।

মেয়েকে হারিয়ে আহাজারি করতে করতে শংকর বেপারী বলেন, ‘ঘটনার আগের রাতেও মেয়ে আমার সঙ্গে ঘুমিয়েছে। আজ সে শুধু স্মৃতি। আমি কীভাবে রাতগুলো পার করব? নৌকাডুবির পর পরিবারের কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। হাসপাতালসহ আশপাশের নদীতে খুঁজেছি। সবাই তীরে উঠলেও ওরা নিখোঁজ রয়ে যায়। এখন মেয়ে মারা গেছে, ওর মাও হয়তো বেঁচে নেই।’

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রথম দফায় অভিযান চালিয়ে কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে বরিশাল থেকে ডুবুরি দল এসে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায়। এ সময় নিখোঁজ শিশু অদ্রিতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাঁর মা রিনা বেপারীর সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ রিনা বেপারী নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী শংকর বেপারী ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কর্মরত। দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। পূজা দেখতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন স্ত্রীর অপেক্ষায় রয়েছেন শংকর।

দুর্ঘটনাস্থল ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান। উদ্ধার অভিযানে পিরোজপুর জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক রায়হানুল আশরাফ ও নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক সোয়াইব হোসেন মুন্সি উপস্থিত রয়েছেন। পাশাপাশি নাজিরপুর ও নেছারাবাদ থানা-পুলিশের যৌথ দল ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছে।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিক আহমেদ জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তীব্র পানির স্রোতের মধ্যেও দুই দফায় অভিযান চালিয়ে শিশু অদ্রিতার মরদেহ উদ্ধার করেছে। ডুবুরি দল উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল শ্রীরামকাঠী ও নেছারাবাদের ভরতকাঠী খেয়াঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো. গোলাম রাব্বানী ও পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা তুহিন চৌধুরী নামে-বেনামে গড়েছেন কোটি টাকার বিপুল সম্পদের পাহাড়

পূজায় গিয়ে নৌকাডুবি, স্ত্রী-মেয়েকে হারিয়ে বাবার আহাজারি

আপডেট সময় ০১:৫১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজার আনন্দ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয়েছে পিরোজপুরের নেছারাবাদের শংকর বেপারীর পরিবারে। পূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে কালীগঙ্গা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় আট বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে অদ্রিতাকে হারিয়েছেন তিনি। মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হলেও তিন দিন ধরে স্ত্রী রিনা বেপারীর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় শোক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বামী শংকরের।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত দুর্ঘটনার তিন দিন পার হলেও রিনা বেপারীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ার ফাইটার মো. পারভেজ।

এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় কালীগঙ্গা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত যাত্রী ও ভারী মোটরসাইকেল বোঝাই একটি ট্রলার ডুবে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা দর্শন শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ট্রলারে বাড়ি ফিরছিলেন শংকর বেপারী। ট্রলারটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ৫০ জনের বেশি যাত্রী এবং ছয় থেকে আটটি ভারী মোটরসাইকেল তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত বোঝার কারণে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়। এ সময় অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে পারলেও রিনা ও তাঁর মেয়ে নিখোঁজ হন।

মেয়েকে হারিয়ে আহাজারি করতে করতে শংকর বেপারী বলেন, ‘ঘটনার আগের রাতেও মেয়ে আমার সঙ্গে ঘুমিয়েছে। আজ সে শুধু স্মৃতি। আমি কীভাবে রাতগুলো পার করব? নৌকাডুবির পর পরিবারের কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। হাসপাতালসহ আশপাশের নদীতে খুঁজেছি। সবাই তীরে উঠলেও ওরা নিখোঁজ রয়ে যায়। এখন মেয়ে মারা গেছে, ওর মাও হয়তো বেঁচে নেই।’

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রথম দফায় অভিযান চালিয়ে কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে বরিশাল থেকে ডুবুরি দল এসে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায়। এ সময় নিখোঁজ শিশু অদ্রিতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাঁর মা রিনা বেপারীর সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ রিনা বেপারী নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী শংকর বেপারী ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কর্মরত। দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। পূজা দেখতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন স্ত্রীর অপেক্ষায় রয়েছেন শংকর।

দুর্ঘটনাস্থল ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান। উদ্ধার অভিযানে পিরোজপুর জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক রায়হানুল আশরাফ ও নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক সোয়াইব হোসেন মুন্সি উপস্থিত রয়েছেন। পাশাপাশি নাজিরপুর ও নেছারাবাদ থানা-পুলিশের যৌথ দল ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছে।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিক আহমেদ জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তীব্র পানির স্রোতের মধ্যেও দুই দফায় অভিযান চালিয়ে শিশু অদ্রিতার মরদেহ উদ্ধার করেছে। ডুবুরি দল উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল শ্রীরামকাঠী ও নেছারাবাদের ভরতকাঠী খেয়াঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো. গোলাম রাব্বানী ও পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।