ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘একটা হাসপাতাল যতটুকু ক্লিন থাকা প্রয়োজন, ততটুকু ক্লিন না’-কুমিল্লায় কৃষিমন্ত্রী দুই বিমানবন্দর থেকে সোয়া ৩ কোটি টাকার সোনা, মদ ও নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান ক্লাস পার্টি: সময় বদলায়, স্মৃতি থেকে যায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ চিফ হুইপের বড়লেখা-জুড়ীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিজিবি অধিনায়ক ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী ভোল পাল্টে অপরাধের বিশাল সাম্রাজ্য আড়ালের চেষ্টা দিলীপ কুমার আগরওয়ালের তাড়াইলে প্রস্তাবিত মিনি স্টেডিয়ামের জায়গা নির্ধারণ, সাইনবোর্ড টাঙাল উপজেলা প্রশাসন কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতকের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর

বান্দরবান-চট্টগ্রামে ভুয়া টিপিতে কাঠ পাচার, বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ

সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাঠ কেটে পাচারে সহযোগিতা ও লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে বান্দরবান ও চট্টগ্রামের একাধিক বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বান্দরবান বন বিভাগের সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী সাইফুলের নেতৃত্বে অবৈধভাবে আহরিত কাঠ দুটি ট্রাকে বোঝাই করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, যাচাই ছাড়াই ট্রানজিট পাস (টিপি) দেওয়া হয় এবং পরে ঘুষের বিনিময়ে ট্রাকগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়। অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ৭ অক্টোবর মহিউদ্দিন ও কায়সার নামের দুই ব্যবসায়ী পিরোজপুর-ট ১১-০১৮৬ এবং চট্ট মেট্রো-ট ১২-০৬৭৯ নম্বরের দুটি ট্রাকে কাঠ বোঝাই করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কাঠের জাত ও পরিমাপ যাচাই না করেই রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী সাইফুল লোডিং চেক ও বৈধতার ছাড়পত্র দিয়ে টিপি প্রদান করেন। বিষয়টি গোপন সূত্রে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো এবং চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাসের মোহাম্মদ মহাসিনকে জানিয়ে ট্রাক দুটি আটকের অনুরোধ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ডিএফও ট্রাক আটকের নির্দেশ দিলেও রাত ১টা পর্যন্ত লোকদেখানো দায়িত্ব পালন করা হয় এবং ট্রাকমালিকদের সঙ্গে গোপন সমঝোতা হয়। ফৌজদারহাট ও ধূমঘাট চেক স্টেশনের দুই স্টেশন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম ও শামীম রেজাকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি চক্র ২ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ভোর ৩টার দিকে ট্রাক দুটি ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে বলে অভিযোগ।

একই প্রক্রিয়ায় ১২ অক্টোবর সোহেল কেরানির মালিকানাধীন চট্ট মেট্রো-ট ১১-০৫৩৮ নম্বরের আরেকটি ট্রাকে (টিপি নং ০৩/০০৩৫৩৭, তারিখ ১১/১০/২০২৬) কাঠ বোঝাই করে ঢাকার পথে রওনা দেওয়া হয়। সোর্সের মাধ্যমে আবার সিএফ ও ডিএফওকে জানানো হয়। এবার ডিএফও ফৌজদারহাট স্টেশন কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে ট্রাক আটকের নির্দেশ দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ট্রাক আটক করলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ধূমঘাট স্টেশন কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী সাইফুলের সঙ্গে যোগসাজশে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে রাতে কাঠের বৈধতা যাচাইয়ের নাটক সাজান। সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার কথা বলে আরও ১ লাখ টাকা নেওয়া হয়। ফলে মোট ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ট্রাকটি ঢাকায় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মিডিয়া ধামাচাপা দেওয়ার কথা বলে স্টেশন কর্মকর্তা কাজী সাইফুলের কাছ থেকে আরও ১ লাখ টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএফও আবু নাসের মোহাম্মদ মহাসিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে তিনি আর যোগাযোগ করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফরেস্টার দাবি করেছেন, ঘুষের টাকার ভাগ ডিএফও নিজেও নিয়েছেন। এ দাবির স্বাধীন যাচাই হয়নি এবং ডিএফওর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কাজী সাইফুল, আশরাফুল আলম, শামীম রেজা, বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘একটা হাসপাতাল যতটুকু ক্লিন থাকা প্রয়োজন, ততটুকু ক্লিন না’-কুমিল্লায় কৃষিমন্ত্রী

বান্দরবান-চট্টগ্রামে ভুয়া টিপিতে কাঠ পাচার, বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাঠ কেটে পাচারে সহযোগিতা ও লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে বান্দরবান ও চট্টগ্রামের একাধিক বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বান্দরবান বন বিভাগের সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী সাইফুলের নেতৃত্বে অবৈধভাবে আহরিত কাঠ দুটি ট্রাকে বোঝাই করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, যাচাই ছাড়াই ট্রানজিট পাস (টিপি) দেওয়া হয় এবং পরে ঘুষের বিনিময়ে ট্রাকগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়। অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ৭ অক্টোবর মহিউদ্দিন ও কায়সার নামের দুই ব্যবসায়ী পিরোজপুর-ট ১১-০১৮৬ এবং চট্ট মেট্রো-ট ১২-০৬৭৯ নম্বরের দুটি ট্রাকে কাঠ বোঝাই করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কাঠের জাত ও পরিমাপ যাচাই না করেই রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী সাইফুল লোডিং চেক ও বৈধতার ছাড়পত্র দিয়ে টিপি প্রদান করেন। বিষয়টি গোপন সূত্রে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো এবং চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাসের মোহাম্মদ মহাসিনকে জানিয়ে ট্রাক দুটি আটকের অনুরোধ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ডিএফও ট্রাক আটকের নির্দেশ দিলেও রাত ১টা পর্যন্ত লোকদেখানো দায়িত্ব পালন করা হয় এবং ট্রাকমালিকদের সঙ্গে গোপন সমঝোতা হয়। ফৌজদারহাট ও ধূমঘাট চেক স্টেশনের দুই স্টেশন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম ও শামীম রেজাকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি চক্র ২ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ভোর ৩টার দিকে ট্রাক দুটি ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে বলে অভিযোগ।

একই প্রক্রিয়ায় ১২ অক্টোবর সোহেল কেরানির মালিকানাধীন চট্ট মেট্রো-ট ১১-০৫৩৮ নম্বরের আরেকটি ট্রাকে (টিপি নং ০৩/০০৩৫৩৭, তারিখ ১১/১০/২০২৬) কাঠ বোঝাই করে ঢাকার পথে রওনা দেওয়া হয়। সোর্সের মাধ্যমে আবার সিএফ ও ডিএফওকে জানানো হয়। এবার ডিএফও ফৌজদারহাট স্টেশন কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে ট্রাক আটকের নির্দেশ দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ট্রাক আটক করলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ধূমঘাট স্টেশন কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী সাইফুলের সঙ্গে যোগসাজশে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে রাতে কাঠের বৈধতা যাচাইয়ের নাটক সাজান। সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার কথা বলে আরও ১ লাখ টাকা নেওয়া হয়। ফলে মোট ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ট্রাকটি ঢাকায় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মিডিয়া ধামাচাপা দেওয়ার কথা বলে স্টেশন কর্মকর্তা কাজী সাইফুলের কাছ থেকে আরও ১ লাখ টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএফও আবু নাসের মোহাম্মদ মহাসিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে তিনি আর যোগাযোগ করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফরেস্টার দাবি করেছেন, ঘুষের টাকার ভাগ ডিএফও নিজেও নিয়েছেন। এ দাবির স্বাধীন যাচাই হয়নি এবং ডিএফওর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কাজী সাইফুল, আশরাফুল আলম, শামীম রেজা, বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি।